করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

এরিস্টটলের সরকারের শ্রেণীবিভাগ

এরিস্টটলের সরকারের শ্রেণীবিভাগ

 ভূমিকা: পৌরনীতি নাগরিক ও রাষ্ট্র সংক্রান্ত বিষয়। কিন্তু সরকার ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। সরকার
বলতে সেই প্রতিষ্ঠানকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশ ও বাস্তবায়িত করে। অতীতকালে শাসন ব্যবস্থা
ছিল দায়িত্বহীন, স্বেচ্ছাচারী ও নিপীড়নমূলক। কিন্তু গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে গণতান্ত্রিক
দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থার আবির্ভাব ঘটেছে। সরকারের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে সুদূর অতীত কাল থেকে
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ চিন্তাভাবনা করেছেন। এরিস্টটলের লেখনীতে সরকারের শ্রেণিবিভাগের একটি সুস্পষ্ট
ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগ বর্তমানকালে প্রচলিত সরকারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত
করে না। তাই আজকাল বিভিন্ন ভিত্তিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করা হয় এবং প্রচলিত সরকারগুলো
হল− সংসদীয়, রাষ্ট্রপতি শাসিত, এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয়। প্রত্যেকটি সরকারের কিছু গুণ ও দোষ
রয়েছে। কোন সরকারই সব সমস্যার প্রতিকার করতে পারে না। যে দেশে যে সরকার ভাল কাজ করে
সে সরকারই ভাল সরকার। তবে গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় বিধায় এ
সরকারকে জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয়। তাই এ পদ্ধতির সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য
অধিকতর সচেষ্ট থাকে। 


এরিস্টটলের সরকারের শ্রেণিবিভাগ:
দু’টি নীতির উপর ভিত্তি করে এরিস্টটল সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেন। এগুলো হচ্ছে : (ক) শাসন
ক্ষমতায় নিয়োজিত ব্যক্তির সংখ্যা এবং (খ) সরকারের উদ্দেশ্য। সংখ্যানীতির উপর ভিত্তি করে তিনি
উলে−খ করেন যে সরকার তিন ধরনের− (১) একজনের শাসন বা রাজতন্ত্র, (২) কয়েকজনের শাসন
বা অভিজাততন্ত্র এবং (৩) বহুজনের শাসন বা পলিটি। এগুলো সরকারের স্বাভাবিক রূপ। উদ্দেশ্য
নীতির আলোকে তিনি বলেন যে, সরকারের উদ্দেশ্য জনগণের মঙ্গল সাধন করা। তা না হলে রাজতন্ত্র
স্বৈরতন্ত্রে, অভিজাততন্ত্র ধনিকতন্ত্রে এবং পলিটি গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। এগুলো সরকারের বিকৃত
রূপ। তাঁর মতে পলিটি সর্বোত্তম সরকার আর গণতন্ত্র নিকৃষ্ট ধরনের সরকার।

নিুলিখিত ছকের মাধ্যমে এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগ দেখানো হল :

১৫.১.২ এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগের ত্র“টি
এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগের নিুলিখিত ত্র“টি লক্ষ করা যায় :
(১) এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগে একজনের শাসন, কয়েকজনের শাসন ও বহুজনের শাসনের কথা বলা
হয়েছে। কিন্তু সকল ধরনের শাসন ব্যবস্থায় কয়েকজনই শাসন করে থাকে।
(২) টমাস হব্স বলেছেন যে, সরকারকে স্বাভাবিক ও বিকৃত এভাবে ভাগ করা ঠিক নয়। কোন
সরকারই নিরংকুশভাবে ভাল বা খারাপ নয়।
(৩) এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগ ব্যাপকভিত্তিক নয়। প্রচলিত সব ধরনের সরকারকে এই শ্রেণিবিভাগ
অন্তর্ভুক্ত করে না।
(৪) এরিস্টটল সরকারকে একটি একক ও অবিমিশ্র রূপে দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে সরকার একই
সাথে গণতান্ত্রিক, রাজতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয় হতে পারে।
(৫) এরিস্টটল গণতন্ত্রকে নিকৃষ্ট সরকার বলেছেন কিন্তু আজকাল গণতন্ত্রকে শ্রেষ্ঠ সরকার বলা হয়।
(৬) বর্তমান কালে মুষ্ঠিমেয় লোকের শাসনই প্রচলিত এবং তা দায়িত্বশীল বা অদায়িত্বশীল হতে
পারে।
সুতরাং আধুনিক কালে এরিস্টটলের শ্রেণিবিভাগ অচল। তবে প্রাচীন কালের প্রেক্ষাপটে সরকারের
শ্রেণিবিভাগ উলে−খ করার জন্য তিনি খ্যাত হয়ে রয়েছেন।

সার-সংক্ষেপ:
সরকার বলতে সেই প্রতিষ্ঠানকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশিত ও বাস্তবায়িত করে। আইন
বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিগণকে নিয়ে সরকার গঠিত। সরকারের
শ্রেণিবিভাগ বিষয়টি বহু প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের চিন্তাভাবনার বিষয় ছিল। এ্যারিস্টটল
উদ্দেশ্য ও শাসকের সংখ্যার ভিত্তিতে ছয় ধরনের সরকারের শ্রেণিবিভাগ উলে−খ করেছেন− (১)
রাজতন্ত্র (২) অভিজাততন্ত্র ও (৩) পলিটি। এদের তিনটি বিকৃত রূপ হল : (১) স্বৈরতন্ত্র, (২)
ধনিকতন্ত্র ও (৩) গণতন্ত্র −এই মোট ছয়টি।

Share This

0 Response to "এরিস্টটলের সরকারের শ্রেণীবিভাগ"

Post a Comment

Popular posts