করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

৯ম শ্রেণির শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান (2nd Week) 2021

 ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় । জানা নেয় ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র । পাকিস্তানের ছিল দুটি অংশ । পূর্ববাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ অংশের নাম পূর্ব পাকিস্তান । অপর অংশটি পশ্চিম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে । পূর্ব বাংলার ভাষা , সাহিত্য , সংস্কৃতি , অর্থনীতি , রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসক গােষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করে।এর বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলে । এতিহাসিক ছয় দফার ভিভিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে বিপুল ভােটে জয়যুক্ত করে অর্থনৈতিক শোষণহীন , অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে । বাংলা ভাষা , ইতিহাস এতিহ্য , সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয় । এই জাতীয় ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ । 

১৯৫২ সাল ( ভাষা আন্দোলন ) বাঙ্গালির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এক রক্তরঞ্জিত ইতিহাস । ১৯৪৭ সালে কেবলমাত্র ধর্মীয় চেতনাকে পুঁজি করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সৃষ্টি হয় । পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পাকিস্তানী শাসকগােষ্ঠী চেয়েছিল বাঙালি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে । শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নয় , অন্যান্য ক্ষেত্রেও তারা বিমাতা সুলভ আচরণ করছিল । ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ১৭ দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেম - এর নেতৃত্বে ১ সেপ্টেম্বর ৩ সদস্য বিশিষ্ট তমদুন মজলিস গঠিত হয় । এ সংগঠনের অন্য নেতৃদ্বয় ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও শামসুল আলম । সূচনালগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিল । ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিলেন । পাকিস্তানের শাসকগােষ্ঠী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্তনিয়েছিল । এ সিদ্ধান্ত জোর করে বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল । অথচ উর্দু ভাষাভাষী লােকের সংখ্যা ছিল সমগ্র পাকিস্তানে অনু শতকরা ৬.pg ভাগ । পচানেৰে , বাংলা ভাষাভাষী লােকেল সংখ্যা ছিল শত্রল ।


১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ গঠিত পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ এর ইশতিহারে রাষ্ট্র ভাষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানান হয় । কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মােহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাক্কা সফরে এসে ঢাকায় রমনা ব্রেসকোর্সের এক জনসভায় ঘােষণা করেন , " Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan " অর্থাৎ উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা । এ ঘােষণার মাত্র তিন দিন পর তিনি আবার ঐ ঘােষণার পুনরাবৃত্তি করেন । ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের দাবিতে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় । ধীরে ধীরে আলো পরিপক্কতায় আকার ধারণ করে । ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই " গানে ঢাকার রাজপথ মুখরিত হয় । শাভিপূর্ণ মিছিলের উপর তাবেদার পুলিশ বাহিনী গুলি চালায় । হলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বরকত , সালাম , জব্বার ও মুক্তি এবং নাম না জানা আরও অনেকে । ভ্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে প্রচন্ড বিক্ষোভ প্রদর্শন না হয় । অনশেষে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষায় স্বীকৃতি দেওয়া হয় । 

১৯৬৬ সাল ( ছয় দফা আন্দোলন ) পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল লাহাের প্রস্তাবের ভিত্তিতে । লাহাের প্রস্তাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি । ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের উপর শুরু হয় পশ্চিমা শাসক গােষ্ঠীর শোষণ , বঞ্চনা ও নির্যাতন । ফলে সামাজিক , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করে । পশ্চিমা শাসক গােষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার আন্দোলন তীৰ আকার ধারণ করে । ১৯৬৫ সালে পাক - ভারত যুগ্ধ শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে । সামরিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের অসহায় অবস্থা এবং অর্থনৈতিক বৈষমা থেকে মুক্তির লক্ষে শুরু হয় স্বাধিকানো আন্দোলন । শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ তায়েন্দালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে । ১৯৬৬ সালে । ৫-৬ ফেব্রয়ারি লাহােরে নিলো । মলের এক গন্দোলনের আয়োজন করা হয় । উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ' ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন । ছয় দফা কর্মসূচিতে তিনি পূর্ব বাংলার বাঁচার দাবি তুলে অভিহিত করেন । বাংলাদেশের না ছয় দফা আন্দোলন এতােই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনাকার্টা বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে অ »িহিত করা হয় ।


১৯৭০ সাল ( সাধারণ নির্বাচন ) ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও একাত্তরের অসহযােগ আন্দোলন বাঙালির জাতিসত্তার প্রেক্ষাপটে জাগরণের শক্তি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়ে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দুই আন্দোলনে মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাতালির আত্মত্যাগণের জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন । এই দুটো জায়গায় নিজের ভূমিকাকে আত্মপ্রত্যয়ী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে বাঙালির মানসপটে বিপুলভাবে আত্মজাগরণের দরজা ধা দেন । বাঙালি ক্যবদ্ধ হয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে । সত্তরের নির্বাচন ও অসহযােগ আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান বিপুল সাহসী চৈতন্য ঐক্যবদ্ধ বাঙালির তােরণ উন্মোচন করেন । রাজনেতিক দল রাজনীতির মাঠের আসা সরগরম করে তােলে । কিন্তু যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না । সেপ্টেম্বর মাসে প্রবল বন্যা হওয়ায় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে । ইয়াহিয়া খান নির্বাচন পিছিয়ে দেন । জাতীয় পরিষদের ৭ ডিসেম্বর এবং প্রাদেশিক পরিষদের ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয় । ১৯৭০ সালের ১২-১৩ নভেম্বর পূর্ব বাংলার দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ জলােচ্ছাস ও ঘূর্ণিঝড় হয় | প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এই ঘূর্ণিঝড়ে কোনাে সাহায্য করেন নি । 

বঙ্গবন্ধু ত্রাণ নিয়ে ত্রাণকাজে নিজেকে যুক্ত করেন । এই ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ লােক মৃত্যুবরণ করে । ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এলাকায় । এরপর ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । বিপুল ভােটের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে আওয়ায়ী লীগ বিজয় লাভ করে।সন্তরের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালির প্রাণের জোয়ার | এই জোয়ারের প্রবল ঢেউয়ে সাধারণ মানুষকে মাতিয়ে তােলেন বঙ্গবন্ধু শেক মুজিবুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণাকারী ঘটনা। আমি মনে করি , ১৯৭০ সালের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অধিকতর প্রেরণা যুগিয়েছিল । ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ নিবচিনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে । ফলে ৬ দফা ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় । বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে । অন্যদিকে , পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয় । তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরােধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে । পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ । করে । ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভূদয়ের পিছনে নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে । এই নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র দানে বিশাল ভুমিকা রাখে । পরিণতিতে স্বাধীন - সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভুদায় যুটে ।

Share This

0 Response to "৯ম শ্রেণির শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান (2nd Week) 2021"

Post a Comment

Popular posts