করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের পটভূমি

 

১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের পটভূমি

১৯৪৭ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তানের পশ্চিম ও পূর্ব বাংলার মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, পূর্ব
বাংলাকে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে, সামারিক বাহিনীতে, বেসামরিক প্রশাসনে এবং অর্থনীতিতে ন্যায্য অধিকার
থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। মৌলিক গণতন্ত্র, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং আইয়ুব শাহীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে
১৯৬৯ সালে হরতাল, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং, ঘেরাও আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র জনতার ব্যাপক
এক গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটাই ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান নামে খ্যাত।
মৌলিক গণতন্ত্রের প্রহসন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব বাংলা সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থা, ছেষট্টির ছয় দফা
আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকা,
ছাত্রদের ১১ দফা দাবি ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল। ১১ দফা কর্মসূচিতে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ¯ায়ত্তশাসন, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভে ^ াটাধিকার, বাক-স্বাধীনতা, বৃহৎ শিল্প জাতীয়করণ, কৃষক
শ্রমিকের সুযোগ-সুবিধাবৃদ্ধি, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, জরুরি নিরাপত্তা আইন প্রত্যাহার, রাজবন্দিদের মুক্তি প্রভৃতি
দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত হয়। এই ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে
শুরু হয় সারাদেশে গণ-আন্দোলন। বিরোধী দলগুলো দেশব্যাপী তীব অ্র ান্দোলন শুরু করে। ডাকসরু
সহসভাপতি ও ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে দেশের ছাত্রসমাজ ১১ দফা কর্মসূচি নিয়ে গণআন্দোলনে শরিক হয়। আইয়ুব খানের পদত্যাগ, ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল, এক ব্যক্তি এক ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার প্রভৃতি দাবিতে দেশব্যাপী পচণ্ড্র আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আন্দোলনের ভয়ে ভীতি হয়ে আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করেন এবং শেখ মুজিবসহ সকল
রাজবান্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করেন। বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের পর ২৩ ফেব“্র য়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার
রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যোন) এক বিশাল ছাত্র-জনতার সভায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাঙালিদের
নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভষিূ ত করা হয়। এদিকে দেশের রাজনৈতিক শাসনতান্ত্রিক
অচলাবস্থা দূর করার লক্ষে সরকার ১৯৬৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের গোলটেবিল বৈঠক
ডাকেন। উক্ত বৈঠকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।
ক. প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।
খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হবে এবং
গ. মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এ তিনটি বিষয়ে সকলেই একমত হন। কিন্তু ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি না মানায় আওয়ামী
লীগ গোলটেবিল বৈঠক বর্জন করে এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
ঘটে। পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ১৯৬৯ সালের ২৫ মাচ আইয়র্  ুব খান সেনাবাহিনীর প্রধান
জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে রাজনীতি থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। 


সারসংক্ষেপ:
পাকিস্তান সষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের ৃ উপর শুরু হয় শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতন। পশ্চিমা
শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৮-এর ১১ দফা আন্দোলনের পথ
ধরে ১৯৬৯ এ গণ-অভ্যুৎত্থান রূপলাভ করে। এ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়েই স্বৈরাচারি সামরিক সরকারের পতন
এবং ১৯৭০ এর নির্বাচন অনুষ্ঠানে পথ প্রশস্ত হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের উপর ভিত্তি করে স্বাধীনতা যুদ্ধের
মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

Share This

0 Response to "১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের পটভূমি"

Post a Comment

Popular posts