করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

তত্ত্বাবধান কাকে বলে, তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ?

 

ভূমিকা: প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান উভয়ই সুষ্ঠুভাবে কার্য সম্পাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান ক্রিয়াকলাপে শৈথিল্যের কারণে প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অরাজকতা, অব্যবস্থা ও গতিহীনতা দেখা যাচ্ছে।

এই স্থবিরতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে, অফিস আদালতে এমনকি জাতীয় ও সামাজিক জীবনের অপরাপর ক্ষেত্রেও দারুণভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। কিন্তু সকল প্রকার জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ড− যেমন কৃষি, স্বাস্থ্য, সমবায়, সমাজসেবা, পূর্ত, শিল্প-বাণিজ্য, জীবন বীমা, জনসম্পদ রপ্তানী ইত্যাদি ক্ষেত্রে আজ প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে পরিগণিত। সে কারণে প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা আনয়নের জন্য তত্ত্বাবধান কর্মকে আরও গতিশীল করার অপরাপর কার্যকর পন্থাকে আজকাল তত্ত্বাবধান শিক্ষা তথা সকল প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সক্রিয় চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উপরিউক্ত তত্ত্বাবধান কর্মকাণ্ড সকল প্রকার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনাকে সক্রিয় ও দ্রুততর করার জন্য অপরিহার্য। কারণ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধারাবাহিকভাবে সচল রাখা তথা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং সুনাম অর্জন নিশ্চিত করার জন্য একমাত্র তত্ত্বাবধানই স্বল্পব্যয়ী কার্যকর ব্যবস্থা। তাই শিক্ষা কাঠোমোর সর্বোচ্চ থেকে সর্ব নিম্নস্তর পর্যন্ত সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রতিষ্ঠান ও দেশের কল্যাণের স্বার্থে সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় সেবার মনোভাব নিয়ে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন নিশ্চিতকরণ ও তৎসম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফলপ্রসূ তত্ত্বাবধান কার্যক্রম উদ্ভাবন ও পরিচালনা অত্যাবশ্যক। শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধান পদ্ধতি, শ্রেণিবিভাগ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য বর্তমান ইউনিটে তিনটি পাঠ উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে।



তত্ত্বাবধানের সংজ্ঞা: সাধারণ অর্থে তত্ত্বাবধান বলতে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কার্যাবলী সরাসরিভাবে পরিচালনা করা বা তদারক করাকে বুঝায়। অর্থাৎ উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনা থেকে প্রাপ্ত দায়িত্বসমূহ কর্মীদের দ্বারা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে তত্ত্বাবধান বলে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে একজন সুপারভাইজারকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারো কারো মতে, সুপারভাইজার হলো সংগঠনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি, মধ্যম ব্যক্তি, প্রান্তিক ব্যক্তি বা একজন অতিরিক্ত কর্মী। আবার কারো কারো মতে, সুপারভাইজার একজন আচরণ বিশেষজ্ঞ, যিনি কর্মীদের অভাব অভিযোগ অনুধাবণপূর্বক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে কার্যে উদ্বুদ্ধ করেন। তত্ত্বাবধান ধারণার ইংরেজি প্রতিশব্দ Supervision। এই ইংরেজি Supervision একটি যৌগিক শব্দ যার মধ্যে রয়েছেSuper এবং Vision। Super বলতে যা বুঝানো হয়ে থাকে তা হল Above, Over, Beyond এবং Vision বলতে To See বা দেখা বুঝায়। মোদ্দা কথায় Supervision হল- কোন কিছু সামগ্রিকভাবে দেখা ও পর্যবেক্ষণ করা, সময়ে কাজের নির্দেশ/পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু তত্ত্বাবধান কেবল পত্রে নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজনে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তা পর্যবেক্ষণ করাকেও বুঝায়। যে কারণে তত্ত্বাবধান একটি প্রক্রিয়াও বটে। তত্ত্বাবধান কাজ সম্পন্ন করতে হলে কোন কোন সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, কার্য সম্পন্ন করা, মত বিনিময় করা, যুক্তিতর্ক করা, বিশ্লেষণ করা বুঝায়। অর্থাৎ তত্ত্বাবধান বহুমুখি কর্মসম্পাদন প্রক্রিয়া। কি?


প্রামাণ্য সংজ্ঞা:  শিক্ষাবিদগণের মতে তত্ত্বাবধানের ধারণা: সমকালে তত্ত্বাবধানের ধারণাগত দিকে ব্যাপক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়েছে। নিচে হালের কয়েকজন শিক্ষাবিদের তত্ত্বাবধান সম্পর্কিত ধারণা উপস্থাপন করা হল:

কিমবেল ওয়াইলস: এই শিক্ষাবিদের মতে তত্ত্বাবধান হল সকল স্তরের শিখন শিক্ষণের ((Teaching- Learning) মান উন্নীতকরণের জন্য সাহায্য বা সহযোগিতা প্রদান। 

হ্যারিস: এর মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিখন-শিক্ষণ কাজের মান বৃদ্ধি করা এবং উক্ত মান সংরক্ষণের জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা। শিক্ষা কর্মকাণ্ডের একটি বৃহৎ কাজ হল তত্ত্বাবধান।

জন লেভেল: শিক্ষার্থীর আচরণ ব্যবস্থাপনার নামই হল তত্ত্বাবধান অর্থাৎ শিক্ষার মানের উৎকর্ষ সাধন ব্যবস্থা বা System হল তত্ত্বাবধান। 



তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই তত্ত্বাবধান একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুষ্ঠু ও সুশৃংখল এবং কার্যকর তত্ত্বাবধানের অভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্য ব্যাহত হয়। একজন সুপারভাইজার যদিও উভয় সংকটপূর্ণ অবস্থায় অবস্থান করেন তবুও উদ্দেশ্য অর্জনে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-

১. লক্ষ্য অর্জন: প্রত্যেকপ্রতিষ্ঠানের জন্যই তত্ত্বাবধান একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুষ্ঠু ও সুশৃংখল এবং কার্যকরপ্রত্যেকপ্রতিষ্ঠানের জন্যই তত্ত্বাবধান একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুষ্ঠু ও সুশৃংখল এবং কার্যকর তত্ত্বাবধানের অভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্য ব্যাহত হয়। একজন সুপারভাইজার যদিও উভয় সংকটপূর্ণ অবস্থায় অবস্থান করেন তবুও উদ্দেশ্য অর্জনে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব  প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দক্ষতার সাথে সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন করতে পারলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়।

২. সুষ্ঠ নির্দেশমালা: কোন প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা না দিলে কার্য সম্পাদন সম্ভব নয়। নির্দেশ দান এর সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়া প্রয়োজন হয়। এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সুপারভাইজার করে থাকে।

৩. কার্যকর সমন্বয়:  উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনার সাথে কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকে না। তাই উচ্চস্তর ব্যবস্থাপনা কর্তৃক প্রণীত পরিকল্পনা ও নীতিমালা কর্মীদের কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে। আবার তাদের অভাব অভিযোগ উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনার কাছে অবগত করার জন্য উভয় দলের মাঝখানে সুপারভাইজার পারস্পরিক যোগাযোগ রেখে সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করে।

৪. পরামর্শ দান: সুপারভাইজার কর্মীদের আচরণ সম্পর্কে ভালভাবে অবগত থাকেন। তাই তাদের মন মানসিকতা উপরস্থ কর্মকর্তাদের কাছে জানানো সম্ভব। আবার কর্মীদের কিভাবে কার্য সম্পাদন করতে হবে সে সম্পর্কে উপদেশ দেয়া সুপারভাইজারদের পক্ষেই সম্ভব।

৫. দক্ষতা উন্নয়ন:  সুপারভাইজারগণ কর্মীদের কাজে সরাসরি সহায়তা করে বিধায় তাদের দক্ষতার উন্নতি হয়। কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সুপারভাইজার সকলেই উপকৃত হয় এবং প্রতিষ্ঠানে কার্য সন্তুষ্টি বিরাজ করে। তত্ত্বাবধানের অভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্য ব্যাহত হয়। একজন সুপারভাইজার যদিও উভয় সংকটপূর্ণ অবস্থায় অবস্থান করেন তবুও উদ্দেশ্য অর্জনে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব


উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে তত্ত্বাবধান মানে হলো কোন কিছু পরিচালনা করে খোঁজখবর নেওয়া পরিদর্শন করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে।  ব্যবস্থাপনার জটিল কার্যাবলী এককভাবে কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। উউচ্চস্তরের ব্যবস্থাপকদের পক্ষে প্রতিটি ইউনিটের যাবতীয় কার্যাবলী দেখাশুনা করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তাদের বিশ্বস্ত সুপারভাইজারের উপর নির্ভর করতে হয়। সুপারভাইজারগণের দক্ষতা ও বিশ্বস্ততা যত আস্থাশীল হয় ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী তত ফলপ্রসূ হয়।


Share This

0 Response to "তত্ত্বাবধান কাকে বলে, তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ?"

Post a Comment

Popular posts