ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ দর্শন ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন।
Welcome To TopSuggestion

গৃহ রােকেয়া প্রবন্ধ সাখাওয়াত হােসেন

hsc  গৃহ রােকেয়া প্রবন্ধ সাখাওয়াত হােসেন

 লেখক - পরিচিতি :

রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন ১৮৮০ সালের ৯ ই ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম জহিরউদ্দীন আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা চৌধুরী । তাঁর প্রকৃত নাম রােকেয়া খাতুন এবং বৈবাহিক সূত্রে নাম রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন । রােকেয়ার পিতা বহু ভাষায় সুপণ্ডিত হলেও মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল ।

বড়ভাই - বােনের সাহচর্যে রােকেয়া বাংলা ও ইংরেজি ভাষা ভালােভাবেই রপ্ত করেন এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন । ১৮৯৮ সালে উর্দুভাষী ও বিপত্নীক সৈয়দ সাখাওয়াত হােসেনের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তাঁর জ্ঞানার্জনের পথ অধিকতর সুগম হয় । বিরূপ সমালােচনা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার মুখেও তিনি কখনই নারীশিক্ষার লক্ষ্য থেকে সরে আসেন নি ; বরং পর্দাপ্রথা ও শিক্ষাবিমুখ মুসলমান মেয়েদের শিক্ষার আলােয় আলােকিত করার জন্য বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ছাত্রী সংগ্রহ করেছেন । রােকেয়া বাংলা গদ্যের বিশিষ্ট শিল্পী । সমাজের কুসংস্কার ও জড়তা দূর করার জন্য তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী গদ্য রচনা করেন । তাঁর সব রচনাই সমাজ জীবনের গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত । ' মতিচুর ’ ও ‘ অবরােধবাসিনী তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ গদ্যগ্রন্থ । এছাড়া সুলতানার স্বপ্ন ও ‘ পদ্মরাগ ' নামে দুটি উপন্যাসও তিনি রচনা করেন । ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ই ডিসেম্বর এই মহীয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে । 

 

 গৃহ বলিলে একটা আরাম বিরামের শান্তিনিকেতন বুঝায়- যেখানে দিবাশেষে গৃহী কর্মক্লান্ত শ্রান্ত অবস্থায় ফিরিয়া আসিয়া বিশ্রাম করিতে পারে । গৃহ গৃহীকে রৌদ্র বৃষ্টি হিম হইতে রক্ষা করে । পশু পক্ষীদেরও গৃহ আছে । তাহারাও স্ব স্ব গৃহে আপনাকে নিরাপদ মনে করে । পিপাসা না থাকিলে জল যেমন উপাদেয় বােধ হয় না , সম্ভবত সেইরূপ গৃহ ছাড়িয়া কতকদিন বিদেশে না থাকিলে গৃহসুখ মিষ্টি বােধ হয় না । পুরুষেরা যদিও সর্বদা বিদেশে যায় না , তবু সমস্ত দিন বাহিরে সংসারক্ষেত্রে থাকিয়া অপরাহ্নে গৃহে ফিরিয়া আসিবার জন্য উত্সক হয়- বাড়ি আসিলে যেন হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচে । এখন আমাদের গৃহ সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলিতে চাই । আমাদের সামাজিক অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে দেখি , অধিকাংশ ভারত নারী গৃহসুখে বঞ্চিতা । যাহারা অপরের অধীনে থাকে , অভিভাবকদের বাটীকে আপন ভবন মনে করিতে যাহাদের অধিকার নাই , গৃহ তাহাদের নিকট কারাগার তুল্য বােধ হয় । পারিবারিক জীবনে যে সুখী নহে , সে নিজেকে পরিবারের একজন গণ্য বলিয়া মনে করিতে সাহসী নহে , তাহার নিকট গৃহ শান্তিনিকেতন বােধ হইতে পারে না । কুমারী , সধবা , বিধবা- সকল শ্রেণির অবলার অবস্থাই শােচনীয় । প্রমাণ স্বরূপ কয়েকটি অন্তঃপুরের একটু একটু নমুনা দিতেছি । এরূপে অন্তঃপুরের পর্দা উঠাইয়া ভিতরের দৃশ্য দেখাইলে আমার ভ্রাতৃগণ অত্যন্ত ব্যথিত হইবেন , সন্দেহ নাই । আমরা একবার ( বেহারে ) জামালপুরের নিকটবর্তী কোন শহরে বেড়াইতে গিয়াছিলাম । সেখানে আমাদের জনৈক বন্ধুর বাড়ি আছে । সে বাচীর পুরুষের সহিত আমাদের আত্মীয় পুরুষদের বন্ধুত্ব আছে বলিয়া শরাফত উকিলের বাড়ীর স্ত্রীলােদিগকে দেখিতে আমাদের আগ্রহ হয় । দেখিলাম , মহিলা কয়টি অতিশয় শান্ত শিষ্ট মিষ্টভাষিণী , যদিও কূপমণ্ডুক ! তাঁহারা আমাদের যথােচিত অভ্যর্থনা করিলেন । সেখানে শরাফতের পত্নী হসিনা ,

 

ভগ্নী জমিলা , জমিলার কন্যা ও পুত্রবধূ প্রভৃতি উপস্থিত ছিলেন । অতঃপর জমিলাকে যখন আমাদের বাসায় যাইতে অনুরােধ করিলাম , তখন তিনি বলিলেন যে তাঁহারা কোন কালে বাড়ির বাহির হন না , ইহাই তাহাদের বংশগৌরব । কখনও ঘােড়ার গাড়ি বা অন্য কোন যানবাহনে আরােহণ করেন নাই । আমি সবিস্ময়ে বলিলাম , “ তবে আপনারা বিবাহ করিয়া শ্বশুরবাড়ি যান কিরূপে ? আপনার ভ্রাতৃবধূ আসিলেন কি করিয়া ? ” জমিলা উত্তর দিলেন , " ইনি আমাদের আত্মীয় - কন্যা- এ পাড়ায় কেবল আমাদেরই গােষ্ঠীর বাড়ি পাশাপাশি দেখিবে । " এই বলিয়া তিনি আমাকে অন্য একটা ঘরে লইয়া গিয়া বলিলেন , “ এই আমার কন্যার বাড়ি ; এখন আমার বাড়ি চল । ” তিনি আমাকে একটা অপ্রশস্ত গলির ভিতর দিয়া ঘুরাইয়া ফিরাইয়া লইয়া গেলেন । তাঁহার সকলগুলি কক্ষ দেখাইলেন । কক্ষগুলি “ অসূৰ্য্যম্পশ্য " বলিয়া বােধ হইল । অতঃপর একটি দ্বার খুলিলে দেখিলাম অপরদিকে হসিনার পুত্রবধূ আছে ! - জমিলা বলিলেন , “ দেখিলে এই দ্বারের ওপার্শ্বে আমার ভাইয়ের বাড়ি , এপার্শে আমার বাড়ি । ও কক্ষে বধূ থাকেন বলিয়া এ দ্বারটি বন্ধ রাখি । আমাদের সওয়ারির দরকার হয় না কেন , তাহা এখন বুঝিলে ? " ঐরূপে সকল বাড়িই প্রদক্ষিণ করা যায় । পাঠিকা কি মনে করেন যে হসিনা বা জমিলা গৃহে আছেন ? অবশ্য না ; কেবল চারি প্রাচীরের ভিতর থাকিলেই গৃহে থাকা হয় না । এদেশে বাসরঘরকে “ কোবর " বলে , কিন্তু ‘ কবর " বলা উচিত !! বাড়িখানা ত শরাফতের , সেখানে যেমন এক পাল ছাগল আছে , হংস কুকুট আছে , সেইরূপ একদল স্ত্রীলােকও আছেন ! অথবা স্ত্রীলােকদের ' ' বন্দিনী " বলা যাইতে পারে ! সাধারণত পরিবারের প্রধান পুরুষটি মনে করেন গৃহখানা কেবল “ আমার বাটী " - পরিবারস্থ অন্যান্য লােকেরা তাঁহার আশ্রিতা । মালদহে কয়েকবার আমা এক বাটীতে যাতায়াত করিয়াছি । গৃহস্বামী কলিমের স্ত্রীকে আমরা কখনও প্রফুল্লমুখী দেখি নাই । তাহার প্লান মুখখানি নীরবে আমাদের আন্তরিক সহানুভূতি আকর্ষণ করিত । ইহার কারণ এই কয় বত্সর অতীত হইল , কলিম স্বীয় ভায়রা ভাইয়ের সহিত বিবাদ করিয়াছেন ; তাহার ফলে কলিমের পত্নী স্বীয় ভগ্নীর সহিত দেখা করিতে পান না ! তিনি এতটুকু ক্ষমতা প্রকাশ করিয়া বলিতে পারেন না , “ আমার ভগ্নী আমার নিকট অবশ্য আসিবেন । " হায় ! বাটী যে কলিমের ! তিনি যাহাকে ইচ্ছা আসিতে দিবেন , যাহাকে ইচ্ছা আসিতে দিবেন না । আবার ওদিকে ও বাটীখানা সলিমের ! সেখানে কলিমের পত্নীর প্রবেশ নিষেধ ! বলা বাহুল্য কলিমের স্ত্রীর অন্ন , বস্ত্র বা অলংকারের অভাব নাই । বলি , অলংকার কি পিতৃমাতৃহীনা অবলার একমাত্র ভগ্নীর বিচ্ছেদ - যন্ত্রণা ভুলাইতে পারে ? শুনিলাম , তিনি সপত্নী - কন্টক হইতেও বিমুক্ত নহে ! এরূপ অবস্থায় তাঁহার নিকট গৃহ কি শান্তিনিকেতন বলিয়া বােধ হয় ? আমরা রমাসুন্দরীকে অনেকদিন হইতে জানি । তিনি বিধবা ; সন্তান সন্ততিও নাই । তাঁহার স্বামীর প্রভূত সম্পত্তি আছে , দুই চারিটি পাকা বাড়িও আছে । তাঁহার দেবর এখন সে সকল সম্পত্তির অধীশ্বর । দেবরটি কিন্তু রমাকে একমুঠা অন্ন এবং আশ্রয়দানেও কুষ্ঠিত । আমরা বলিলাম , “ ইনি হয়ত দেবর - পত্নীর সহিত কোদল করেন । ” এ কথার উত্তরে একজন বলিলেন , “ রমা সব করিতে জানে , কেবল কোদল জানে না । রমা বেশ জানে , কি করিয়া পরকে আপন করিতে হয় ; কেবল আপনাকে পর করিতে জানে না । ” এত গুণ সত্ত্বেও দেবরের বাড়ি থাকিতে পান না কেন ? " 


কপালের দোষ । " আমরা একটি রাজবাড়ি দেখিতে গিয়াছিলাম । বাড়িখানি কবি - বর্ণিত অমরাবতীর ন্যায় মনােহর । বৈঠকখানা বিবিধ মূল্যবান সাজসজ্জায় ঝলমল করিতেছে ; এদিকে সেদিকে ৫/৭ খানা রজত - আসন শূন্য হৃদয়ে রাজাকে আহ্বান করিতেছে ! রাণীর ঘর কয়খানাতেও টেবিল , টিপাই , চেয়ার ইত্যাদি সাজসজ্জা আছে । কিন্তু তাহার উপর ধূলার স্তর পড়িয়াছে । রাজা কোন কালে এসব কক্ষে পদার্পণ করেন বলিয়া বােধ হইল না । রাণীকে দেখিয়া আমি হতাশ হইলাম । কারণ বৈঠকখানা দেখিয়া আমি রাণীর যেরূপ মূর্তি কল্পনা করিয়াছিলাম , এ মূর্তি তাহার সম্পূর্ণ বিপরীত । তিনি পরমা সুন্দরী বালিকা- পরিধানে সামান্য লালপেড়ে বিলাতি ধুতি ; মাথায় রুক্ষ কেশের জটা অনুমান পনের দিন হইতে তৈলের সহিত চুলগুলির সাক্ষাৎ হয় নাই , মুখখানি এমনই করুণ ভাবে পূর্ণ যে রাণীকে মূর্তিমতী “ বিষাদ " বলিলে অত্যুক্তি হয় না । অনেকের মতে চক্ষু মনের দর্পণ স্বরূপ । রাণীর নয়ন দু'টিতে কি কি হৃদয়বিদারক ভাব ছিল , তাহা আমি বর্ণনা করিতে অক্ষম । আমাদের একটি বর্ষীয়সী সঙ্গিনী বলিলেন , “ তুমি রাজার রাণী , তােমার এ বেশ কেন ? এস আমি চুল বেঁধে দিই । ” রাণী উত্তর দিলেন , “ জানি না কি পাপে রাণী হয়েছি ! ” ঠিক কথা ! অথচ লােকে এই রাণীর পদ কেমন বাঞ্ছনীয় বােধ করে ! “ মহম্মদীয় আইন অনুসারে আমরা পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হই- “ আমাদের বাড়ি " ও হয় । কিন্তু তাহা হইলে কি হয় , - বাড়ির প্রকৃত কর্তা স্বামী , পুত্র , জামাতা , দেবর ইত্যাদি হন । তাঁহাদের অভাবে বড় আমলা বা নায়েবটি বাড়ির মালিক ! গৃহকত্রীটি ঐ নায়েবের ক্রীড়াপুতুল মাত্র । নায়েব কীকে যাহা বুঝায় , অবােধ নিরক্ষর কী তাহাই বুঝেন । ঐরূপ আরও কত উদাহরণ দেওয়া যাইতে পারে । খদিজা প্রভূত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী , তাঁহার স্বামী হাশেম দরিদ্র কিন্তু কুলীন বিদ্বান । হাশেম ছলে কৌশলে সমস্ত জমিজমা আত্মসাৎ করিয়া লইলেন ; খদিজার হাতে এক পয়সা নাই । খদিজার পৈত্রিক বাড়িতে বসিয়াই হাশেম আর দুই তিনটা বিবাহ ( ? ) করিয়া তাহাকে সতিনী জ্বালায় দগ্ধ করিতে লাগিলেন ! এরূপ না করিলে আর ক্ষমতাশালী পুরুষের বাহাদুরি কি ? ইহাতে যদি খদিজা সামান্য বিরক্তি প্রকাশ করেন , তবে প্রবীণা মহিলাগণ তাঁহার হৃদয়ে স্বামীভক্তির অভাব দেখিয়া নিন্দা করেন । আমার এই প্রবন্ধ পাঠ করিয়া ভ্রাতা ভগ্নীগণ হয়ত মনে করিবেন যে আমি কেবল ভ্রাতৃবৃন্দকে নরাকারে পিশাচরূপে অঙ্কিত করিবার জন্যই কলম ধরিয়াছি । তাহা নয় । আমি ত কোথাও ভ্রাতাদের প্রতি কটু শব্দ ব্যবহার করি নাই- কাহাকেও পাপিষ্ঠ , পিশাচ , নিষ্ঠুর বলিয়াছি কি ? কেবল রমণীহৃদয়ের ক্ষত দেখাইয়াছি । ঐ যে কথায় বলে , “ বলিতে আপন দুঃখ পরনিন্দা হয় " , এক্ষেত্রে তাহাই হইয়াছে- ভগ্নীর দুঃখ বর্ণনা করিতে ভ্রাতৃনিন্দা হইয়া পড়িয়াছে । সুখের বিষয় আমাদের অনেক ভ্রাতা এরূপ আছেন , যাঁহারা স্ত্রীলােকদিগকে যথেষ্ট শান্তিতে গৃহসুখে রাখেন । কিন্তু দুঃখের সহিত আমরা ইহাও বলিতে বাধ্য যে অনেক ভ্রাতা আপন আপন বাটীতে অন্যায় স্বামীত্বের পরিচয় দিয়া থাকেন ।


যখন আমাদের চালের উপর খড় থাকে না , দরিদ্রের জীর্ণতম কুটিরের শেষ চালখানা ঝঞানিলে উড়িয়া যায় , টুপটাপ বৃষ্টিধারায় আমরা সমস্ত রাত্রি ভিজিতে থাকি , - চপলা - চমকে নয়নে ধাঁধা লাগে , - বজ্রনাদে মেদিনী কাঁপে , এবং আমাদের বুক কাঁপে- প্রতি মুহূর্তে ভাবি , বুঝি বজ্রপাতে মারা যাই- তখনও আমরা অভিভাবকের বাটীতেই থাকি ! যখন আমরা রাজকন্যা , রাজবধূরূপে প্রাসাদে থাকি , তখনও প্রভু - গৃহে থাকি । আবার যখন ঐ প্রাসাদতুল্য ত্রিতল অট্টালিকা ভূমিকম্পে চূর্ণ হয় , - সােপান অতিক্রম করিয়া অবতরণ কালে আমাদের মাথা ভাঙ্গে , হাত পা ভাঙ্গে রক্তাক্ত কলেবরে হতজ্ঞান প্রায় অবস্থায় গােশালায় গিয়া আশ্রয় লই , - তখনও অভিভাবকদের বাটীতে থাকি !! অথবা গৃহস্থের বৌ - ঝি রূপে প্রকাণ্ড আটচালায় বাস করিলেও প্রভুর আলয়ে থাকি ; আর যখন চৈত্র মাসে ঘাের অমানিশীথে প্রভুর বাটীতে দুটুলোেক কর্তৃক লঙ্কাকাণ্ডের অভিনয় হয় , সব জিনিসপত্রসহ ঘরগুলি দাউদাউ করিয়া জ্বলিতে থাকে , আমরা একসনে প্রাণটি হাতে করিয়া কোনমতে দৌড়াইয়া গিয়া দূরস্থিত একটা কুলগাছতলে দাঁড়াইয়া কাপিতে থাকি , তখনও অভিভাবকের বাটীতে থাকি !!! ইংরেজিতে ( Home ) বলিতে যাহা বুঝায় , “ গৃহ " শব্দ দ্বারা আমি তাহাই বুঝাইতে চাই । শারীরিক আরাম ও মানসিক শান্তিনিকেতন যাহা , তাহাই গৃহ । বিধবা হইলে স্বামীগৃহ একরূপ বাসের অযােগ্য হয় ; হতভাগিনী তখন পিতা , ভ্রাতার শরণাপন্ন হয় । একটা হিন্দি প্রবাদ আছে : “ ঘর কি জ্বলি বনমে গেয়ী - বনমে লাগি আগ বন বেচারা কিয়া করে , - করমে লাগি আগ ! ” অর্থাৎ “ গৃহে দগ্ধ হইয়া বনে গেলাম , বনে লাগিল আগুন ; বন বেচারা কি করিবে , ( আমার ) কপালেই লাগিয়াছে । আগুন । তাই বলি , গৃহ বলিতে আমাদেরই একটি পর্ণকুটীর নাই । প্রাণিজগতে কোন জন্তুই আমাদের মত নিরাশ্রয়া নহে । সকলেরই গৃহ আছে- নাই কেবল আমাদের ।

Share This

0 Response to " গৃহ রােকেয়া প্রবন্ধ সাখাওয়াত হােসেন"

Post a Comment

Popular posts