ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন। হেল্পলাইন নম্বর: ০১৯৩৩০৮৯৬৪৯
Welcome To TopSuggestion

হাদিস কী? হাদিস কত প্রকার ও কি কি ?

হাদিস কী? হাদিস কত প্রকার ও কি কি ?


ভূমিকাঃ  হাদিস (আরবিতে الحديث) হলো মূলত ইসলাম ধর্মের শেষ বাণীবাহক হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী ও জীবনাচরণ। হাদিসের উপদেশ মুসলমানদের জীবনাচরণ ও ব্যবহারবিধির অন্যতম পথনির্দেশ। কুরআন ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ এবং হাদিসকে অনেক সময় তার ব্যাখ্যা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

আল্লামা হাফেজ সাখাবী (রহ.) বলেন-

والحديث لغة ضد القد يم واصطلا حامااضيف الى النبى ﷺ قولا له اوفعلا له اوتقرير اوصفة حتى الحركات والسكنات فى اليقظة والمنام -

হাদিস: হাদিস (আরবি: الحديث‎‎) বা আছার (আরবি: الأثر‎‎) হলো মূলত ইসলামের শেষ বাণীবাহকের বাণী ও জীবনাচরণ। আভিধানিক অর্থে হাদীস শব্দটি কাদীম তথা অবিনশ্বরের বিপরীত আর পরিভাষায় বলা হয় রাসূলুাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। চাই তার বক্তব্য হোক বা কর্ম বা অনুমোদন অথবা গুণ এমন কি ঘুমন্ত অবস্থায় বা জাগ্রত অবস্থায় তাঁর গতি ও স্থির সবই হাদীস।

বুখারী শরীফের বিশিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থ عمدة القارى এর মধ্যে হাদীস সম্বন্ধে রয়েছে:

علم الحديث هو علم يعرف به اقوال النبى ﷺ وافعاله واخواله –

অর্থ : ইলমে হাদীস এমন বিশেষ জ্ঞান যার সাহায্যে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা, কাজ ও অবস্থা জানতে পারা যায়। আর ফিক্হবিদদের নিকট হাদীস হল:

اقوال رسول الله ﷺ وافعاله –

অর্থ : হাদীস হলো আল্লাহর রাসূলের কথা ও কাজসমূহ।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক হেড মাওলানা মুফতী সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান বারকাতী (রহ.) এর মতে, হাদীস (حديث) এমন একটি বিষয় যা রাসূলুাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী, কর্ম ও নীরবতা এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবিঈনদের কথা, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে বুঝায়।[১]:

হাদীসের প্রকারভেদ: বিভিন্ন দিক থেকে হাদিসকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যেমন – মতনের দিক থেকে হাদীস ৩ প্রকার। যথাঃ-

হাদীস-ই- মারফু

হাদীস-ই- মাওকুফ

হাদীস-ই- মাকতুযে হাদীসের সনদ সরাসরি মহানবী (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে হাদিসে হাদীসে মারফু বলে।


যে হাদীসের সনদ মহানবী (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছে নাই এবং সাহাবী কিরাম (রাঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে হাদীসে মাওকুফ বলে।

যে হাদিসের সনদ তাবেঈ (রহঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে হাদীসে মাকতু বলে।


কোন কোন মুহাদ্দিসগণ এর সাথে আরেকটি প্রকার সংযুক্ত করেছেন সেটি হলো হাদীসে কুদসি।


হাদীসে কুদসীঃ যে হাদীসের ভাব ভাষা দুটিই আল্লাহ তায়ালার তবে সেটি মহানবী (সাঃ) বর্ণনা করেছেন, তাকে হাদীসে কুদসি বলে।


রাবী বাদ পড়া হিসাবে হাদীস দুই প্রকার।যথাঃ


মুত্তাছিল হাদীস

মুনকাতে হাদীস

যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা সর্বস্তরে ঠিক রয়েছে কোথাও কোন রাবী বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাছিল হাদীস বলে।


যে হাদীসের সনদের মধ্যে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে তাকে মুনকাতে হাদীস বলে।


মুনকাতে হাদীস আবার তিন প্রকারঃ


মুরসাল হাদীস

মুয়াল্লাক হাদীস

মুদাল হাদীস

যে হাদীসে শেষের দিকে রাবীর নাম বাদ পড়েছে অর্থাৎ সাহাবীদের নামই বাদ পড়েছে তাকে মুরসাল হাদীস বলে।


যে হাদীসের সনদের প্রথম দিকে রাবীর নাম বাদ পড়েছে অথার্ৎ সাহাবীর পর তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীর নাম বাদ পড়েছে তাকে মুয়াল্লাক হাদীস বলে।

যে হাদীসে দুই বা ততোধীক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে তাকে মুদাল হাদীস বলে।

বিষয়বস্তুর বিচারে হাদীসকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ-


হাদীস-ই-ক্বাওলি

হাদীস-ই- ফেইলি

হাদীস-ই- তাকরিরি

মহানবী (সাঃ), সাহাবী (রাঃ) ও তাবেঈগণের সরাসরি বক্তব্য বা বাণীকে হাদীস-ই-ক্বাওলি বলা হয়।


মহানবী (সাঃ) তাঁর সাহাবী কিরাম (রাঃ) ও তাবেঈগণের কাজকে হাদীস-ই-ফেইলি বলে।


মহানবী (সাঃ) তাঁর সাহাবী কিরাম (রাঃ) ও তাবেঈগণের মৌনসম্মতিকে হাদীস-ই-তাকরিরি বলে।


বিশুদ্ধতার বিচারে হাদীস ৩ প্রকার। এগুলো হলো –


সহীহ হাদীস

হাসান হাদীস

যঈফ হাদীস

সহীহ হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং সনদের প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীর নাম, বর্ণানাকারীর বিশ্বস্ততা, আস্তাভাজন, স্বরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর এবং কোনস্তরে তাদের সংখ্যা একজন হয়নি তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান হাদীসঃ যে হাদীসে সহীহ হাদীসের সব গুনই রয়েছে, তবে তাদের স্বরণ শক্তির যদি কিছুটা দুর্বলতা প্রমাণিত হয়েছে, তাকে হাসান হাদীস বলে।

যঈফ হাদীসঃ হাসান, সহীহ হাদীসের গুন সমুহ যে হাদীসে পাওয়া না যায় তাকে যঈফ হাদীস বলে।

সনদের ভিত্তিতে হাদীস আবার ৪ প্রকার। যথাঃ


হাদীস-ই-মুত্তাসিল

হাদীস-ই-মুনকাতেঈ

হাদীস-ই- মাউযু

হাদীস-ই-মাতবুক

এছাড়াও আরও অনেক প্রকার হাদীস রয়েছে।


হাদীসের গুরুত্ব

হাদীসের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –


কুরআনের দৃষ্টিতে হাদীসের গুরুত্বঃ পবিত্র আল কুরআনে আল্লাহ তা’আলা হাদীসের গুরুত্বের কথা বর্ণনা করেছেন এবং এর অনুকরণ ও অনুসরণকে মানুষের জন্য অপরিহার্য বলে ঘোষণা করেছেন আবার কখনো কখনো রাসূলের অনুসরণকেই আল্লাহ তা’আলার অনুসরণের জন্য যথেষ্ট বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

কুরআনের ভাষায়, “অর্থাৎ, আর রাসূল (সাঃ) তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন, তা ধারণ কর এবং তিনি যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।”


আল্লাহ তা’আলা আরও বলেছেন, “অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর আর আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যে কর্তৃত্বশীলদের।”


রাসূলের দৃষ্টিতে হাদীসের গুরুত্বঃ রাসূল (সাঃ) মানুষের হিদায়াতের জন্য কুরআনের পাশাপাশি হাদীসের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অর্থাৎ,নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষন পর্যন্ত তা তোমরা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা বিভ্রান্ত হবে না, এ দুটি হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের হাদীস।”


শরীয়তের দ্বিতীয় উৎসঃ কুরআনের পরই হাদীসের স্থান। শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে এর গুরুত্ব অতুলনীয়। এটি কুরআনের ব্যাখ্যা। কারণ এটি আল্্ল্লা পরোক্ষ বাণী।


এ সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে, “অর্থাৎ, রাসূল নিজ প্রবৃত্তি থেকে কখনো কথা বলেন না, বরং তার নিকট প্রেরিত ওহী ছাড়া ওসব আর কিছুই নয়।”


পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাঃ রাসূলের বাণী আল হাদীস হলো মূলত মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ব্যাখ্যা। যেমন – নামাজ পড়ার কথা কুরআনে বলা হলেও এর বিস্তারিত আলোচনা হাদীসের মাধ্যমেই পাওয়া যায়।


কুরআন বুঝার সহায়কঃ কুরআন বুঝার অন্যতম সহায়ক হচ্ছে হাদীস। এটি কুরআনের ব্যাখ্যা। এর মাধ্যমে কুুুরআনে বিভিন্ন নীতিকে বাস্তবে রূপায়ণ করা হয়েছ।

কুরআনের পরই হাদীসের স্থানঃ পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে এবং হাদীসে কুরআনের পরই হাদীসের স্থান নির্ধারিত হয়েছে। কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে সহায়ক হিসেবে কুরআনের পরই হাদীসের স্থান দেওয়া হয়েছে।



উপসংহার:  পরিশেষে বলা যাই যে  হাদিসের উপদেশ মুসলমানদের জীবনাচরণ ও ব্যবহারবিধির অন্যতম পথনির্দেশ। কুরআন ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ এবং হাদিসকে অনেক সময় তার ব্যাখ্যা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
Share This

0 Response to "হাদিস কী? হাদিস কত প্রকার ও কি কি ?"

Post a Comment

Popular posts