Welcome To TopSuggestion

অর্থনীতি কাকে বলে

অর্থনীতি কাকে বলে


ভূমিকা: এই ইউনিটে অর্থনীতির সংজ্ঞা ও বিষয়বস্তু সহজ-সরল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেন, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অর্থনীতি বিজ্ঞান কি না এ সম্পর্কে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ আছে। এ ইউনিটে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থনীতির পরিধির ব্যাপকতা ও গুরুত্ব আপনি এ ইউনিট থেকে জানতে পারবেন। অর্থনীতি ইতিবাচক না নীতিবাচক, তা উদাহরণের সাহায্যে এই ইউনিটে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থনীতির দু’টো প্রধান শাখা ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির ধারণা, এদের মধ্যকার পার্থক্য, এদের পারস্পরিক গুরুত্ব কতখানি, তা এ ইউনিটে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এসব ছাড়াও অর্থনীতির কিছু মৌলিক সমস্যা আছে। এ ইউনিটের মাধ্যমে আপনি কিছু মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার সাথে পরিচিত হতে পারবেন। এই ইউনিটের পাঠগুলো হচ্ছে

 অর্থনীতির সংজ্ঞা: সীমাহীন অভাবের মধ্যে একটি মানবশিশু জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরপরই তার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধপত্র, শিক্ষা, আমোদ-প্রমোদের সুবিধা এবং আরো বহু জিনিস প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসবের সরবরাহ অনেক সময় পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে, মানুষের অভাব সীমাহীন। তাই মানুষ প্রকৃতিপ্রদত্ত সীমিত সম্পদ দিয়ে তার সীমাহীন অভাব পূরণের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। মানুষের এসব কার্যক্রমকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সুতরাং মানুষের যেসব অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত সম্পদ দিয়ে তার সীমাহীন অভাব মেটানোর জন্য গ্রহণ করা হয় তার আলোচনাকে অর্থনীতি বলে।

অর্থনীতির ইংরেজি ‘Economics’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ওইকোনোমিয়া’  (Oikonomia) হতে উদ্ভূত হয়েছে; যার অর্থ হচ্ছে ‘গৃহ পরিচালনা’ (Household Management)। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল অর্থনীতিকে ‘গৃহ পরিচালনার’ বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে অর্থনীতি শব্দের অর্থ আর গৃহ পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিখ্যাত পণ্ডিত কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ নামক গ্রন্থে প্রাচীনকালে অর্থনীতি চর্চার কথা স্বীকার করা হলেও বস্তুতঃ অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে আধুনিক কালের শাস্ত্র।

সভ্যতার উষালগ্ন থেকে অর্থনীতিকে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এই সংজ্ঞাগুলোকে তিন শ্রেণীতে

ভাগ করা যায়। যেমন: : (i) সম্পদের বিজ্ঞান, (ii)  কল্যাণের বিজ্ঞান, (ii) অপ্রাচুর্যের বিজ্ঞান। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে

অ্যাডাম স্মিথ, ডেভিড রিকার্ডো, জন স্টুয়ার্ট মিল প্রমুখ ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতিকে সম্পদের বিজ্ঞান (Science of Wealth) বলে অভিহিত করেন। অর্থনীতির দ্বিতীয় সংজ্ঞার প্রধান প্রবক্তা হলেন আলফ্রেড মার্শাল, যাঁকে আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা হয়। এছাড়াও ফিশার, পিগু, ডেভেনপোর্ট, ক্যানন, অ্যারো প্রমুখ। নিউ ক্লাসিকেল অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতিকে কল্যাণের বিজ্ঞান (Science of Welfare) বলে অভিহিত করেছেন। পক্ষান্তরে, এল রবিন্স হলেন তৃতীয় সংজ্ঞার প্রধান প্রবক্তা। রবিন্স প্রদত্ত সংজ্ঞাটি সবচাইতে বিজ্ঞানসম্মত। এর কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এর গ্রহণযোগ্যতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধ্যাপক এল রবিন্স, ক্রেয়ারন্ক্রস প্রমুখ অর্থনীতিবিদগণ অর্থনীতিকে ‘অপ্রাচুর্যের বিজ্ঞান’ (Science of Scarcity) বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাডাম স্মিথের সংজ্ঞা Definition of Adam Smith ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ এবং তাঁর অনুসারী ক্লাসিক্যাল

অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতিকে সম্পদের বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। 'An Inquirg into the Nature and Causes of the Wealth of Nations' নামক গ্রন্থে বলেছেন, অর্থনীতি হচ্ছে এমন এক বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের প্রকৃতি এবং তার কারণ অনুসন্ধান করে। সম্পদ কীভাবে উৎপাদিত হয় এবং তা কীভাবে মানুষের উপকারে লাগে তাই ছিল তার আলোচ্য বিষয়। অ্যাডাম স্মিথের সংজ্ঞাটি সম্পূর্ণভাবে ভুল নয়। অর্থনৈতিক আলোচনায় সম্পদ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু অর্থনীতি মানুষের আচরণ নিয়েও আলোচনা করে।

উপসংহার: ব্যাবসায়ের সমস্যা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় চিন্তা করার কার্যকরী রাস্তা নির্দেশ করে ব্যবস্থাপকীয় অর্থনীতি, যা অর্থনীতি, গণিত এবং পরিসংখ্যানের যুক্তিসমূহ ব্যবহার করে; ব্যবস্থাপকীয় অর্থনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে কীভাবে অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যাবসায়িক নীতি-নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় তা দেখানো; সনাতনী তাত্ত্বিক অর্থনৈতিক ধারণাসমূহকে প্রকৃত ব্যাবসাযিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য করে তোলার জন্য ব্যবস্থাপকীয় অর্থনীতির আশ্রয় নিতে হয়; ব্যবস্থাপকীয় অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এমনই যে এর বিষয়বস্তু কেবল ব্যষ্টিক অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অপরদিকে অর্থনীতি বলতে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক উভয় প্রকার অর্থনীতিকেই বোঝায়।


Share This

0 Response to "অর্থনীতি কাকে বলে"

Post a Comment

Popular posts