ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন। হেল্পলাইন নম্বর: ০১৯৩৩০৮৯৬৪৯
Welcome To TopSuggestion

অধিকারের সংজ্ঞা

অধিকারের সংজ্ঞা


 ভূমিকা: পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য এ শাস্ত্রের মুখ্য আলোচনার বিষয়। নাগরিক হিসেবে মানুষ রাষ্ট্রের নিকট অনেক অধিকার দাবী করে। রাষ্ট্রও তার অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করে। অধ্যাপক লাস্কির মতে “নাগরিকের অধিকার রক্ষার দ্বারাই রাষ্ট্র পরিচিত হয়।” কিন্তু কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করলেই চলবে না। অধিকার ভোগের বিনিময়ে তাকে যথাযথভাবে নাগরিক কর্তব্য পালন করতে হবে। অন্যের সম অধিকারের প্রতি তাকে যত্নবান হতে হবে। সেজন্যই বলা হয় “অধিকার কর্তব্যের ইঙ্গিত দান করে।” সমাজের মধ্যে বাস করেই মানুষ অধিকার লাভ করে। একজনের অধিকার অন্যকে রক্ষা করতে হয়। তাই একজনের অধিকার অন্যের কর্তব্য। এ ছাড়া সামাজিক জীবনের বিকাশ সম্ভব নয়। 

অধিকারের সংজ্ঞা: সাধারণ অর্থে অধিকার বলতে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু করার ক্ষমতাকে বুঝায়। এই অর্থে অন্যকে হত্যা করাও অধিকার বলে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু পৌরনীতিতে অবাধ ও স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতাকে অধিকার বলে না। সভ্য সমাজে স্বেচ্ছাচার সম্ভব নয়। অধিকার বলতে তাই নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা বুঝায়। পৌরনীতিতে অধিকার বলতে কতকগুলি সুযোগ-সুবিধাকে বুঝায় যা ছাড়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়। অধিকার সামাজিক বিষয়। অধ্যাপক লাস্কি বলেন, “অধিকার সমাজ বহির্ভূত বা সমাজ নিরপেক্ষ নয়, এটা সমাজভিত্তিক।” এজন্যই অধিকার বলতে সীমিত ক্ষমতা বুঝায় এবং একজনের অধিকার অন্যের কর্তব্যের ইঙ্গিত দান করে। অধিকারের অর্থ মঙ্গলময় জীবন। রাষ্ট্র সামাজিক কল্যাণের পরিবেশ সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে। এরূপ পরিবেশেই ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন সম্ভব। অধ্যাপক লাস্কি অধিকারের সংজ্ঞা দিয়ে যথার্থই বলেছেন, “অধিকার সমাজ জীবনের সেই সব অবস্থা যা ব্যতীত মানুষ তার সর্বোৎকৃষ্ট সত্তার সন্ধান লাভ করতে পারে না।” টি, এইচ, গ্রীন অধিকার বলতে অনুরূপ ধারণা দিয়ে বলেন, “মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণাবলির বিকাশ সাধনের জন্য অধিকার কতকগুলো বাহ্যিক শর্ত।” সহজ কথায় অধিকার বলতে কতকগুলো অনুকূল শর্তকে বুঝায় যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য। ব্যক্তিসত্তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য স্বাধীনতার অধিকার অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত যেসব অধিকারকে স্বাধীনতার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করা হয় তার মধ্যে রয়েছে। চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে সংঘ বা সমিতি গঠন করার অধিকার, স্বাধীন পেশা বা বৃত্তি অবলম্বনের অধিকার, স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার, সভাসমাবেশে স্বাধীনভাবে যােগদান করার অধিকার এবং বিনাবিচারে গ্রেফতার বা আটক না হওয়ার অধিকার ইত্যাদি।

উপসংহার: অধিকারের আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পৌরনীতি মূলত নাগরিক, নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতিতে অধিকার বলতে সীমিত ক্ষমতা বুঝায়। অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ইচ্ছামত কাজ করাই অধিকার। কতকগুলো শর্ত ছাড়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না। এগুলোর সংরক্ষণই পৌরনীতিতে অধিকার হিসেবে গণ্য হয়। টি, এইচ, গ্রীনের ভাষায় মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণাবলির বিকাশের জন্য বাহ্যিক কতকগুলো অনুকূল শর্তই অধিকার। অধিকার কোন নিরংকুশ বিষয় নয়। একজনের অধিকার অন্যের জন্য কর্তব্য। এটি একটি গতিশীল ধারণা। সমাজের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন ও অগ্রগতির সাথে সাথে অধিকারের ধারণাও ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন ঘটে।

Share This

0 Response to "অধিকারের সংজ্ঞা"

Post a Comment

Popular posts