ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন। হেল্পলাইন নম্বর: ০১৯৩৩০৮৯৬৪৯
Welcome To TopSuggestion

মৌলিক গণতন্ত্র কি

মৌলিক গণতন্ত্র কি


ভূমিকা: জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসনের সূত্রপাত করলেও তিনি বেশিদিন তা ভোগ করতে পারেন নি। মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা গ্রহণ করে পাকিস্তানের স্বনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। একই সাথে তিনি প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বহাল রইলেন। এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে তিনি বেশ কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেন। কিন্তু তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ গণতন্ত্র ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করে, দু'অংশের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বাঙালি জাতি গড়ে তোলে দুর্বার আন্দোলন। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর শাসনকাল (১৯৫৮-৬৯) গুরুত্বপূর্ণ। আইয়ুব খান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ‘মৌলিক গণতন্ত্র' নামে তথাকথিত পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেন। প্রাদেশিক শাসনের ক্ষেত্রে বার বার শাসক পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থিতিশীল শাসনে বাধা সৃষ্টি করেন। পূর্ববাংলায় এর প্রতিক্রিয়া ঘটতে সময় লাগেনি। ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের প্রতি যে সীমাহীন বৈষম্য সৃষ্টি করে, তার বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ছিল ৬ ও ১১ দফা। সরকার সর্বাত্মক নির্যাতন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালালেও বরং এই প্রচেষ্টা বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। এবং আইয়ুবের পতনের ঘন্টা বেজে ওঠে। এই ইউনিট শেষে আপনি আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র, ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ, ৬ দফা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক নিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন সম্পর্কে বর্ণনা দিতে পারবেন। 

মৌলিক গণতন্ত্র:  জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৮ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই পাকিস্তানের শাসন কাঠামো এবং রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। তাঁর এই প্রয়াস ইতিবাচক ছিল কিনা তাতে সন্দেহ আছে। তবে অভিনব যে ছিল সে বিষয়ে কেউই দ্বিমত পোষণ করেন না। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হবার পর থেকে আইয়ুব খানের ক্ষমতায় আসার পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছরের ভেতরও পাকিস্তানে কোন সাধারণ নির্বাচন হয় নি। ফলে কখনোই জাতীয়ভিত্তিক নির্বাচনী কাঠামো নিশ্চিত হয়নি। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে পাকিস্তানে একটি নতুন ধরনের নির্বাচনী কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি ছিল মৌলিক বা বুনিয়াদী গণতন্ত্র। মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র যাতে কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট লোকের অধিকারে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার ছিল।


পাকিস্তানের রাজনীতিতে আইয়ুব খানের উত্থান বা ক্ষমতা দখল কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না | এটি ছিল অনেক চিন্তা ভাবনা এবং পরিকল্পনার ফল | যার কারণে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই আইয়ুব খান স্বীয় ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন | মৌলিক গণতন্ত্র তন্মধ্যে অন্যতম | ক্ষমতা দখলের এক বছর পর ১৯৫৯ সালের ২৬ অক্টোবর আইয়ুব খান ’মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ’ জারি করেন | এ আদেশের বলে তিনি স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরবিশিষ্ট যে পরিকল্পনা করে তার নামকরণ করা হয় মৌলিক গণতন্ত্র | এটিকে বুনিয়াদি গণতন্ত্রও বলা হয় | যার মাধ্যমেই জনগণের অংশগ্রহণে নির্বাচন পদ্ধতি বাতিল করা হয় | আসলে আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ছিল অগণতান্ত্রিক |

প্রারম্ভিক পর্যায়ে মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি পাঁচ স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে শুরু করে এ স্তরগুলো ছিল

(১) ইউনিয়ন পরিষদ (পল্লী এলাকায়) এবং শহর ও ইউনিয়ন কমিটি (পৌর এলাকায়),

(২) থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহশিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে),

(৩) জেলা পরিষদ,

(৪) বিভাগীয় পরিষদ এবং

(৫) প্রাদেশিক উন্নয়ন উপদেষ্টা পরিষদ


সারসংক্ষেপ: আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতার ভিত পোক্ত করার জন্য মৌলিক গণতন্ত্র নামক যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালু করেন সেটি দেশের জন্য স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়েছে। এবং একই সঙ্গে তাঁর পতনেরও কারণে পরিণত হয়েছে। তাঁর পরবর্তী শাসক ইয়াহিয়া খান তাই এই ব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের সরাসরি ভোটে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ব্যবস্থাও করেন।

Share This

0 Response to "মৌলিক গণতন্ত্র কি"

Post a Comment

Popular posts