করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

Degree 1st year Political Science 1st Paper প্রশ্ন আইনের প্রধান উৎস প্রকাশনী লিমিটেড সমূহ কি? খ বিভাগ এর প্রশ্ন উত্তর

 প্রশ্নঃ আইনের প্রধান উৎস  প্রকাশনী লিমিটেড সমূহ কি?

অথবা, আইনের উৎসগুলাে কী কী?


উত্তরঃ ভূমিকা : রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইনের আলােচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্রের সুষ্ঠু বিকাশ ও কার্যকলাপ করার জন্য আইনের প্রয়ােজন অপরিহার্য। আইন ছাড়া সভ্য সমাজের কথা কল্পনাও করা যায় না। আইন হলো মানুষ, সমাজ তল রাষ্ট্রের বিকাশের অন্যতম নিয়মনীতি। Prof. Laski আইনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, "Law is those: rules of behavioe which secure the purpose of the society."
আইনের উৎস : ইতিহাসের দিক থেকে আলােচনা করলে আইনের বিভিন্ন উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়। বস্তুত আইন মতােই ঐতিহাসিক বিবর্তনের ফল ও বিভিন্ন উৎস প্রসূত। নিয়নে আইনের উৎসসমূহ আলােচনা করা হলাে ।
১. প্রথা : প্রথাই আইনের প্রাচীনতম উৎস। আচারব্যবহার বহুদিন ধরে প্রবর্তিত থাকলে তা প্রথায় পরিণত হয়। প্রাচীনকা আইন সাধারণত প্রথামূলকই ছিল। তৎকালীন সমাজে প্রথার সাহায্যে দ্বন্দ্ব মীমাংসার ব্যবস্থা করা হতাে। কখন এবং কাকে ৫ উদ্ভব ঘটেছিল তা অবশ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত যে, ধর্মের ভয়েই হােক বা অপরকে অনুকরণ করেই হােক কিংবা উপযােগিতার জন্যই হােক, তখন লােকে অধিকাংশ প্রথাকে মান্য করে চলত। রাজনৈতিক অর্থে প্রধানকে আইন বলে গণ্য করা না গেলেও বর্তমানে প্রথা যে প্রবর্তিত আইনসমূহের অন্যতম প্রধান উৎস সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
২ ধর্ম : মানুষের উপর ধর্মের প্রভাব অপরিসীম। প্রাচীন কাল থেকেই সমাজে প্রথার পিছনে ধর্মীয় অনুমােদন ছিল। অন্যায়, পাপপুণ্য ইত্যাদি মূল্যবােধগুলাে ধর্ম চিহ্নিত করেছে বলে প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি প্রভাব ছিল। সেকালে ধর্মীয় বিধানই রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে বিবেচিত হতাে। বর্তমান যুগেও ধর্মীয় রীতিনীতিকে আইনকুপে গ্রহন করে রাষ্ট্রীয় আইন প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলমানদের পারিবারিক আইন তাদের স্ব-স্ব ধর্মকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাই বলা যায়, ধর্ম আইনের আরেকটি অন্যতম উৎস। উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) বলেছেন যে, “আলিতে রেন আইন কতিপয় ধর্মীয় সূত্র ছাড়া আর কিছুই ছিল না। বর্তমান কালে হিন্দু ও মুসলিম আইনেও ধর্মের প্রভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।
৩. আইনসভাঃ বর্তমান যুগে রাষ্ট্রের আইনসভাই আইনের প্রধান উৎস। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের জন্য আইনপরিষদ আছে। এ আইনসভায় দেশের জনগণের স্বার্থকে লক্ষ রেখে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং আইনসভাকেই আইনের প্রধান উৎস বলা হয়।
৪. ন্যায়পরায়ণতা: বিচারক যখন কোনাে মামলার রায়ে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কিবা আইনের অভাবে ন্যায় বিধান করতে ব্যর্থ হয়ে নিজের এবং সমাজের নীতিবােধের উপর ভিত্তি করে ন্যায্য রায় প্রদান করেন, তখন তার নীতিবােধের দ্বারা প্রণীত আইন দেশের আইনের পূর্ণ মর্যাদা লাভ করে। তাই ন্যায়নীতি ও ন্যায়পরায়ণতাও আইনের একটি উৎস। স্যার হেনরি মেইন (Sir Heny Maine) বলেন, "আইনকে সমাজের ন্যায়বােধের সাথে সম্পর্কযুক্ত রাখতে হলে আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনাে পদ্ধতিতে সর্বদা আইনের সংশোধনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এটাই ন্যায়বােধ।"
৫, বিচার বিভাগীয় রায়: বিচারকালে বিচারক যদি প্রচলিত আইনের মাধ্যমে আদালতে উথাপিত মামলার নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হন, তখন তিনি স্বীয় বুদ্ধি এবং মেধার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সংগতি বিধান করে আইনের একট নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে মামলার রায় প্রদান করেন। বিচারকের এ নতুন ব্যাখ্যা অনুরূপ কোনাে মামলার ক্ষেত্রে যখন অন্যান্য বিচারকরা গ্রহণ করেন, তখন তা আইনে পরিণত হয়ে যায়। তাই দেখা যায়, বিচারকের রায়ও আইনের একটি উৎস। এজন্য গেটেল বলেছেন আইন প্রণেতা হিসেবে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়নি, উদ্ভব হয়েছিল প্রণার ব্যাখ্যাকর্তা ও প্রয়ােগকারী হিসেবে।
৬. সংবিধানঃ সংবিধান আইনের সবচেয়ে বড় উৎস। সংবিধান বিশেষ দলিল। আইনসভা ও অন্যান্য সরকারি বিভাগের ক্ষমতা সীমিত ও তাদের কার্যরীতি প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান রচনা করা হয়। সংবিধানে জনগণের অধিকারসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে। সংবিধানের বিভিন্ন ধরনের বিধানাবলি আইনসভা ও সরকারের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। সংবিধান পরিপন্থি কোনাে আদেশ নির্দেশ আইনে পরিণত হতে পারে না। তাই সংবিধান মূলত আইনের প্রধান উৎস।
৭. নির্বাহী ঘােষণা ও ডিক্রি: বর্তমানে সংসদীয় গণতন্ত্রে যদিও আইনসভাকে সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু মনে করা হয়, কিন্তু শাসন বিভাগীয় যাবতীয় ক্ষমতা মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ অবস্থায় শাসন বিভাগ বিভিন্ন বিষয়ে আদেশ, নির্দেশ জারি করে, যা আইনের উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়
৮, বৈদেশিক চুক্তি ; সাধারণত বৈদেশিক চুক্তিলোে শাসন বিভাগ দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রায় দেশেই বৈদেশিক চুক্তি ঘােষিত হওয়ার পর তা আইনসভায় গৃহীত হয়ে আইনে পরিণত হয়। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনাে বৈদেশিক চুক্তি ঘােষিত হওয়ার আগেই আইনসভায় অনুমোদন লাভ করতে হয়।
৯, আন্তর্জাতিক আইন : বর্তমানে আইনের উৎস হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনকেও ধরা হয়ে থাকে। কারণ আন্তর্জাতিক আইন সুসভা রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্ধ নির্ধারণ করে এবং রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। T. J. Lawrence বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বলতে যেসব বিধিবিধানকে বুঝায় সাধারণভাবে সুসভা রষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।”
১০. জনমত : আইনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলাে জনমত। আইনসভার সদস্যদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলাে জনমতের বাস্তব প্রতিফলন ঘটান। আর তাই যে কোনাে আইন প্রণয়নের সময় আইন পরিষদ জনমতের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখে। জনমতের দাবি অনুযায়ী নতুন নতুন আইন তৈরি করা হয়।
উপসংহার : উপযুক্ত আলােচনা শেষে বলা যায় যে, আইন হলাে একটি লিখিত বিধিবিধান, যা সকলের জন্য সমভাবে প্রযােজ্য। আইন তৈরি করার সময় ধর্ম, প্রথাগত বিধিবিধান ও একাধিক বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। তবে সকল রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন পদ্ধতির মধ্যে কিছুটা মিল থাকলেও পুরােপুরি এক নায়, রাষ্ট্র ও সরকার গঠিত হয়।
Share This

0 Response to "Degree 1st year Political Science 1st Paper প্রশ্ন আইনের প্রধান উৎস প্রকাশনী লিমিটেড সমূহ কি? খ বিভাগ এর প্রশ্ন উত্তর"

Post a Comment

Popular posts