ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ দর্শন ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন।
Welcome To TopSuggestion

প্লেটোর সাম্যবাদ এর মূল্যায়ণ সাম্যবাদের মূল্যায়ণ করার আগে আমাদের কে সাম্যবাদ সম্পর্কে জানতে হবে ।তাই সাম্যবাদ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।

 সাম্যবাদ: লাতিন শব্দ Communis থেকে Communism শব্দটির উত্পত্তি। Communis মানে এজমালি অর্থাৎ সাম্য বা সর্বজনীন। কমিউনিস্ট অর্থ সর্বজনীন। কমিউনিস্ট সমাজ হল সর্বজনীন ভূমি, সর্বজনীন কলকারখানা, সার্বজনীন শ্রম, সমান অধিকার, কর্তব্যের অধিকার এবং শ্রেণীহীন সমাজ।

এই মিলে হল সাম্যবাদ। সাম্যবাদ হল উত্পাদনের উপায়ের উপরে সামাজিক মালিকানা ভিত্তিক এক সামাজিক গঠনরূপ, যা উত্পাদনি শক্তিগুলোর বিকাশের পূর্ণ সুযোগ দেয়; তা হল মানবজাতির সামাজিক অর্থনৈতিক প্রগতির সর্বোচ্চ পর্যায় এবং পুঁজিবাদকে তা প্রতিস্থাপিত করে।সাম্যবাদ বলতে আমরা বুঝি, একজন সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রে বসবাসের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে, কেউ কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেনা ।

প্লেটোর সাম্যবাদ:প্লেটোর উদে্দশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের । তিনি তাঁর “Republic” নামক গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্রের যে রূপরেখা প্রণয়ন করেন সেখানে তার শাসন ব্যবস্থাকে সাম্যবাদী শাসন ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন ।

প্লেটোর সাম্যবাদ দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:-

১. শাসক শ্রেণির উপর প্রযোজ্য সাম্যবাদ 

২. সাধারণ শ্রেণির উপর প্রযোজ্য সাম্যবাদ, এর চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে পরিবার প্রথার বিলুপ্তি ।

শাসক শ্রেণির উপর প্রযোজ্য সাম্যবাদ :- প্লেটো তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রে শাসক শ্রেণি হিসেবে যে দার্শনিক রাজার অনুমোদন করেন তাদের উপর  প্রযোজ্য এ সাম্যবাদি ব্যবস্থায় নিম্নোক্ত বিধি আরোপিত হয় ।

১. শাসক শ্রেণির ব্যক্তিগত ধন সম্পত্তি থাকতে পারবেনা

২. ভোগ-বিলাশ থেকে শাসক শ্রেনিকে দূরে রাখতে হবে

৩. বিশেষ পোষাক পরিশ্চেদ গ্রহণ

৪. খাদ্যগ্রহণ ও বাসস্থানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ

৫. শাসকগণ বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারবেন না

সাধারণ শ্রেণির উপর প্রযোজ্য সাম্যবাদ, এর চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে পরিবার প্রথার বিলুপ্তি :-  Plato তাঁর সমাজতন্ত্রের ব্যাখ্যায় শাসক শ্রেণির জন্য পরিপূর্ণ সামাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন । আর সর্ব সাধারণের জন্য তিনি পরিবার প্রথার বিলুপ্তি এবং বৈবাহিক নিয়ম কানুনের বিষযয় এই ব্যবস্থার কিছু বিধি-নিষেধ প্রয়োগ করেন। 

১. নারী-পুরুষ অবৈধ সম্পর্কে সম্পর্কিত হতে পারবেনা । তবে বিবাহ হবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নির্দশেনায়। তারাই পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করবে।

২. অনেক ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী নির্ধারণ করা হবে

৩. সন্তানের মালিক হবে রাষ্ট্র । রাষ্ট্র বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের প্রতিপালন করবে

৪. নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা নির্দিষ্ট বয়স সীমায় সীমিত থাকবে। পুরুষের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৫০ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৪০ বছর পর‌যন্ত ।এর বাইরে তাদের কোন সন্তান হলে তাদের দায়িত্ব সরকার নেবেনা। তারা জারজ বলে বিবেচিত হবে।

প্লেটো দুর্নীতিরোধের জন্য এটা সহায়ক বলে মনে করেন।

প্লেটোর সাম্যবাদ ও আধুনিক সাম্যবাদের মধ্যে পার্থক্য

প্লেটোর সাম্যবাদের সঙ্গে আধুনিক সাম্যবাদের পার্থক্য তুলনা করলে দেখা যাবে যে, উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য অপেক্ষ বৈসাদৃশ্যই বেশী। নিম্নে উভয় সাম্যবাদের বৈসাদৃশ্য আলোচনা করা গেল-

১. প্লেটোর সাম্যবাদ অসম্পূর্ন

২. প্লেটোর সম্যবাদ শেণীভিত্তিক

৩. প্লেটোর সাম্যবাদ রাজনৈতিক প্রকৃতির

৪. প্লেটোর সাম্যবাদ শ্রেণীসঙগ্রাম বিবর্জিত

৫. প্লেটোর সাম্যবাদ অভিজাততান্ত্রিক

উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও আরও অনেক বিষয়ে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। প্লেটোর সাম্যবাদ রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চায় না কিন্তু পরিবারের বিলুপ্তি চায়, ঔতিহাসিক ভিত্তি নেই, সাম্যবাদের ব্যপ্তি, স্ত্রী সর্বায়নবাদ, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, পারিশ্রমিকের ভিত্তি, দার্শনিক ভিত্তি, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্লেটোর সম্যবাদ ও আধুনিক সর্মবাদে পার্থক্য রয়েছে।

সাম্যবাদ বা কমিউনিজম হল শ্রেণীহীন, শোষণহীন, ব্যক্তি মালিকানাহীন এমন একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবাদর্শ যেখানে ব্যক্তিগত মালিকানার স্থলে উৎপাদনের সকল মাধ্যম এবং প্রাকৃতিক সম্পদ (ভূমি, খনি, কারখানা) রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। সাম্যবাদ হল সমাজতন্ত্রের একটি উন্নত এবং অগ্রসর রূপ, তবে এদের মধ্যেকার পার্থক্য নিয়ে বহুকাল ধরে বিতর্ক চলে আসছে।

উভয়েরই মূল লক্ষ্য হল ব্যক্তিমালিকানা এবং শ্রমিক শ্রেণীর উপর শোষণের হাতিয়ার পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থার অবসান ঘটানো। কার্ল মার্ক্স যে মতাদর্শ উপস্থাপন করেছিলেন সেই মতে সাম্যবাদ হল সমাজের সেই চূড়ান্ত শিখর, যেখানে পৌঁছাতে হলে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজে আর্থনৈতিক সাম্য স্থাপন করতে হবে এবং সেই ক্রান্তিকালে উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে, সমাজে সামগ্রী ও সেবার অতিপ্রাচুর্য সৃষ্টি হবে। কোনো দেশে সাম্যবাদ থাকলে সেখনে ধনী গরীবের ব্যাবধান থাকবে না। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দ্বায়িত্ব সরকার নেবে।সাম্যবাদ হল স্বাধীন, সামাজিকভাবে সচেতন শ্রমজীবী মানুষের উঁচু মাত্রায় সুসংগঠিত সমাজ, তাতে কায়েম হবে সকলের স্বশাসন। সেই সমাজে সমাজের কল্যাণের জন্য শ্রম হয়ে উঠবে প্রত্যেকের মুখ্য অপরিহার্য প্রয়োজন এবং এই প্রয়োজন উপলব্ধি করবে প্রত্যেকেই। প্রত্যেকের সামর্থ নিয়োজিত হবে সর্বসাধারণের সর্বাধিক কল্যাণের জন্য'।

সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে তফাৎ

    ১. সমাজতন্ত্রে শ্রেণী বিলোপের সূত্রপাত ও বৈরী শ্রেণীদের বিলোপ আর সাম্যবাদে সমস্ত শ্রেণীর উচ্ছেদ ও লোপ।

    ২. সমাজতন্ত্রে কিছুটা কালযাবত্‍ বুর্জোয়া চেতনাগত অধিকারই শুধু নয়, রাষ্ট্রও টিকে থাকে। আবশ্যিকতার রাজ্য, আর সাম্যবাদে বুর্জোয়া চেতনাগত অধিকার ও রাষ্ট্র কিছুই থাকবে না। মুক্তির রাজ্য।

    ৩. সমাজতন্ত্রে প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব থাকে আর সাম্যবাদে কোনো শ্রেণীরই অস্তিত্ব থাকে না। শ্রেণীহীন সমাজ।

    ৪. সমাজতন্ত্রে বেতন ও মজুরির অনুপাত সমান থাকে এবং পরে কাগজি ভাউচার থাকে। আর সাম্যবাদে বেতন বা মজুরির অস্তিত্বই থাকে না।

    ৫. সমাজতন্ত্রে স্থায়ী সেনাবাহিনীর বদলে গণমিলিশিয়া থাকে আর সাম্যবাদে কোন বাহিনীরই অস্তিত্ব থাকবে না।

    ৬. সমাজতন্ত্রে কায়িক ও মানসিক, শিল্প ও কৃষি, দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমের ভাগ থাকে আর সাম্যবাদে ভাগ থাকে না।

    ৭. সমাজতন্ত্রে মালিকানার দুই রূপঃ সর্বজনীন ও সমবায় মূলক আর সাম্যবাদে একরূপঃ সমাজের।

    ৮. সমাজতন্ত্রে শ্রম জীবনধারণের উপায় আর সাম্যবাদে জীবনেরই প্রাথমিক প্রয়োজন শ্রম।[

মানব জীবনের ইতহাস শ্রেনী সংগ্রামের ইতিহাস। অনেক নাস্তিক মানবতাবাদীরা কমিউনিজম তথা মার্কসবাদ সম্পর্কে কিছুই জানে না কিন্তু তারা ঘোরতর কমিউনিজম বিরোধী। তাদের জন্য আজ এই লেখা। এই নোটে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র হতে হালের কমিউনিজম বা মার্কসবাদ নিয়ে আলোচনা করা হবে....

প্লেটোর ন্যায়পরায়ণতার ধারনার অপরিহার্য পরিণাম হলো সাম্যবাদ। প্লেটোর সাম্যবাদের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি হলো, সাম্যবাদ ব্যতীত প্রজ্ঞা ও প্রবৃত্তির মধ্যে সংঘাত দেখা দিবে। সম্পত্তি, পারিবারিক আর্কষন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ মানুষকে তার সমাজের প্রতি কর্তব্য থেকে বিমুখ করে তোলে। প্লেটো তার সাম্যবাদব্যবস্থায় অভিভাবক শ্রেণীর জীবন থেকে ব্যক্তিগত পরিবার ও সম্পত্তির উচ্ছেদের কথা বলেছেন। অভিভাবক শ্রেণী হলো প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারক ও বাহক। অভিভাবক শ্রেণির সাহসী অংশ রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অভিভাবক শ্রেণী থাকবে সকল প্রকার প্রবৃত্তি এবং শঙ্কা থেকে মুক্ত। তারা হবে ন্যায়ের পতাকাধারী। অভিভাবক শ্রেণীকে প্লেটো সামন্যতম স্বার্থপর হবার সুযোগ দিতে নারাজ। আর তা সুনিশ্চিত করার জন্যই তিনি এই শ্রেণীর জন্য সম্পত্তি ও পরিবার উচ্ছেদের কথা বলেছেন। সম্পত্তিবিহীন এই অভিভাবক শ্রেণীর নামই প্লেটোর সাম্যবাদ। প্লেটো সামাজিক ন্যায় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সাম্যবাদের অবতারনা করেন। রাষ্ঠ্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাম্যবাদ হলো একটি বৈষয়িক ও অর্থনৈতিক অনুসিদ্ধান্ত। প্লেটো মনে করতেন, শুধুমাত্র নৈতিক উপায়ে সমাজ ও ব্যক্তিকে সংস্কার করা যায় না। সেখানে বৈষয়িক উপায়ও প্রয়োগ করা দরকার, ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন না হলে মানুষ নিঃস্বার্থ লোভহীন হতে পারে না। প্লেটোর আদর্শ মুষ্ঠিমেয় মানুষের সুখলাভ নয়, সমগ্র জনগণের সুখই এর উদ্দেশ্য। প্লেটোর চিন্তাধারা আধুনিককালের মার্কস ও আঙ্গেলসের শ্রেণীবৈষম্য ও শ্রেণীসংগ্রামের সাথে সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ। মার্কসের মতে, প্লেটো বেঁচে থাকলে তিনি হতেন সবচেয়ে বড় সাম্যবাদী। মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে রাষ্ট্রের উদ্ভব, প্রকৃতি ও ভূমিকার সন্ধান পাওয়া যাবে শ্রেণী ও শ্রেণীসংঘর্ষের মধ্যে। রাষ্ট্র কোনো চিরন্তন প্রতিষ্ঠান নয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তিবোধ, পরস্পরবিরোধী স্বার্থসম্পন্ন শ্রেণী ও শ্রেণীসংগ্রাম সৃষ্টি হওয়ার প্রয়োজনবোধের তাগিদে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে। মার্কস সমগ্র বিষয়টিকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করেছেন। এই তত্ত্বে রাষ্ট্রকে শ্রেণীগত দ্বন্দ্বের ফল ও একটি শ্রেণীর প্রধান্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম বা যন্ত্র হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। লেলিনের মতে- রাষ্ট্র একশ্রেণীর দ্বারা অন্যশ্রেণীকে নিপীড়ন করা ও শ্রেণীশাসন প্রতিষ্ঠা করার যন্ত্র। মার্কসীয় রাষ্ট্রতত্ত্বের ভিত্তি হল দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের সূত্রের সাহায্যে বস্তুর অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব ও তার ফলে বস্তুর বিকাশের চিরকালীন ও সার্বজনীন নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও প্রকৃতি বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে মার্কস-এঙ্গেলস সমাজ বিকাশের চারটি স্তরের কথা বলেছেন। 

(১) আদিম সাম্যবাদী সমাজ।

 (২) দাস সমাজ। 

(৩) সামন্ততান্ত্রিক সমাজ। 

(৪) পূঁজিবাদী সমাজ।

আদিম সাম্যবাদী সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, তাই কোনো শ্রেণী বা শ্রেণীশোষণও ছিলো না। শোষন ছিলো না বলেই শোষনের অস্ত্র রাষ্ট্রও ছিলো না। দাসসমাজে দাসসমেত সকল উৎপাদন, উপাদান এবং উৎপন্ন সামগ্রীর মালিক ছিলো পরশ্রমভোগী দাসপ্রভুরা। দাসযুগের দাসদের নির্মম নির্যাতনের উপর নির্ভর করত রাষ্ট্রের সুখ-সমৃদ্ধি। সামজ বিকাশের এই যুগেই শ্রেণীশাসন ও শ্রেণীশোষনের সূত্রপাত হয়। এই শুরু হলো শ্রেণীশোষনের ইতিহাস। দাসব্যবস্থার পরিণতি হিসাবেই সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার সূত্রপাত হয়। এসময় দাস শোষনের ব্যবস্থা অর্ন্তহিত হলেও সামন্তপ্রভু ও ভূমিদাস নামক দুটি শ্রেণীর সৃষ্টি হয়। তবে কৃষকরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীন ছিল এবং তারা জমিতে স্বত্ব পেয়েছিল। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের বিরাট অংশ খাজনা আকারে সামন্ত প্রভুকে দিতে হত। এই সময় শ্রেণী সংগ্রামের তীব্রতা ও ব্যপকতা বৃদ্ধি পায়। এরপর আসে ধনতান্ত্রিক সমাজ। এসময় বূর্জোয়া শ্রেণী পূঁজির মালিক হয়। আর শ্রমজীবি সর্বহারা শ্রেণী কলকারখানায় উৎপাদন করে। উৎপাদিত সকল প্রকার উপাদান থেকে শ্রমিকশ্রেণী বঞ্চিত থাকে। মালিকশ্রেণী শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখে। আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় পেঁটোয়া বাহিনী গড়ে তোলা হয়। রাষ্ট্রব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হলেও সেই গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বুর্জোয়াশ্রেণী। শোষক ও শোষিত শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যে শ্রেণীসংগ্রাম ক্রমশ তীব্রতর হয় এবং একসময় বিপ্লবের মাধ্যমে ধনতন্ত্রের পতন ও সামজতন্ত্রের আর্বিভাব হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা এই সময় সর্বহারাশ্রেণীর হাতে থাকে। এই পর্যায়ে উৎপাদনের উপাদানগুলোর উপর সামাজিক মালিকান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরশ্রমভোগী শোষকশ্রেণী না থাকায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারনার বিলুপ্তি ঘটে। সর্বপ্রকার শোষনের অবলুপ্তি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য।

Share This

0 Response to "প্লেটোর সাম্যবাদ এর মূল্যায়ণ সাম্যবাদের মূল্যায়ণ করার আগে আমাদের কে সাম্যবাদ সম্পর্কে জানতে হবে ।তাই সাম্যবাদ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।"

Post a Comment

Popular posts