ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন।
Welcome To TopSuggestion

একাউন্টিং কাকে বলে

একাউন্টিং কাকে বলে

ভূমিকা: হিসাববিজ্ঞানকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ভাষা বলা হয়। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানকে একটি হাতিয়ার স্বরূপ গণ্য করা হয়। মালিক পক্ষ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে মূলধন বিনিয়োগ করেন, মুনাফা অর্জনের জন্য। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান মুনাফা অর্জন করেছে, নাকি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা জানা অপরিহার্য। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনসমূহের সঠিক হিসাব রাখা, বছর শেষে আর্থিক অবস্থা, সম্পত্তি ও মূলধনের পরিমাণ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা প্রয়োজন হয়। হিসাববিজ্ঞানের সাহায্যে এ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবেশন করা যায়। ব্যবস্থাপক কর্তৃক এ সমস্ত তথ্য সঠিক বিশ্লেষণ ও ব্যবহারের উপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সফলতা নির্ভর করে। তাই হিসাববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মৌলিক উপাদান হিসেবেও স্বীকৃত। মুনাফাভোগী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, এনজিও এবং অন্যান্য অ-মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠানে তথা ব্যক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন লিখে রাখা, আর্থিক অবস্থা, লাভ-ক্ষতি ও দেনা-পাওনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য। কম্পিউটার আবিষ্কার ও প্রয়োগের ফলে হিসাববিজ্ঞানের কলাকৌশল ও প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধিত হয়েছে। বর্তমানে হিসাববিজ্ঞানের নানাবিধ চালু হয়েছে, যা হিসাববিজ্ঞানের কাজকে আরো গতিশীল করছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহারকারী এবং বাইরের তথ্য ব্যবহারকারীগণ প্রতিষ্ঠানের তারল্যতা, স্বচ্ছলতা ও মুনাফা অর্জন ক্ষমতা যাচাই করার জন্যে কম্পিউটারাইজড হিসাববিজ্ঞানের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। 

হিসাববিজ্ঞানের মাধ্যমে আর্থিক ঘটনাসমূহ হিসাবের নির্দিষ্ট বইতে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ, শ্রেণিবদ্ধ ও বিশ্লেষণ করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা যায়।

একাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানের সংজ্ঞা: হিসাববিজ্ঞান শব্দটি ‘হিসাব’ ও ‘বিজ্ঞান’ শব্দ দুটির সম্মিলিত রূপ। আভিধানিক অর্থে হিসাব বলতে গণনা বোঝায়। পারিভাষিক অর্থে হিসাব বলতে অর্থের দ্বারা পরিমাপযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি, দায় ও আয়-ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেনের বিবরণকে বোঝায়। অন্যদিকে বিজ্ঞান বলতে কোনো বিষয়ে সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল জ্ঞানকে বোঝায়। হিসাববিজ্ঞানকে অনেকে হিসাবশাস্ত্র বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন। বস্তুত ব্যবসায়ী ও অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনসমূহ লিপিবদ্ধকরণ এবং তার ফলাফল নির্ধারণ সম্পর্কিত কর্মধারা একটি গ্রহণযোগ্য নীতি ও পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করার কলাকৌশলকে হিসাববিজ্ঞান বলে। সহজ ভাষায় বলা যায়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে লিপিবদ্ধকরণ, সংরক্ষণ, আর্থিক ফলাফল ও অবস্থা নির্ণয় এবং বিশ্লেষণ করার সুসংবদ্ধ জ্ঞানকে হিসাববিজ্ঞান বলে। এবার আসুন খ্যাতনামা হিসাববিদ ও সংস্থা হিসাববিজ্ঞানের সংজ্ঞা কীভাবে দিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা করি। 

একাউন্টিং বা হিসাবরক্ষণ হলো আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যাদি নিয়মমাফিকভাবে নথিবদ্ধ, পরিমাপ এবং প্রদান করার প্রক্রিয়া। হিসাবরক্ষণ একটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সম্পদ, সেসব সম্পদ অর্থায়নের জন্য অবলম্বনকৃত উপায় এবং সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জনকৃত ফলাফলসমূহ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। আর্থিক লেনদেনসমূহ নথিবদ্ধ করা সেই সাথে বিভিন্ন বিবরণীতে এবং বিশ্লেষণে ফলাফলসমূহ সংরক্ষণ, শ্রেণীবদ্ধ, উদ্ধার, সারসংক্ষেপ এবং উপস্থাপন করাকে হিসাবরক্ষণ বলা হয়।

A. W. Johnson  এর মতে, "Accountancy may be defined as the collection, compilation and systematic recording of business transactions of money, the preparation of financial reports, the analysis and interpretation of these reports and the use of these reports for the information and guidance of management.” লেনদেনসমূহ সংগ্রহ, সংকলন এবং ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধকরণ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যাকরণ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডকে হিসাববিজ্ঞান বলা হয়”। 

আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক এ্যাকাউন্টস হিসাববিজ্ঞান সম্পর্কে মতামত দেয় যে-"Accounting is the art of recording, classifying and summarizing in significant manner and in terms of money transactions and events which are in part at least of a financial character and interpreting the result thereof.”

অর্থাৎ “অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপযোগ্য ব্যবসায়িক লেনদেনসমূহের সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সুসংবদ্ধ লিপিবদ্ধকরণ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ ও বিশ্লেষণ এবং বিশদ ব্যাখ্যাকরণকে হিসাববিজ্ঞান বলে। এ সকল প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ ব্যবসার পরিচালকগণকে ভবিষ্যত ব্যবসায় পরিচালনা বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে থাকে।”

Prof. H. Chakrabarty বলেন,"Accounting is the science of measurement of wealth both in the static and dynamic senses and deals with recoding, classifying and summarizing financial transactions and interpretation of financial position on the basis of some accepted theories, principles, doctrines and rules according to deductive method as conditioned by programmatic and some sociological approaches within the limitations of certain convention, postulates and doctrines” অর্থাৎ “হিসাববিজ্ঞান হলো স্থির ও গতিময় রীতিতে সম্পদ পরিমাপের একটি বিজ্ঞান, যা অবরোহ পদ্ধতির প্রায়োগিক ও সামাজিক নিয়মে গৃহীত তথ্য, নীতি, মতবাদ ও নিয়মাবলির আওতায় আর্থিক লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবদ্ধকরণ, সংক্ষিপ্তকরণ ও আর্থিক অবস্থার সামগ্রিক বিচার বিশ্লেষণ করে থাকে।”

উপসংহার: অতএব, হিসাববিজ্ঞান হলো এমন একটি কলাকৌশল বিশিষ্ট সামাজিক বিজ্ঞান, যার সাহায্যে স্বীকৃত রীতিনীতি অনুসারে ব্যবসায়ী ও অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার আর্থিক লেনদেনসমূহকে প্রকৃতি ও তারিখ অনুসারে সুসংবদ্ধভাবে লিপিবদ্ধকরণ, সংরক্ষণ, শ্রেণিবদ্ধকরণ ও সংক্ষেপণ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয়-ব্যয়, লাভ-ক্ষতি, সম্পত্তি-দায় ইত্যাদির বিবরণ প্রস্তুত ও বাখ্যা করা যায় এবং ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য আগ্রহী পক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়তা করে থাকে।


Share This

0 Response to "একাউন্টিং কাকে বলে"

Post a Comment

Popular posts