করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

আমলকির গুণাবলী উপকারীতা ও ঔষধিগুণ

পাঠ /পদ্ধতি - ১

আমলকি একটি ফল যার মধ্যে রয়েছে অনেক ভেষজ গুণ। আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও দশ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলা লেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ আছে। এই আমলকি বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


উপকারিতা:

ভিটামিন সি’যুক্ত আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। আমলকি ত্বক, চুল ও চোখ ভাল রাখার জন্য সাহায্য করে। এটি চোখের সাথে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আমলকি হজমে এর জন্য উপকারী ও স্টমাকে আসিডের ব্যালেন্স বজায় রাখে।


আমলকি লিভার ভালো রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সহায়তা করে ফলে মেন্টাল ফাংশনিং ভালো হয়। আমলকি ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে । কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। হার্ট সুস্থ রাখে, ফুসফুসকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।


শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্যে করে।  শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে কাজ করে থাকে, মাসল টোন মজবুত করে। লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখতে সাহায্য করে । জ্বর, বদহজম, সানবার্ন, সানস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে। আমলকির জুস দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । ছানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।পেটের জ্বালাভাব কম রাখে। লিভারের কার্যকলাপে সাহায্য করে, পাইলস সমস্যা কমায়। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সহায়তা করে।


 আমলকির গুঁড়ার সাথে সামান্য একটু মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার পূর্বে খেতে পারেন।  এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়া এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। অ্যাসিডিটির /বদহজমের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করে থাকে। আমলকিতে একটু লবণ, লেবুর রস মিসিয়ে রোদে রাখে সেটা শুকিয়ে যাওয়ার পর খেতে পারেন।


 আমলকি মাঝারি আকারে টুকরো করে নিয়ে ফুটনত্ম জলের মধ্যে দিয়ে নরম হলে তা নামিয়ে লবণ, আদা কুঁচি, লেবুর রস মিশিয়ে রোদে রেখে দিলে সারা বছর ভালো থাকবে।


এছাড়াও, প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগের পরে ক্ষতিগ্রস্ত প্যানক্রিয়াস (অগ্ন্যাশয়)-এর ক্ষত সারাতে আমলকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । আমলকির ফল, পাতা ও ছাল থেকে তৈরি পরীক্ষাকৃত  ওষুধে কিছু রোগ নিরাময়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে যেমন- ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, প্রদাহ এবং কিডনি-রোগ।


আমলকি মানুষের রক্তের কোলেস্টেরল-মাত্রা হ্রাস করতে পারে। আমলোকির রস রক্তের চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে ।


পদ্ধতি - ২

আমলকী  আমাদের দেহের জন্য খুবি  উপকারি ভেষজের মধ্যে  একটি। এটা প্রতিদিনই খেতে পারবেন  এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং এটা সেবনে উপকার আছে।   


১) আমলকী চুলের জন্য কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এটি  চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি চুল বাড়তে সাহায্য করে।


২) চুলের খুসকি সমস্যা দূর ও পাকা চুল দূর করতে সাহায্য করে।


৩) আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করে।


৪) এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকী গুঁড়ো ও চিনি মিশিয়ে খেলে  এ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে।


৫) হজমের জন্য আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেতে হবে। 


৬) প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে মেছতা দূর করতে সাহায্য করে।


৭) আমলকী চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ, চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ।


৮) আমলকীতে  রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।


৯) আমলকির রস খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।


১০) আমলকী মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়।


১১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।


১২) কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী উপকারি।


১৪) এটি  মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে ।


১৬) শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।


১৭) লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে ।


১৮) এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র্যাডিকালস।


১৯) সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে ।


২০) ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ   করে। কোলেস্টেরল লেভেলে কম রাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে 


২১। আমলকী  স্টমাক এ্যাসিডে ব্যালেন্স বজায় রাখে।


২২। আমলকী লিভার ভালো রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সাহায্য করে এতে করে মেন্টাল ফাংশনিং ভালো থাকে।

Share This

0 Response to " আমলকির গুণাবলী উপকারীতা ও ঔষধিগুণ"

Post a Comment

Popular posts