ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন।
Welcome To TopSuggestion

বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ কি

ভূমিকা: একটি প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় মাল-মশলা ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং লোকবল নিয়োগ করে কার্য শুরু
করলেই এর উৎপাদন প্রক্রিয়া সুচারুরূপে সম্পাদিত হবে এমনটি আশা করা যায় না। লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা
অনুযায়ী সকল কার্য সম্পাদিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করার প্রয়োজন হয়। কেননা নির্ধারিত মান অনুযায়ী
কার্যাবলি সম্পাদিত না হলে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ কাজটিই সম্পাদন
করে থাকে নিয়ন্ত্রণ। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের কার্যসমূহ


পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয় এবং কোনরূপ ব্যতিক্রম বা বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় সংশোধনের
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই নিয়ন্ত্রণ হল নিরাময়মূলক ব্যবস্থা। এটি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সর্বশেষ কাজ। কোন প্রতিষ্ঠানে
সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলে যে কোন রকমের ভুল-ভ্রান্তি চিহ্নিত করে তা নিরসন করা সম্ভব হয়। ফলে এর দ্বারা
একটি প্রতিষ্ঠান সহজেই তার কাক্সিক্ষত পথে অগ্রসর হতে পারে। এ ইউনিটে আমরা নিয়ন্ত্রণের ধারণা, বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব,
নীতিমালা, পদক্ষেপ, কৌশল ও প্রকারভেদ ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করব। তাহলে আসুন, নিচের পাঠগুলো সমাপ্ত করে
নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ (Budgetary Control) : অর্জিত ফলাফলকে বাজেটের সাথে তুলনা করে যে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেটিই বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ। বাজেট
হচ্ছে পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশ। বাজেটের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কি করা হবে বা কি উদ্দেশ্য অর্জন করা হবে তা সংখ্যায়
প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কার্য সূচারুরূপে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যভিত্তিক বাজেট প্রণীত হয়। কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজেট আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। বাজেটারী নিয়ন্ত্রণের উপর দু’জন
ব্যবস্থাপনা বিশারদের সংজ্ঞা দেওয়া হল: 

১ .G.R. Terry “কার্যফল পরীক্ষা, বাজেটের সাথে কার্যফলের তুলনামূলক বিচার, সম্পাদিত কাজের অনুমোদন এবং
কোনরূপ বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধন করে বাজেটের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করাকে বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ বলে।”
২. E.F.L. Brech “প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন লক্ষ্যের সাথে অর্জিত ফলাফল পরিমাপ ও তদনুযায়ী নির্দেশিত ব্যবস্থাপনার
ধারাবাহিক পদ্ধতিকে বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ বলে।”

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত ফলাফলকে প্রস্তুতকৃত বাজেটের সাথে তুলনা করে বিচ্যুতি নির্ণয় করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ বলে। 


সারসংক্ষেপ:  প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের কৌশল অবলম্বন করা হয়। বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ
নিয়ন্ত্রণ কৌশল হচ্ছে বাজেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ। নিয়ন্ত্রণের আর একটি কৌশল হচ্ছে কার্য নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা যা
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে স্বাধীনভাবে ও নিয়মিতভাবে কাজের মূল্যায়ন করে থাকে। কৌশলগুলো ছাড়াও তথ্য বিশ্লেষণ,
কম্পিউটারের ব্যবহার, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তিরস্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত স্থাপন,
স্থায়ী নিয়ম প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কার্য সম্পাদন করা হয়ে থাকে। নিয়ন্ত্রণে আদর্শ
মান প্রতিষ্ঠা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ব্যবস্থাপকগণ প্রয়োজনতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করে বাধার
সম্মুখীন হন। বাজেটের সাহায্যে একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার কার্য সম্পাদন ও নিয়ন্ত্রণ করাকে বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ বা
বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ বলে। অর্থাৎ অর্জিত ফলাফলকে বাজেটের সাথে তুলনা করে যে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়
সেটিই বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ। বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ বর্তমান যুগের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনীয় নিয়ন্ত্রণের একটি
বহুল ব্যবহৃত কৌশল।


Share This

0 Response to "বাজেটারী নিয়ন্ত্রণ কি"

Post a Comment

Popular posts