ডিগ্রী ২য় বর্ষ ২০২১ দর্শন ৪র্থ পত্র স্পেশাল শর্ট সাজেশন রেডি আছে নিতে চাইলে ম্যাসেজ করুন।
Welcome To TopSuggestion

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কি বুঝ

 

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কি বুঝ

ভূমিকা:

ভারতবর্ষের জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অভিপ্রায়ে এবং তাদেরকে অপেক্ষাকৃত উত্তমরূপে শাসন করবার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন পাস করেছে।

এ সমস্তআইন ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক ক্রমবিকাশের ইতিহাসের অগ্রগতিকে বহুদূরে এগিয়ে নিয়ে যায়। ১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এবং সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য স্তম্ভবা ফলক। কারণ এই আইনের মধ্যে দিয়েই প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থার জন্ম হয়। যদিও এ ব্যবস্থা ছিল পরোক্ষ পদ্ধতির। অচিরেই এই আইনের ক্রটিগুলো ধরা পড়ে। এরপর ১৮৯২ সালে কাউন্সিল আইন পাস হয়। তবে ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো সংস্কারের ফলে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের নীতি প্রবর্তন করা হয়। ১৯০৯ সালের আইন অনুসারে প্রাদেশিক আইন পরিষদগুলোতে নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এই সব আইন পরিষদগুলো গভর্নর ও গভর্নর জেনারেলের উপদেষ্টা কমিটি হিসাবেই কাজ করত। এদের আইন প্রণয়নের প্রকৃত কোন ক্ষমতা ছিল না। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন পাস করে ভারতবর্ষে পর্যায়ক্রমে দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু ভারতের সব রাজনৈতিক দলই একে অসম্পূর্ণ, অসন্তোষজনক ও নৈরাজ্যকর বলে ঘোষণা করে। ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ঘোষণা করেন। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। বস্তুত ভারতীয় জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ, রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ এবং ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের ব্যর্থতার ফলশ্রুতি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। বলা bযায় এ আইন পরবর্তীকালে ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের মূলভিত্তি রচনা করে। অবসান ঘটে ব্রিটিশ শাসনের। স্বাধীনতা লাভ করে ভারত ও পাকিস্তান নামের রাষ্ট্র। সুতরাং এদিক থেকে বিবোচনা করলে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন এবং ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ‘ভারত শাসন আইন ও রাজনৈতিক ক্রমবিকাশ (১৯১৯-১৯৩৭)’ শীর্ষক ইউনিটের বিষয়কে আমরা দুটি ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা করব।


প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন:

প্রাদেশিক সায়ত্তশাসন বলতে বোঝায় কোন রাষ্ট্রের প্রদেশের নিজস্ব আইন, সংবিধান ও নিয়ম এর অপর চলার ক্ষমতা। এ পদ্ধতিতে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ব্যতীত প্রায় সকল ক্ষেত্রে প্রদেশসমূহ নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। বিনিময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট বাৎসরিক অর্থ প্রদান করা হয়।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। স্বায়ত্তশাসন বলতে বুঝায় ‘ স্বায়ত্তশাসন’। শব্দগত অর্থে তাই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে বুঝায় প্রদেশের নিজস্ব শাসন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কথাটির অর্থ আরও ব্যাপক। সংবিধানের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে প্রাদেশিক সরকার পরিচালনার ক্ষমতাকেই তারা প্রাদশিক স্বায়ত্তশাসন বলে অভিহিত করেছেন। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় সরকারের সব ক্ষমতা সংবিধানের মাধ্যমে সংবিধানিক নিয়মানুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার একে অপরের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত ও স্বাধীন থেকে নিজ নিজ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে। এটিই যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণত প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং অর্থ এ তিনটি বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। 


প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ধারণা তিনটি নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছেÑযেমন :

১। আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রদেশগুলো কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকবে এবং সেই সাথে প্রাদেশিক আইন সভা প্রাদেশিক সরকারেরও নিয়ন্ত্রণমুক্ত হবে। অর্থাৎ সংবিধানে প্রদেশের জন্য যে বিষয়গুলো নিদিষ্ট করে দেওয়া হবে সেগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক সরকারের উপর কোনরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

২। প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। প্রাদেশিক আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন সভার কাছে দায়ী থাকবে।

৩। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রদেশগুলোকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। জাতীয় সম্পদ ও রাজস্ব বন্টনের ক্ষেত্রে এমন নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে যেন কোন প্রদেশকে আর্থিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃতি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করা হয়। প্রস্তাবিত এ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই আইনে শাসন সংক্রান্ত

বিষয়গুলোকে কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও যুগ্মতালিকায় ভাগ করা হয়। প্রাদেশিক বিষয়গুলোর পরিচালনার ভার প্রাদেশিক সরকারের উপর অর্পিত হয়। একই সঙ্গে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশে যে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল তা বাতিল করে দেওয়া হয়। গভর্নর ও মন্ত্রিসভা গঠিত হয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদেরকে নিয়ে। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে আইনসভার নিকট দায়ী করা হয়। এভাবেই ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে তত্ত্বগতভাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।


সারকথা:

১৯৩৫ সালের ভারতশাসন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তনের কথা ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করলেও এই ব্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ কাজ। ফলে ১৯৩৫ সালের আইন বাস্তব প্রয়োগে ব্রিটিশ সরকার ব্যর্থ হয়। অবশ্য একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ব্রিটিশ সরকার ভারতবাসীর রাজনৈতিক দাবি , জাতীয়তাবাদের উন্মেষ এবং ক্রমবর্ধমান অধিকার ও সচেতনতার চাপে বাধ্য হয়ে ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের জন্য ক্রমাগতই উন্নততর ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৮৬১, ১৮৯২, ১৯০৯, ১৯১৯ সলের ভারত আইন অপেক্ষা ১৯৩৫ সালের আইনের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্যই এর উদাহরণ। তথাপি এর ত্রুটি, অবাস্তব কাঠামো, ক্ষমতা বণ্টন প্রভৃতি নীতিগুলোর কারণে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

Share This

0 Response to "প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কি বুঝ"

Post a Comment

Popular posts