ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন। হেল্পলাইন নম্বর: ০১৯৩৩০৮৯৬৪৯
Welcome To TopSuggestion

একার্থক পরিকল্পনা ও স্থায়ী পরিকল্পনার মধ্যে পার্থক্য

একার্থক পরিকল্পনা ও স্থায়ী পরিকল্পনার মধ্যে পার্থক্য


 ভূমিকা: ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার মৌলিক কার্যাবলির মধ্যে পরিকল্পনা হচ্ছে প্রথম ও মুখ্য কাজ। এটি একটি বিশেষ ধরনের সিদ্ধান্ত যা সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত। ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ খ.অ. অষষবহ বলেন, 

 অর্থাৎ “পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতকে বন্দী করার একটি ফাঁদ”। শুধু ব্যবসা জগতেই নয়, পরিকল্পনা বিষয়টি সর্বক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ব্যবসায় জগতে, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা হচ্ছে লক্ষ্যভিত্তিক অগ্রযাত্রার পথিকৃত। এ ইউনিটে পরিকল্পনার ধারণা, বৈশিষ্ট্য, লক্ষ্য সম্পর্কিত ধারণা, লক্ষ্যের প্রকারভেদ এবং একটি উত্তম পরিকল্পনা প্রণয়নের কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এছাড়া এ ইউনিট থেকে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কেও জানতে পারবেন। তাহলে আসুন, ইউনিটটি শেষ করে আমরা পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কে জেনে নিই।

একার্থক পরিকল্পনা ও স্থায়ী পরিকল্পনার মধ্যে পার্থক্য:   প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে কার্য সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন । ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। একার্থক পরিকল্পনা একবারের জন্য প্রণয়ন করা হয় তার স্থায়ী পরিকল্পনা বার বার ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যবহার করে করা হয় অর্থাৎ এটি স্থায়ী। প্রকৃতির ঘটনা। নিচে একার্থক ও স্থায়ী পরিকল্পনা পার্থক্য তুলে ধরা হলাে:


যে পরিকল্পনা নির্দিষ্ট কোনাে উদ্দেশ্য ওজনের জন্য কেবল একবারের জন্য প্রণীত ব্যবহৃত হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে। পক্ষান্তরে যে পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী প্রকৃতির সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থাৎ । বারবার যে পরিকল্পনা ব্যবহার করা হয়ে থাকে স্থায়ী পরিকল্পনা বলে।


একার্থক পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদী এবং অস্থায়ী। এটি বিশেষ কোনাে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একবারের জন্য প্রণীত ও ব্যবহৃত হয়। এটি বারবার ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু স্থায়ী পরিকল্পনার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য হলাে এটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী। অস্বাভাবিক কোনাে পরিস্থিতি বা ঘটনার উদ্ভব না হলে এ পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয় না।


একহাত পরিকল্পনার আওতা বা সীমা খুব সীমিত। পক্ষান্তরে স্থায়ী পরিকল্পনার আওতা বা সীমা ব্যাপক।


একার্থক পরিকল্পনা একবার ব্যবহার হয় বিদায় কর্মীদের সতর্কতার সাথে তত্ত্বাবধায়ন করতে হয়। কিন্তু স্থায়ী পরিকল্পনার অধীনে কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে যাইবে তাই এক্ষেত্রে তাদের বেশি তথ্য বাতায়ন এর প্রয়ােজন হয় না।


একার্থক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সময় সুযােগ কম থাকায় নিয়ন্ত্রণ । অপেক্ষাকৃত জটিল হয়। স্থায়ী পরিকল্পনার সময় সুযােগ সুবিধা বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত সহজ হয়।


উপরিউক্ত, আলােচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে। একার্থক পরিকল্পনা ও স্থায়ী পরিকল্পনা উভয়ই পরিকল্পনার দুটি পৃথক রুপ। উভয়ই ভবিষ্যত কার্যক্রমের দিকনির্দেশনার আগাম চিত্র প্রদান করে।


উপসংহার: কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বাস্তবায়নের সফলতা নির্ভর করে। তাই সিদ্ধান্ত হতে হবে সঠিক, সময়োচিত এবং কার্যকর। নিশ্চিত পরিবেশে নৈমিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিছুটা সহজ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত পরিবেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যধিক জটিল। অসংখ্য চলক এর সঙ্গে জড়িত। সমস্যা বা সুযোগকে সঠিক সময়ে, সঠিক প্রেক্ষাপটে চিহ্নিত করতে না পারাই কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূখ্য অন্তরায়। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত সর্বদাই ভবিষ্যৎমুখী। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুপরামর্শ এবং সক্রিয় সহযোগিতা যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়নের জন্য একান্ত জরুরি। 


Share This

0 Response to "একার্থক পরিকল্পনা ও স্থায়ী পরিকল্পনার মধ্যে পার্থক্য"

Post a Comment

Popular posts