ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ দর্শন ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন।
Welcome To TopSuggestion

মরণশীলতার কারণ

 মরনশীলতার বিভিন্ন পরিমাপকে বিশ্বধারা এবং জন্মলগ্নে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের বিশ্বব্যাপী বিভিন্নতা
থেকে অনুধাবন করা যায় যে পরিণত বয়সে অসুখ-বিসুখে মৃত্যু অর্থাৎ স্বাভাবিক মৃত্যু ছাড়াও অনেক
মানুষ পরিণত বয়সের পূর্বেই মারা যান। একে অকাল মৃত্যু বলা হয়। বিশ্বে অস্বাভাবিক বা অকাল
মৃত্যুর প্রধান কারণগুলি এখন সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।


হৃদযন্ত্র এবং কিডনী সংক্রান্ত জটিলতা: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় দেশসমূহের মোট
মৃত্যুর ৫০ শতাংশ হৃদযন্ত্র এবং কিডনী ও মূত্রাশয় সংক্রান্ত রোগের কারণে ঘটে থাকে। এই কারণদ্বয়
ভূ-মধ্যসাগরীয় ইউরোপ, জাপান, চীনে ৩০ শতাংশ এবং বিকাশশীল দেশসমূহে ১০ শতাংশ মৃত্যুর
জন্য দায়ী। এই হার গত ৫০ বৎসরে বিশেষ কোন পরিবর্তন ঘটে নাই বরং যুক্তরাষ্ট্রে এই হারের
ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

 

ক্যান্সার : 

ক্যান্সার যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের মোট মৃত্যুর ১৭
শতাংশ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসমূহ, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং জার্মানীর ২০ শতাংশ ঘটে থাকে।
তবে উন্নতর রোগ চিহ্নিতকরণ এবং চিকিৎসার সুযোগ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ক্যান্সারের ফলে মৃত্যুর হার
কিছুটা নিম্নগামী হয়েছে।


বহুমূত্র : 

যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপে বহুমূত্র রোগ মোট মৃত্যুর ২ শতাংশ ঘটিয়ে থাকে। পাশ্চাত্যের
অন্যান্য দেশে ১ থেকে ২ শতাংশ মৃত্যু এই কারণে ঘটে। বিকাশশীল দেশে মোট মৃত্যুর ১ শতাংশেরও
কম বহুমূত্র জনিত। গত প্রায় ৫০ বৎসরে এই ধারা অপরিবর্তিত রয়েছে।
 

যক্ষ্মা : 

 যক্ষ্মা স্পেনে মোট মৃত্যুর ৩ শতাংশ, পর্তুগালে ৪ শতাংশ এবং বিকাশশীল দেশে ৫ থেকে ৬
শতাংশ ঘটিয়ে থাকে। আফ্রিকায় এই হার অপেক্ষাকৃত উচ্চ। তবে, সাম্প্রতিক দশকে উন্নতর চিকিৎসা
ব্যবস্থার কারণে যক্ষ্মাজনিত মৃত্যু হার অতি দ্রুত কমছে।


যকৃত প্রদাহ : 

যকৃত প্রদাহ ফ্রান্সের ৭ম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানী, পর্তুগাল, ইটালী এবং রাশিয়ায় ৯ম,
যুক্তরাষ্ট্র ১০ম এবং বিকাশশীল দেশসমূহে ২০ তম প্রধান মৃত্যুর কারণরূপে চিহ্নিত। মদ উৎপাদন ও
মাদকাসক্তির সাথে এই মৃত্যু ধারার সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে, বিশেষ করে রাশিয়ায় ও পশ্চিম
ইউরোপে যকৃত প্রদাহ জনিত মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।


আত্মহনন: 

পশ্চিমা বিশ্বে বস্তুবাদ নির্ভর সংস্কৃতি, কর্মস্থলে প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ এবং বিবিধ
সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে আত্মহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং সুইডেন ৬ষ্ঠ, জার্মানী ও ফিনল্যান্ড, কানাডা এবং বেলজিয়ামে ১০ম এবং
বিকাশশীল বিশ্বে ২২তম প্রধান মৃত্যুর কারণ হলো আত্মহত্যা। ইদানিংকালে বিশ্বে এই ধারার তেমন
কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।


দুর্ঘটনা এবং দুর্যোগ : 

বিশ্বে বিশেষ করে পাশ্চাত্যদেশে মটরগাড়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা মৃত্যুর ৪র্থ
প্রধান কারণ। এই ধরনের দুর্ঘটনা বিকাশশীল বিশ্বে কম। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত দুর্ঘটনায় বিশেষ
করে বিকাশশীল দেশে হঠাৎ প্রচুর মৃত্যু ঘটে থাকে। এই মৃত্যু প্রধানত: বন্যা, নদীভাঙ্গন, ঘূর্নিঝড় ও
উপকূলীয় ঝড়, ভূমিকম্প ইত্যাদি কারণে ঘটে থাকে। আর্দ্র নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই ধরনের প্রাকৃতিক
দূর্ঘটনার প্রবণতা বেশী।
১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণি ঝড়ের ফল ৫০,০০০ লোকের মৃত্যু
ঘটে। ১৯৮৫ সালের মে মাসে অনুরূপ দুর্যোগে ১৫,০০০ লোক প্রাণ হারায়। ১৯৯২ সালের উপকূলীয়
ঝড়ে প্রায় ১০,০০০ লোক মারা যায়।
 

দূষণ

অধুনা বিশ্বে বিশেষত: পরিবেশ দূষণের দীর্ঘ মেয়াদী প্রতিক্রিয়া একাধিক রোগাক্রান্ততার কারণ।
দূষণ জনিত কারণে উপরে বর্নিত ক,খ এবং ঘ রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হয়।
তেজষ্ক্রীয় বিকিরণজনিত কারণে রাশিয়া চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে নানাবিধ শারীরিক ও স্নায়ুবিক
রোগের বৃদ্ধি ঘটেছে। বিকাশশীল দেশেও দূষণ জনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপরোক্ত কারণ ছাড়াও বিশেষ করে বিকাশশীল দেশে সাম্প্রতিক দশকে ম্যালিরিয়া, টাইফয়েড, সন্তান
ধারণজনিত সমস্যা (মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ) শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত রোগ, ডাইরিয়া, আমাশয় এবং দীর্ঘস্থায়ী
অপুষ্টি জনিত অবস্থা মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণ। অপরদিকে উন্নত ও বিকাশশীল উভয় বিশ্বে যুদ্ধের
কারণে প্রচুর লোক হতাহত হয়ে চলেছে। বর্তমানে আফগানিস্তান, ইরাক, কসভো, মধ্য আফ্রিকা প্রভৃতি
দেশে যুদ্ধজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিটি দেশে লক্ষ পর্যায় ছাড়িয়ে গেছে। এ সমস্ত যুদ্ধে স্থানীয়  খাদ্যাভাব ও অপুষ্টি অধিকভাবে শিশু মৃত্যুও ঘটিয়ে থাকে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ইউরোপে মৃত্যু হার প্রতি
হাজারে ৫০ ছাড়িয়ে যায় এবং মোট মৃত্যু সংখ্যা প্রায় ১১ মিলিয়নে দাঁড়ায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধে পাকিবাহিনীর হাতে ৩ মিলিয়ন লোক নিহত হয়।
এতদসত্ত্বেও বেশ কিছু নতুন রোগ, যেমন, এইডস্ বিশ্ব মরণশীলতার বর্তমান ধারাকে ব্যাপকভাবে
প্রভাবিত করেছে।

 

 

Share This

0 Response to "মরণশীলতার কারণ"

Post a Comment

Popular posts