করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

গ্রামীণ ও শহর সমাজসেবা বলতে কি বুঝ গ্রামীণ সমাজসেবার লক্ষ্য গ্রামীণ সমাজসেবার বৈশিষ্ট্য , গুরত্ব, কর্মসূচীসমূহ

 

গ্রামীণ ও শহর সমাজসেবা বলতে কি বুঝ গ্রামীণ সমাজসেবার লক্ষ্য গ্রামীণ সমাজসেবার বৈশিষ্ট্য , গুরত্ব, কর্মসূচীসমূহ

ভূমিকা:
বাংলাদেশ একটি গ্রাম প্রধান দেশ। এদেশে প্রায় ৮৫,৬৫০টি গ্রাম আছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৫% গ্রামে
বসবাস করে। গ্রামই হল দেশের উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। পাকিস্তান আমল থেকে গ্রামগুলো এক করুণ ও নাজুক অবস্থা
বিরাজ করছে। গ্রামের অধিকাংশ লোক চরম দারিদ্র ও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। যেমন- বেকারত্ব জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, দারিদ্রতা, ক্ষুধা, অজ্ঞতা, অপুষ্টি, স্বাস্থ্যহীনতা, কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি হাজারো সমস্যায় জর্জরিত আমাদের গ্রামাঞ্চল। বিশুদ্ধ পানীয় ও পয়ঃনিস্কাশনের অভাবে আমেয়শা, ডায়রিয়া, কলেরা, আর্সেনিক রোগ গ্রামের মানুষের নিত্যসঙ্গী বেশীর ভাগ গ্রাম বিদ্যুৎহীন । বেশির ভাগ গ্রামের লোক অপরের উপর নির্ভরশীল। মা মৃত্যু হার ও শিশু মৃত্যুহার গ্রামে অনেক বেশি। প্রতি বছর বন্যা, খরা, নদী ভাঙ্গণ, জলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় এবং জনগণের জীবন-যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। দেশের এই সমস্যাগ্রস্থ ব্যাপক জণগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যে বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্থ গ্রাম্য জনগোষ্ঠিকে টার্গেট করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ১৯৭৪ সালে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী ও কল্যাণমূখী প্রচেষ্টা গ্রহণ করে যার নাম-Rural Social Service (R.S.S) বা গ্রামীণ সমাজসেবা। গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ভূমিহীন ও বর্গাচাষী অসহায় মহিলা, বেকার যুবক ও নিরাপত্তাহীন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, বেকার ইত্যাদি শ্রেণীর পূর্নবাসন ও আত্ননির্ভরশীল করে তোলার জন্যে এই প্রকল্পটি গ্রহন করেছে। ১৯৭৪ সালে এ প্রকল্পটি ৯টি থানায় পরীক্ষামূলকভাবে গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষামূলক সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সম্প্রসারণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার ও পুর্নগঠনের ভিত্তিতে থানা গুলোকে উপজেলা উন্নীত করা হয় বিধায় তখন এর নাম পরিবর্তন করে উপজেলা সমাজসেবা রাখা হয়। এ কার্যক্রমের নাম প্রশাসনিক রদবদলের কারণে কখনো উপজেলা সমাজসেবা আবার কখনো গ্রামীণ সমাজসেবা হয়ে থাকে।

 

গ্রামীণ সমাজসেবার সংজ্ঞা: গ্রামীণ সমাজসেবা হল বহুমুখী ও সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভূমিহীন ও অসুবিধা গ্রস্তদের সংগঠিত করে,
তাদের প্রতিভা বিকাশের নেতৃত্বদান এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন করার প্রচেষ্টা চালানো
যায়। যাতে সীমিত সম্পদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানের ভিত্তিতে গ্রামীণ পশ্চাৎ পদ
জনগণের সুষম উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনের সাথে সাথে মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটে। বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা
অধিদপ্তর কর্তৃক গ্রামীণ সমাজ সেবার সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে “গ্রামীণ সমাজসেবা হচ্ছে বহুমূখী ও সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন
প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভূমিহীন ও অসুবিধাগ্রস্ত জনগোষ্ঠির সংগঠন প্রতিভা, নেতৃত্ব প্রদান এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ
ক্ষমতার বিকাশ সাধনের প্রচেষ্ঠা চালানো হয়। যাতে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সব শ্রেণীর গ্রামীণ
জনগণের সুষম উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনের সঙ্গে মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটে”।  


গ্রামীণ সমাজসেবার লক্ষ্য (Aims of Rural Social Services): গ্রামীণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে তাদের আয় দক্ষতা বৃদ্ধি করে, তাদের সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নতি বিধান ও
জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ কতগুলো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গ্রামীণ
কমাজসেবা এর যাত্রা শুরু হয়। তা হলোবিশেষ কতগুলো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জ.ঝ.ঝ এর যাত্রা শুরু হয়। যথা ঃ
১। সরকার ও জনসাধারণের যৌথ প্রচেষ্টায় ঞধৎমবঃ এৎড়ঁঢ় এ উন্নয়ন ও পুর্ণবাসনের মাধ্যমে সুষম ও সুশৃংখল গ্রামীণ
সমাজ গড়ে তোলা।

২। গ্রাম হতে শহরে স্থানান্তরিতদের সংগঠিত করে স্থানীয় সম্পদের সদ্বব্যবহারের মাধ্যম আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে
তোলা।
৩। গ্রামীণ সংগঠন তৈরি করা ও জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশ করা।
৪। ঞধৎমবঃ এৎড়ঁঢ় কে কর্মক্ষম করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রকারে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং অকৃষিভিত্তিক আয় বৃদ্ধি করা।
৫। জন্মহার রোধ করার জন্য পরিবার পরিকল্পনা চালু করা ও পরিকল্পিত পরিবার গঠনে উদ্ধুদ্ধকরা।
৬। আত্নকর্মসংস্থানের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পূর্নবাসনের ব্যবস্থা রাখা, শারিরীক প্রতিবন্ধী ও অক্ষমদের জন্য
কল্যাণমূলক ও পূর্ণবাসনমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
৭। কুটির শিল্পের প্রসার ঘটানো এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বেকারত্ব হ্রাস ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
৮। অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং নির্ভরশীল মানসিকতা পরিবর্তন স্বনির্ভর
দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং আধুনিক জ্ঞান ও ধ্যান ধারণা গ্রহনে জনগণকে উৎসাহিত করা।
৯। গ্রামীণ জনগণের বিভিন্ন প্রকার চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
১০। গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ।
১১। সরকারি ও বেসরকারি কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
১২। পল−ীর ভবঘুরে ও উশৃংখল যুবকদের নতুন প্রেরণা ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদেরকে সুশৃংখল নাগরিক হিসেবে গড়ে
তোলা।
পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর পল−ী সমাজসেবা প্রকল্পের নিচের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য
ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে -
১) দেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসরত বিশেষ করে অনগ্রসর ভূমিহীন, বিত্তহীন কৃষক, বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু-কিশোর,
বেকার বয়স্ক পুরুষ ও দরিদ্র মহিলাদেরকে সংগঠিত করে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে লাভজনক
অর্থনৈতিক কাজে দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
২) গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান উন্নয়ণের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে ঘুর্ণায়মান তহবিল প্রদান
সঞ্চয় সৃষ্টি ও অর্থকরী লাভজনক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা।
৩) গ্রামের দারিদ্রতম জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন, শিশু যত্ন হাতে খাবার স্যালাইন তৈরি
জলাবদ্ধ পায়খানার উপকারিতা বিশুদ্ধ পানি পানের উপকারিতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া।
৪) পরিবার পরিকল্পনা ও জন্ম নিয়ন্ত্রনে উদ্বুদ্বকরণ ও সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করা।
৫) গ্রামের দারিদ্র জনগোষ্ঠির তাদের পরিবার এবং জনগোষ্ঠির মধ্যে সামাজিক চেতনার বিকাশ ও সমাজ উন্নয়ন
কার্যক্রমে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা। 

গ্রামীণ সমাজসেবার বৈশিষ্ট্য:
ক) উন্নয়নের একক হিসেবে ‘গ্রাম’ কে নির্ধারণ করা।
খ) টার্গেট গ্র“প হিসাবে গ্রামীণ অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত, প্রান্তিক কৃষক ভূমিহীন চাষী, মহিলা শিশু, বৃদ্ধ ও যুবকদের
নির্ধারণ করা।
গ) স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের সাথে জনগণের ও সরকারের সহযোগিতার সমন্বয় সাধন।
ঘ) তৃণমূল পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রনয়ণের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জনগণের
অংশগ্রহন প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে।
ঙ) বহুমূখী ও সমন্বিত গ্রাম ভিত্তিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া হচ্ছে এ প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য।
চ) গ্রামীণ জনগণকে সংগঠিত করে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বোধ সৃষ্টি করা। 

গ্রামীণ সমাজসেবার গুরত্ব:
গ্রামীণ জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনসেবার গুরুত্ব নিম্নে আলোচনা করা হলো -

১) আয় ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ঃ গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠির বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ গ্রহন করে, ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে
নিজেদের সংগঠিত করে কর্মের ব্যবস্থা করতে পারে। বিশেষ করে মহিলা জনগোষ্ঠিকে উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের
মাধ্যমে পারিবারিক জীবনমান উন্নয়নে এবং আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম।
২) সঞ্চয় ও মূলধন গঠন ঃ সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তোলার জন্যে বাধ্যতামূলক সাপ্তাহিক সঞ্চয় করতে হয় ঞধৎমবঃ এৎড়ঁঢ়
কে এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির কিছুটা মূলধন গড়ে উঠে এবং তা ভবিষ্যতে আবার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ
করতে পারে। এভাবে সদস্যদের মধ্যে নিজেদের সঞ্চয়ি মনোভাব গড়ে তোলার মাধ্যমে মূলধন সৃষ্টির ক্ষেত্রে গ্রামীণ
সমাজসেবা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
৩) শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি ক্ষেত্রে: গ্রামীণ অশিক্ষিত ও নিরক্ষর জনগণের মধ্যে অক্ষর জ্ঞান প্রদান এবং দৈনন্দিন
জীবনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে
পারে।
৪) প্রাথমিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ঃ পল−ীর স্বাস্থ্যহীনতা প্রতিরোধ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূরীকরণ ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনগণকে
শিক্ষা প্রদাণের জন্যে পরিষ্কার-পরিছন্নতা অভিযান ধাত্রী প্রশিক্ষণ টিকা প্রদান ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহনের ক্ষেত্রে গ্রামীণ
সমাজসেবা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৫) শিশু যুবক ও মহিলা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঃ গ্রামীণ যুবক, মহিলা, শিশুদের সংগঠিত করে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের
মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও আত্ননির্ভরশীল নাগরিক সৃষ্টির করার ক্ষেত্রে গ্রামীণ সমাজসেবা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে
পারে। 


গ্রামীণ সমাজসেবার কর্মসূচীসমূহ: 

গ্রামীণ জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন মান উন্নত করার জন্য গ্রামীণ সমাজসেবা নিম্ন লিখিত কর্মসূচিগুলো
বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যথাÑ
১) দারিদ্র দূরীকরণ ও আত্ননির্ভরশীলতা: গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি চালূ হয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠোর দারিদ্র দূর করে
আত্ননির্ভরশীল হিসাবে গড়ে তোলার জন্য। এই জন্য গ্রামীণ সমাজসেবা ক্ষুত্র ব্যবসার মাধ্যমে আত্ননির্ভরলীতা
অর্জনের জন্য সুদবিহীন ঋণ প্রদান করে। বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধমে লক্ষ্যভূক্ত
জনগোষ্ঠিকে আত্ননির্ভরশীল করে তোলে।তাদের ঋণ আদায়ের পরিমান ৯০% । জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা করার জন্য
হাঁস-মুরগীর খামার শাকসব্জির চাষ, কৃষি শিক্ষা সমবায় সমিতি মজাপুকুর সংস্কার ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
২) স্বাস্থ্য কর্মসূচি: গ্রামীণ জনগনের সু স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্যে জ.ঝ.ঝ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছে। যেমন- টিকা
প্রদান, খাবার সেলাইন তৈরি, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান দান ইত্যাদি।
৩) শিক্ষা কর্মসূচি: জ.ঝ.ঝ বিশ্বাস করে অশিক্ষা দূর করতে পারলে গ্রামীণ জনগণের উন্নতি সাধিত হবে। এ জন্য
জ.ঝ.ঝ এর লক্ষ্য দলের ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। জ.ঝ.ঝ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
চালু করে বয়স্ক ও ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত জ.ঝ.ঝ ২৮.২৩% শিশুকে স্কুলগামী করতে সক্ষম হচ্ছে।
৪) কারিগরি প্রশিক্ষণ: এ প্রকল্পের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। সেলাই ও দর্জি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারি, বাঁশ-বেত,
বৈদ্যুতিক কার্যক্রম, পাটের কাজ, কাঠের কাজ,তাঁত ও বয়ন কাজ, হাঁসমুরগী পালন গরু মোটাজাতকরণ, কামারকুমারের কার্যক্রম শাকসব্জি চাষ, টাইপের কাজ ইলেক্টিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স কাজ, টিভি, রেডিও এবং ঘড়ি মেরামত,
বাইসাইকেল, কম্পিউটার শিক্ষা পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয় হয়ে থাকে।
৫) মাতৃ কেন্দ্র: পল−ী মাতৃ কেন্দ্রের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে
পরিচালিত মাতৃ কেন্দ্রের দুটি বিশেষ কর্মসূচি হলো-
(ক) প্রশিক্ষণ-কাম-উৎপাদন কেন্দ্র যার মাধ্যমে স্থানীয় কাঁচামাল ও উৎপাদনের চাহিদা ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
(খ) মহিলা ঋণদান কর্মসূচি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলাদের পুঁজি সমস্যা সমাধানের জন্য কিছূ নীতি মালার অধীনে ঋণ দেয়া
হয়।
৬) পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা কার্যক্রম ঃ গ্রামীণ অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যার মূলে রয়েছে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। গ্রামীণ
সমাজসেবা মাঠ কর্মীদের সাহায্যে এবং বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণ বিশেষ করে মহিলাদের উদ্ধুদ্ধ করে তোলে। সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতির ব্যবহার ও জন্ম শাসন নিয়ন্ত্রণ রাখার
উপদেশ দেয়া হয়।
৭) শিশু কেন্দ্র স্থাপন ঃ প্রতিটি উপজেলায় ৮টি করে শিশু কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। শিশু কেন্দ্র গুলোতে শিশুদের
চরিত্রবান স্বাস্থ্যবান, দায়িত্বশীল ও সুশৃংখল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা রয়েছে। উক্ত কেন্দ্রে তাদের
শারীরিক, মানসিক, সামাজিক উন্নয়ন ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনের জন্য ব্যবস্থা করা হয়।
৮) যুব কল্যাণ ঃ এ ক্ষেত্রে জ.ঝ.ঝ যুব কেন্দ্রের মাধ্যমে বেকার যুবকদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে। স্কুল বর্হিভূত
যুবক ভবঘুরে তরুণ ও বেকারদের সংঘঠিত করে তাদের আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে।
তাছাড়া তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য চিত্তবিনোদন কর্মশিবির ইত্যাদির কাজে অংশগ্রহনে সহায়তা করে
থাকে।
৯) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঃ এর আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। কাঁচা পাঁকা রাস্তা
তৈরি , সাঁকো তৈরি ইত্যাদি জ.ঝ.ঝ করে থাকে।শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৬টি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ
করা হয়। গ্রামীণ সমস্যা সম্পদ এবং সমাধান সম্পর্কে গ্রামবাসীদের সচেতন করে তোলা এর মূল লক্ষ্য।
১০) প্রতিবন্ধীদের জন্য কার্যক্রম ঃ বিকলাঙ্গ, পঙ্গু , বধির, অন্ধ, অক্ষম প্রভৃতি প্রতিবন্ধীদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের পর্নুবাসন করে থাকে।এই জন্য বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রম জ.ঝ.ঝ অধীনে প্রচলিত আছে। 


সার সংক্ষেপ: এই পাঠশেষে আপনি বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকাররে গৃহীত অন্যতম কর্মসূচি গ্রামীণ সমাজসেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি একটি গ্রামীণ উন্নয়নের বহুমূখী প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির দারিদ্র দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঋণ প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, মাতৃমঙ্গল ব্যবস্থা কেন্দ্র স্থাপন, পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা কার্যক্রম গ্রহনসহ গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠিকে সংঘঠিত করে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ সাধনের মাধ্যমে এই কর্মসুচি কাজ করে যাচ্ছে।

Share This

0 Response to "গ্রামীণ ও শহর সমাজসেবা বলতে কি বুঝ গ্রামীণ সমাজসেবার লক্ষ্য গ্রামীণ সমাজসেবার বৈশিষ্ট্য , গুরত্ব, কর্মসূচীসমূহ"

Post a Comment

Popular posts