করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

অষ্টম শ্রেণীর ৩য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions গার্হস্থ্য বিজ্ঞান

 


১। তােমার পরিবারের আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে তােমার ছােট বােন বা ভাইয়ের জন্ম দিনের

অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন কর।

সমাধানঃ

অর্থ পরিবারের একটি অন্যতম ও প্রধান সম্পদ। প্রতিটি পরিবারের কমবেশি অর্থ বা টাকা পয়সা আছে। অন্যান্য সম্পদের মতাে অর্থ-সম্পদও

অত্যন্ত সীমিত। এই সীমিত অর্থ দ্বারাই পরিবারের সব ব্যয়ভার মেটানাে।হয়। পরিবারের ছােট ভাই বা বােনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে হলে আমাদের অর্থ।অনুযায়ী আগে বাজেট করতে হবে। পরিবারের আয় ও

ব্যয়ের বাজেট থেকে আমাদের কিভাবে ছােট ভাই বা বােনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান করা যায় সেই বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। পরিবারের সকল।সদস্যদের প্রয়ােজনীয়তার কথা বিবেচনায় এনে অর্থ পরিকল্পনা করতে হবে। বাজেট প্রণয়নের সময় অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতি, পছন্দ ও মতামত দেওয়া জরুরি।


আমার ছােট বােন বা ভাইয়ের জন্ম দিনের।অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন এখানে প্রধানত যে বিষয়গুলাে মাথায় রাখা জরুরি তা নিম্নরূপ:


প্রথমত, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের চাহিদা তৈরি হয়। তাই অর্থ পরিকল্পনার সময় আগে লক্ষ্য স্থির করে নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পরিবারের সমস্ত আয় যােগ করে পরিবারের আয়কৃত অর্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। এবং এখান থেকে জন্মদিনের বাজেট প্রণয়ন করে যে অর্থ ব্যয় হবে তা পূরণ করে অন্যান্য খরচ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।

তৃতীয়ত, পরিবারের ব্যয়ের বিভিন্ন খাদ্যগুলাে নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে জীবন ধারনের জন্য প্রয়ােজনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খাতগুলাে সাজাতে হবে। এসকল খাতের কিছু উপকার আছে সেগুলাে

উক্ত খাতের টাকা থেকেই প্রণয়ন করতে হবে। যেমন- বিনােদনের খাত থেকে জন্মদিনের বাজেট প্রণয়ন। এখানে জন্মদিন তাহলে উপখাত।

গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন, নিরাপদে চলাচল, আরাম ও বিশ্রামের জন্য গৃহ পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি থাকা প্রয়ােজন। গৃহে এরকম পরিবেশ বজায় রাখলে গৃহ নিরাপদ আশ্রয়স্থল এ পরিণত হয়।


২। তােমার পরিবারের জন্য একটি ফাস্ট এইড

বক্স তৈরি কর।

সমাধানঃ

ফার্স্ট এইড বক্সঃ

গৃহের ছোট ছোট দুর্ঘটনা মোকাবিলা অথবা অসুস্থ রোগীর সেবায় প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছু সরঞ্জামাদি রাখা খুবই জরুরি। সরঞ্জামাদির তালিকা- গজ, তুলা, ব্যান্ডেজ, সর ধারালো ছুরি, কাঁচি, ডেটল বা স্যাভলন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, কার্বলিক অ্যাসিড, স্পিরিট, ব্যথানাশক ঔষধ ইত্যাদি। এগুলো একটি বাক্সে ভরে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদি যে বক্সে রাখা হয় তাকে ফার্স্ট এইড বক্স বলে।

বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ফার্স্ট এইড বক্স এর ব্যবহার

১। রান্নার সময় ভাব লাগলে বরফ, ঠান্ডা পানি, লবণ পানি, নারিকেল তেল বা টুথপেস্ট আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে।

২। দা, ছুরি, বটি, ব্লেড দিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক সময় হাত, পা কেটে যায়। কেটে গেলে কাটা স্থান পরিষ্কার করে সেখানে জীবানুনাশক, স্যাভলন, ডেটল, নেভালন ক্রিম ইত্যাদি লাগিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে।

৩। বিভিন্ন কীটপতঙ্গ যেমন পিপরা, মৌমাছি, বোলতা কামড়ালে সুচ গরম করে জীবানুনাশক করে হুল বাহির করতে হবে। উক্ত স্থানে পিয়াজ বা লেবুর রস লাগাতে হবে।

৪। গলায় মাছের কাটা বা অন্য কিছু আটকে গেলে লেবুর রস বা পাকা কলা খেলে তা নেমে যায়।


বড় দুর্ঘটনা

১। অজ্ঞান হওয়া: অত্যাধিক গরম, ক্ষুধা, ভয়, দুর্বলতা, দুঃসংবাদ ইত্যাদি কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। ফলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অজ্ঞান হয়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের জন্য পা উঁচু করে রাখতে হবে। মানুষের ভীড় কমাতে হবে। আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

২। আগুনে পোড়া: শরীরের কোন স্থান আগুনে পুড়ে গেলে প্রথমে ক্ষত বা পোড়া স্থানে বরফ ও ঠাণ্ডা পানি দিতে হবে।

৩। সাপে কাটা: সাপে কাটা স্থানের ওপরে পরপর দুইটা জায়গায় বাঁধতে হবে। ধারালো ব্লেড বা চুরি পুড়িয়ে স্যাভলন বা ডেটল দিয়ে মুছে জায়গাটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।


এছাড়াও হাড় ফাটা, পানিতে ডোবা, তড়িতাহিত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর চিকিৎসা সেবা যত্ন করতে হবে।


৩। রােগীর কক্ষ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখার

প্রয়ােজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

সমাধানঃ

স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যে কখনও কখনও আমরা নানা রকম রোগে আক্রান্ত হই। বেশিরভাগ রোগ আমরা চিকিৎসার পাশাপাশি গৃহে যথাযথ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করি। সাধারণ সর্দি,কাশি, জ্বর থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম সংক্রামক রোগ যেমন হাম, বসন্ত ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হই। পরিবারের কোনো সদস্য রোগাক্রান্ত হলে, তার বিশেষ ভাবে যত্ন নেওয়া দরকার। অসুস্থ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা কারণে যথাযথ যত্নের দরকার হয়। তাকে আরাম ও বিশ্রাম দেওয়ার জন্য কোলাহলমুক্ত, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা দরকার। আর সে কারণেই রোগের জন্য আলো-বাতাস পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত একটা কক্ষের প্রয়োজন। রোগীকে নির্দিষ্ট কক্ষে রেখে তার উপযুক্ত শুশ্রূষা করতে পারলে যেকোনো রোগ থেকে সে সহজে এবং তাড়াতাড়ি নিরাময় পেতে পারে।


রোগের কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয়তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

১। দ্রুত সুস্থ হওয়া: রোগীর কক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাস ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকলে রোগী দ্রুত সুস্থ হতে পারে। তাই রোগীকে দ্রুত সুস্থ করার জন্য নিয়মিত রোগীর ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।


২। রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি: রোগীর কক্ষ ঠিকমতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে রোগীর শরীরের পাশাপাশি রোগীর মন ভালো থাকে। রোগীর মানসিক অবস্থা ভালো থাকলে রোগী দ্রুত সুস্থ হতে পারবে।


৩। রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপনের দ্রব্য: রোগীর কক্ষ যদি পরিচ্ছন্ন এবং নিয়মিত আলো, বাতাস ঢোকা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যায় তাহলে রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।


৪। অন্যান্য রোগে আক্রান্ত না হওয়া: যদি রোগীর কক্ষ অপরিষ্কার ও বদ্ধ হয় তবে রোগী এক রোগ থেকে আরেক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই রোগী যাতে এক রোগ থেকে অন্য রোগে সংক্রামিত না হয় সেজন্য রোগীর কক্ষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।


৫। বাড়ির স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা: রোগীকে যদি বাড়ির স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা হয় তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অনেক নিশ্চিন্ত থাকে। তাই বাড়ির অন্যান্য কক্ষ এবং রোগীর কক্ষ সমানভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে সবাই মিলে রোগীর সেবা যত্ন করতে পারবে এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।


৪। বয়:সন্ধিকালের পরিবর্তন সম্পর্কে জানা

প্রয়ােজন কেন? এ সময় স্কুলের সাথে খাপ-

খাওয়ানােয় তুমি কী কী করতে পারাে?


সমাধানঃ 


বয়ঃসন্ধিকাল

১৮/১৯ বছর বয়স কে কৈশোর কাল বলা হয়। এই কৈশোরকালেরই অপর নাম বয়ঃসন্ধিকাল। বয়ঃসন্ধিকাল দ্রুত পরিবর্তনের সময়। এ সময় শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যৌনাঙ্গের পরিবর্তন। অন্যান্য সকল পরিবর্তনের মত যৌন পরিবর্তনও একটি বিকাশ। এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একটি শিশু পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।


বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তাঃ এই পরিবর্তনের ধরন ও কারণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে অনেক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। মনটা সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে। এ বয়সের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে জানলে আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি থাকবে।

সহজভাবে পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারব এবং পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারব।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করতে পারব।


এসময় স্কুলের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য আমি যা যা করবোঃ

আমরা বছরে প্রায় ১০০০ ঘণ্টার বেশি সময় কাটাই। স্কুলের পরিবেশ যদি খাপ খাওয়ানো যায় তবে পরবর্তী জীবনেও ভালোভাবে খাপ খাওয়ানো যাবে। আবার স্কুল জীবনের সফলতার ওপর পরবর্তী জীবনের সফলতা নির্ভর করে। শিক্ষকের প্রশংসা ও উৎসাহ স্কুলের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ বাড়ায়। লেখাপড়ায়ও সফলতা দেয়। এ লক্ষ্যে আমাদের যা যা করণীয়:–


ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের পাঠদান শোনা। সহপাঠীদের সাথে সবকিছু শেয়ার করা।

যেকোনো ধরনের অস্পষ্টতা থাকলে শিক্ষকের কাছে বুঝে নেওয়া। 

শিক্ষকের প্রশ্নের স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর দেওয়া।

দলীয় কাজে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেওয়া ও যথাযথভাবে তা পালন করা।

Share This

0 Response to "অষ্টম শ্রেণীর ৩য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions গার্হস্থ্য বিজ্ঞান "

Post a Comment

Popular posts