ডিগ্রী ৩য় বর্ষের স্পেশাল শর্ট সাজেশন পেতে ম্যাসেজ করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
অনার্স প্রথম এবং ডিগ্রী প্রথম বর্ষের নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে!! কাজেই যাদের ৯৯% কমন রকেট স্পেশাল সাজেশন লাগবে আজই যোগাযোগ করুন।।
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের সকল বিষয় এর স্পেশাল সাজেশন রেডি আছে লাগলে ইনবক্স এ যোগাযোগ করুন।
Welcome To TopSuggestion

১৯৬২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

১৯৬২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

উত্তরঃ ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয় এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করা হয় । ১৯৬০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থাসূচক ভােটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে জেনারেল মােহাম্মদ আইযুব খান ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সরকার গঠনের লক্ষ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি সংবিধান কমিশন গঠন করেন ।

পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন ছিলেন এ কমিশনের সভাপতি । কমিশন নিজেদের প্রচারিত প্রশ্নাবলির প্রায় ছয় হাজার উত্তর পরীক্ষা করে এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রায় ৬০০ ব্যক্তির সাথে সরাসরি মত বিনিময় করে ১৯৬১ সালের ৬ মে একটি শাসনতান্ত্রিক রিপাের্ট প্রদান করেন । উক্ত রিপাের্টটি মন্ত্রিপরিষদে বিশেষভাবে আলােচিত হয় । ১৯৬১ সালের ৩১ অক্টোবর একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয় । এ কমিটি প্রায় চার মাস সময়কাল ব্যয় করে একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করে । ১৯৬১ সালের ৬ মে তা প্রেসিডেন্ট মােহাম্মদ আইয়ুব খানের নিকট পেশ করা হয় । তার ভিত্তিতে ১৯৬২ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মােহাম্মদ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার পদ্ধতি , এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা , শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার ও মৌলিক গণতন্ত্রী ব্যবস্থা সম্মিলিত পাকিস্তান প্রজাতন্ত্রের নতুন সংবিধান ঘােষণা করেন । এটাই ১৯৬২ সালের সংবিধান নামে পরিচিত । কেউ আট এটিকে আইয়ুবী সংবিধান ( Ayub Constitution ) নামেও অভিহিত করেন । এরপর এ সংবিধানের অধীনে জাতীয় গ্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে মােহাম্মদ আইযুব খান নিজের ক্ষমতা সুদৃঢ় করতে বদ্ধপিরকর হন । ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ তারিখে এ সংবিধান বাতিল ঘােষিত হয় । তখন পাকিস্তানে দ্বিতীয় বারের মত সামরিক শাসন জারি করা হয় ।


১৯৬২ সালের পাকিস্তান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ 

১. লিখিত সংবিধান ( Written Constitution ) : ১৯৬২ সালের সংবিধান একটি লিখিত সংবিধান । এটি ১৯৫৬ সালের সংবিধানের ন্যায় পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম দলিল । এ সংবিধান ১২ টি ভাগে বিভক্ত এবং ২৫০ টি ধারায় লিপিবদ্ধ । এর সাথে ৪ টি তফসিলে সংযুক্ত ছিল । 

২. ইসলামী প্রজাতন্ত্র ( Islamic Republic ): ১৯৬২ সালের সংবিধানে পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘােষণা করা হয় । কুরআন ও সুন্নাহর । পরিপন্থী কোন আইন পাশ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয় । একজন মুসলিমই পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন । 

৩. ইসলামী ব্যবস্থাঃ এ সংবিধানে ইসলামী বিধি ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরােপ করা হয়েছিল । ইসলামী জীবনধারা যাতে মুসলিম জনগণ অনুসরণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল । এ ব্যাপারে নির্দেশনা পাবার জন্য ইসলামী উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয় এবং ইসলামী গবেষণা ইনস্টিটিউট নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র ছিল । 

৪. যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থাঃ এ সংবিধান পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল । পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান , এ দু'প্রদেশের সমন্বয়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয় । জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলাে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলাে প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয় । 

৫.এককক্ষ বিশিষ্ট আইন পরিষদঃ ১৯৬২ সালের আইয়ুবী সংবিধানে কেন্দ্র ও প্রদেশের জন্য এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার প্রবর্তন করা হয় । 

৬. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারঃ এ সংবিধানে রাষ্ট্রপতি শাসিত । সরকারের প্রবর্তন করা হয় । রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসক । মন্ত্রিপরিষদ প্রেসিডেন্টের নিকট দায়ী ছিল ।

৭. দুস্পরিবর্তনীয় সংবিধানঃ ১৯৬২ সালের সংবিধান ছিল দুস্পরিবর্তনীয় । সংবিধান পরিবর্তন , পরিবর্ধন ও সংশােধনের জন্য এক বিশেষ পদ্ধতি নির্দিষ্ট ছিল । জাতীয় পরিষদের দুই - তৃতীয়াংশ সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট একমত হলে সংবিধান সংশােধিত হত । 

৮. আইন পরিষদের কেন্দ্র ঢাকাঃ এ সংবিধানে কথা ছিল ঢাকা রাজধানী এলাকা হবে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের কেন্দ্র এবং ইসলামাবাদ হবে সরকার প্রধান কেন্দ্র । 

৯. আইন প্রণয়নের মূলনীতিঃ এ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের পরিবর্তে ১৬ টি আইন প্রণয়নের মূলনীতি সংযােজন করা হয় । তবে ১৯৬৪ সালে সংবিধানের দ্বিতীয় সংশােধনী প্রস্তাবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের তালিকা সংযােজন করা হয়েছে।

১০. একটি বিষয় তালিকাঃ এ সংবিধানে একটি মাত্র বিষয় তালিকা ছিল । সংবিধানের তৃতীয় তালিকায় জাতীয় পরিষদের আওতাভুক্ত বিষয়ের বিবরণ দেয়া হয় । তালিকা বহির্ভূত অবশিষ্ট প্রাদেশিক আইন পরিষদের উপর ন্যস্ত হয় । 

১১. মৌলিক গণতন্ত্রঃ এ সংবিধানে মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থাকে শাসন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় । মৌলিক গণতন্ত্রীদের দ্বারা নির্বাচকমণ্ডলী ( Electoral college ) গঠন করে জাতীয় পরিষদ , প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও প্রেসিডেন্টের পরােক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় । এ ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন স্তরে সার্বজনীন ভােটাধিকারের ব্যবস্থা করা হয় । 

১২. নীতি নির্ধারক মূলনীতিঃ এ সংবিধানে ২১ টি নীতি নির্ধারক মূলনীতি ছিল । মূলনীতি গুলাে ছিল রাষ্ট্রীয় কার্যাবলী সম্পাদনের আদর্শ স্বরূপ।


১৩. বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রীকরণঃ এ সংবিধানে বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল । বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয় । 

১৪. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের অনুপস্থিতিঃ ১৯৬২ সালের এ সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন উপেক্ষিত হয় । 

১৫. জনমত যাচাইয়ের জন্য গণভােটের বিধানঃ ১৯৬২ সালের এ সংবিধানের উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল গণভােটের বিধান । প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পরিষদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিলে বিষয়টি গণভােটে দেয়ার বিধান ছিল । গণভােটের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পরিষদ মেনে নিতে বাধ্য থাকতেন ।

১৬. বৈষম্য দূরীকরণের ব্যবস্থাঃ ১৯৬২ সালের সংবিধানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণের ( বিশেষ করে অর্থনৈতিক বৈষম্য ) ব্যবস্থা গ্রহন করে সমতা বিধান করার নীতি স্বীকৃত হয়েছিল । 

১৭. রাজনৈতিক দলঃ এ সংবিধানে পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা সম্পর্কে অসন্তুষ্টির মনােভাব পরিলক্ষিত হয় । সংবিধানে বলা হয়েছিল যে , জাতীয় পরিষদ রাজনৈতিক দল গঠন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে । পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিষদ কতিপয় শৃঙ্খলামূলক শর্তাধীনে রাজনৈতিক দলকে আইনসম্মত উদ্দেশ্যে ' রাজনৈতিক দল আইন পাশ করে । 

১৮. পরােক্ষ নির্বাচনঃ ১৯৬২ সালের সংবিধানে পরােক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করা হয় । পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচকমন্ডলী দ্বারা নির্বাচিত হতেন ।

১৬. বৈষম্য দূরীকরণের ব্যবস্থাঃ ১৯৬২ সালের সংবিধানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণের ( বিশেষ করে অর্থনৈতিক বৈষম্য ) ব্যবস্থা গ্রহন করে সমতা বিধান করার নীতি স্বীকৃত হয়েছিল । 

১৭. রাজনৈতিক দলঃ এ সংবিধানে পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা সম্পর্কে অসন্তুষ্টির মনােভাব পরিলক্ষিত হয় । সংবিধানে বলা হয়েছিল যে , জাতীয় পরিষদ রাজনৈতিক দল গঠন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে । পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিষদ কতিপয় শৃঙ্খলামূলক শর্তাধীনে রাজনৈতিক দলকে আইনসম্মত উদ্দেশ্যে ' রাজনৈতিক দল আইন পাশ করে । 

১৮. পরােক্ষ নির্বাচনঃ ১৯৬২ সালের সংবিধানে পরােক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করা হয় । পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচকমন্ডলী দ্বারা নির্বাচিত হতেন ।



Share This

0 Response to "১৯৬২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।"

Post a Comment

Popular posts