ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন। হেল্পলাইন নম্বর: ০১৯৩৩০৮৯৬৪৯
Welcome To TopSuggestion

সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা

সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা


 ভূমিকাঃ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিটি শাস্ত্রেরই নিজস্ব আলোচ্য বিষয় (ঝঁনলবপঃ সধঃঃবৎ) রয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হচ্ছে ‘সমাজ' (ঝড়পরবঃু)। সহজ কথায় যে শাস্ত্র সমাজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক অধ্যয়ন, অনুসন্ধান, পর্যালোচনা ও গবেষণা করে তাই সমাজবিজ্ঞান (ঝড়পরড়ষড়মু)। বস্তুত সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজের বিজ্ঞান । তবে সমাজ প্রত্যয়টি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। তাই সমাজবিজ্ঞানকে সরাসরি ‘সমাজের বিজ্ঞান’ বললে অস্পষ্টতা থেকে যায়। কেননা অর্থনীতি ও রাজনীতি, আইন, ইতিহাস ইত্যাদি প্রত্যয়গুলোও সমাজঘনিষ্ঠ। কিন্তু এসব প্রত্যয়কে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র শাস্ত্র বিকশিত হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান সমাজের এমন কিছু বিষয়ে অধিক মনোযোগ দেয়, যে বিষয়গুলো অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই স্বতন্ত্র সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা: সমাজবিজ্ঞান বা সমাজবিদ্যা বা সমাজতত্ত্ব মানুষের সমাজ বা দলের বৈজ্ঞানিক আলোচনা শাস্ত্র। এতে সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনের সামাজিক দিক এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সমাজ বিষয়ক গবেষণা অতীত কাল থেকেই প্রচলিত ছিল।

সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজ এবং সমাজস্থ মানুষের সামাজিক সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা। সমাজবিজ্ঞান একটি নতুন বিজ্ঞান। ১৮৩৯ সালে সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁত ‘Sociology’নামে এ শাস্ত্রের প্রবর্তন করেন। ইংরেজি Sociology  শব্দটি ল্যাটিন Socious (সমাজ) এবং গ্রিক খড়মড়ং (জ্ঞান) শব্দ থেকে উদ্ভুত। শব্দগত অথে Sociology বা সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। এখানে কয়েকজন সমাজবিজ্ঞানীর সংজ্ঞা প্রদান করা হলো: 

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ বলেছেন, সমাজবিজ্ঞান এমনই একটি বিজ্ঞান, যা সামাজিক সম্পর্ক এবং সমাজ নিয়ে এককভাবে পাঠ করে।  (“Sociology alone studies social relationships themselves and society itself”)

সমাজবিজ্ঞানী সামনার সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক প্রপঞ্চের বিজ্ঞান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। (“Sociology is the science of social phenomena”).

সমাজবিজ্ঞানী ডেভিড ড্রেসলার বলেন, সমাজবিজ্ঞান হলো মানুষের আন্তক্রিয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন।  (“Sociology is the scientific study of human interaction”).

সমাজবিজ্ঞানী ডুর্খেইম বলেন, সমাজবিজ্ঞান হলো প্রতিষ্ঠানসমূহের বিজ্ঞান। (“Sociology is the science of institutions”).

সমাজবিজ্ঞানী শেফার বলেন, সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক আচরণ এবং মানব গোষ্ঠীর প্রণালীবদ্ধ অধ্যয়ন।  (“Sociology is the systematic study of social behavior and human groups”)

সমাজবিজ্ঞানী স্মেলসার এর মতে, সমাজবিজ্ঞান হলো অভিজ্ঞতালব্ধ বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক অধ্যয়ন করে।  (“Sociology is an empirical science that studies society and social relations")

ম্যাকস ওয়েবার সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক ক্রিয়াকর্মের বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। (“Sociology is the study of social action”).

উল্লেখিত সংজ্ঞসমূহের প্রত্যেকটিই সমাজের এক একটি বিশেষ বিষয়ের উপর গুর”ত্ব আরোপ করেছে এবং প্রতিটি সংজ্ঞাই তাৎপর্যপূর্ণ। তাই সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্ক, আন্তঃক্রিয়া, প্রতিষ্ঠান, আচারআচরণ, সমাজের গঠন প্রণালী এবং পরিবর্তনশীল সমাজ কাঠামো সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ।


উপসংহার: সমাজবিজ্ঞান একটি নতুন বিজ্ঞান। ১৮৩৯ সালে সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁত ‘ঝড়পরড়ষড়মু’ নামে এ শাস্ত্রের প্রবর্তন করেন। ইংরেজি ঝড়পরড়ষড়মু শব্দটি ল্যাটিন ঝড়পরড়ঁং (সমাজ) এবং গ্রিক খড়মড়ং (জ্ঞান) শব্দ থেকে উদ্ভুত। শব্দগত অর্থে ঝড়পরড়ষড়মু বা সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান। সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি বলতে সমাজবিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্যকে বুঝায়। সমাজবিজ্ঞান সমাজস্থ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সুবিন্যস্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ। শাস্ত্র হিসেবে সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণে মনোযোগী। বস্তুনিষ্ঠতা এবং মূল্যবোধ নিরপেক্ষতা হচ্ছে সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তি।

Share This

0 Response to "সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা"

Post a Comment

Popular posts