করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

নবম শ্রেণীর ২য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions (হিসাব বিজ্ঞান)




(ক) সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন।
১) হিসাববিজ্ঞান কী?
সমাধানঃ হিসাববিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি তথ্য ব্যবস্থা যা লেনদেনসমূহ সনাক্তকরণ/চিহ্নিতকরণ, লিপিবদ্ধকরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের নিকট তথ্য সরবরাহকরণ কার্যাবলি সম্পনড়ব করে থাকে। অন্য কথায় বলা যায় যে, আর্থিক ঘটনাসমূহ শনাক্তকরণ/চিহ্নিতকরণ, লিপিবদ্ধকরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের নিকট তথ্য সরবরাহকরণ কার্যাবলি বা প্রক্রিয়াকে হিসাববিজ্ঞান বলে।

২) হিসাববিজ্ঞানের ২টি উদ্দেশ্য লিখ।
সমাধানঃ
হিসাববিজ্ঞান একটি সেবামূলক কর্মকাণ্ড। এর উদ্দেশ্য বহুবিধ। মূলত প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত লেনদেন হিসাবভুক্তকরণ, ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নির্ণয় এবং মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ সংক্রান্ত তথ্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে সরবরাহ করাই
হিসাববিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্য। নিম্নে হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্যগুলাে সম্পর্কে আলােকপাত করা হলাে :
১. আর্থিক লেনদেনের স্থায়ী হিসাব সংরক্ষণ : প্রতিদিনের অসংখ্য লেনদেন দীর্ঘকাল মনে রাখা সম্ভব নয়। তাছাড়া আর্থিক
ফলাফল নির্ণয়ের জন্যও লেনদেন লিপিবদ্ধ করা প্রয়ােজন। তাই হিসাববিজ্ঞানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলাে আর্থিক
লেনদেন জাবেদায় ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং পরে স্থায়ীভাবে খতিয়ানে হিসাব সংরক্ষণ করা।
২. কার্যক্রমের ফলাফল নির্ণয় : নির্দিষ্ট সময় পর মালিক ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের ফলাফল জানতে চায়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভ-লােকসান হিসাব ও অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য আয়-ব্যয় হিসাব
প্রস্তুত করে আর্থিক কার্যক্রমের ফলাফল নির্ণয় করা হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
৩. প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা নিরূপণ : আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা হিসাববিজ্ঞানের আর একটি প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের দায়- দেনা, মূলধন, চলতি সম্পত্তি, স্থায়ী সম্পত্তি ইত্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য হিসাব বৎসর শেষে নির্দিষ্ট দিনে উদ্বৃত্তপত্র (Balance sheet) প্রস্তুত করা হয়। আর্থিক বিবরণীর এ অংশ সম্পত্তি ও দায় সংক্রান্ত আর্থিক অবস্থা নির্দেশ করে।
৪. কার্যক্রম মূল্যায়ন ও নীতি নির্ধারণ : আর্থিক বিবরণীসমূহের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যাকরণ এবং প্রয়ােজনীয় আর্থিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মূল্যায়নে ও নীতি নির্ধারণে ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করা হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
৩) ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হিসাববিজ্ঞানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
সমাধানঃ
কোনাে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ফলাফল নিরূপণ, গতি প্রকৃতি নির্ধারণ, আর্থিক অবস্থা নিরূপণ ও ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য হিসাববিজ্ঞানের সাহায্য অতি অপরিহার্য। নিম্নে হিসাববিজ্ঞানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলােকপাত করা হলাে :
১। স্থায়ী হিসাব সংরক্ষণ : প্রতিদিন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অনেক লেনদেন সংঘটিত হয়, যার বিবরণ অনেক দিন পর্যন্ত মনে রাখা
সম্ভব নয়। এ সব লেনদেন হিসাবের বইতে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করার কলাকৌশল হিসাববিজ্ঞান শিক্ষা দেয়।
২। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল নির্ণয় : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য হলাে মুনাফা অর্জন। এ উদ্দেশ্য কতটা অর্জিত হয়েছে নির্দিষ্ট সময় পর তা জানা প্রয়ােজন। হিসাববিজ্ঞান আর্থিক লেনদেনের সুষ্ঠু হিসাব রেখে এবং হিসাব কাজ শেষে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে ব্যবসায়ের ফলাফল নির্ণয় করে থাকে।
৩। আর্থিক অবস্থা নিরূপণ : হিসাববিজ্ঞান কোনাে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্তপত্র প্রস্তুত করে আর্থিক অবস্থা তথা মূলধন, দেনা-পাওনা, চলতি সম্পদ, স্থায়ী সম্পদ, হাতে নগদ, ব্যাংক জমা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।
৪। ফলাফল ও আর্থিক অবস্থার তুলনা : প্রতিষ্ঠানের সঠিক কার্যক্রম গ্রহণ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনার জন্য এবং অন্যান্য প্রতিযােগী সংগঠনের ফলাফল ও আর্থিক অবস্থার তুলনামূলক পর্যালােচনার প্রয়ােজন হয়, যা হিসাববিজ্ঞানের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।
৫। ভুল-জালিয়াতির উদ্ঘাটন ও প্রতিরােধ : সঠিকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করলে যে কোনাে প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হিসাবের ভূল-জালিয়াতি উদ্ঘাটন ও প্রতিরােধ সম্ভব। তাছাড়া নিরীক্ষাশাস্ত্র ভুল ও জালিয়াতি উদ্ঘাটন ও প্রতিরােধে সাহায্য করে।
৬। কর নির্ধারণ : সঠিক পদ্ধতিতে ও সুষ্ঠু হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে হিসাববিজ্ঞান আয়কর, বিক্রয় কর, ভ্যাট ইত্যাদি নির্ধারণে সাহায্য করে।
৭। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ : বিচ্যুতি বিশ্লেষণ, মান ব্যয়, বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব হিসাববিজ্ঞান ইত্যাদি কৌশল ব্যবহার করে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে হিসাববিজ্ঞান সহায়তা করে থাকে।
৮। ব্যবস্থাপকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনা : ব্যবস্থাপনাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। হিসাববিজ্ঞান বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিবরণীর মাধ্যমে প্রয়ােজনীয় তথ্য সরবরাহ করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ জন্য হিসাববিজ্ঞানকে ব্যবস্থাপনার সহায়ক বলা হয়।
৯। প্রামাণ্য দলিল : সঠিকভাবে সংরক্ষিত দলিল প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি এড়ানাে যায় এবং বিরােধ নিষ্পত্তিতে আদালতে প্রমাণপত্র হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
১০। মূল্য নির্ধারণ : সাধারণত পণ্য বা সেবার ব্যয়ের সাথে মুনাফা যােগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সঠিক হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার প্রকৃত ব্যয় ও মুনাফার হার নির্ণয় করে মূল্য নির্ধারণে হিসাববিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১১। ঋণ গ্রহণ : ব্যবসায়ের প্রয়ােজনে অনেক সময় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে ঋণ যােগ্যতা যাচাই করে। হিসাববিজ্ঞান যথার্থ আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে ঋণ প্রাপ্তিতে সাহায্য
করে।
১২। সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে তথ্য পরিবেশন : সর্বোপরি হিসাববিজ্ঞান বিভিন্ন আর্থিক বিবরণী, প্রতিবেদন ও বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভেতর ও বাইরের পক্ষসমূহকে প্রয়ােজনীয় তথ্য সরবরাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪) হিসাব তথ্যের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যবহারকারীদের ১টি তালিকা প্রস্তুত কর।
সমাধানঃ
হিসাববিজ্ঞানকে একটি তথ্যব্যবস্থা” (Information System) নামে অভিহিত করা হয়। অভ্যন্তরীণ ও
বাহ্যিক বিভিন্ন ব্যবহারকারীর চাহিদা বিবেচনা করেই লেনদেনসমূহ হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ ও আর্থিক বিবরণী আকারে প্রস্তুত করা হয়।
অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারীঃ
মালিক ও ব্যবস্থাপক : হিসাবরক্ষক হিসাবের বই এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র তৈরি করেন। ব্যবসায়ের মালিক
এবং তার ব্যবস্থাপক এসব হিসাব বিবরণী থেকে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি ও আর্থিক অবস্থার পরিমাণ ও
পরিবর্তন জানতে পারেন। ফলে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন।
বাহ্যিক ব্যবহারকারীঃ
১. ঋণ প্রদানকারী : প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সরবরাহের পূর্বে ঋণ পরিশােধ ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ঋণ প্রদানকারী
প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ের যাবতীয় হিসাব পর্যালােচনা করেই ঋণ সরবরাহ করে থাকে।
২. সরকার : সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ের হিসাব হতে যথাযথভাবে শুল্ক, ভ্যাট, কর এবং আয়কর পরিশােধ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এবং প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
৩. পাওনাদার : বাকিতে পণ্য বিক্রয়ের পূর্বে ব্যবসায়ের দায় পরিশােধ ক্ষমতা যাচাই করেই সরবরাহকারী
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পণ্য সরবরাহ করেন। সম্প্রতি হিসাব হতে সহজেই এই ধারণা লাভ করা সম্ভব।
৪. কর্মচারী ও কর্মকর্তা : ব্যবসায়ের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ তাদের প্রাপ্ত সুযােগ-সুবিধার যথার্থতা
বিচার এবং ন্যায্য অংশ আদায়ের জন্য আর্থিক বিবরণীর সহায়তা গ্রহণ করে।
এছাড়া হিসাব নিরীক্ষক, বিনিয়ােগকারী, ভােক্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হিসাব তথ্য ব্যবহার
করে থাকেন।
৫) মূল্যবােধ সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
সমাধানঃ
মূল্যবােধ সৃষ্টিতে ও জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় হিসাব বিজ্ঞানের ভূমিকাঃ মূল্যবােধ হলাে ব্যক্তি ও সমাজের চিন্তা চেতনা, বিশ্বাস, ধ্যান ধারণা প্রভৃতির সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি মানদণ্ড, যার দ্বারা মানুষ কোনাে বিষয়ের ভালাে-মন্দ বিচার করে ভালােকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে। নিচে মূল্যবােধ সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞান কীভাবে সহায়তা করে তা ব্যাখ্যা করা হলাে—
১. সততা ও দায়িত্ববােধের বিকাশ : হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের রীতি-নীতি ও কলাকৌশল
যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি, সম্পদ ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং
হিসাবের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। আর বছরের পর বছর এর অনুসরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়িত্ববােধ
বিকশিত হয়।
২. ঋণ পরিশােধ সচেতনতা সৃষ্টি : হিসাববিজ্ঞান ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ঋণ পরিশােধে সচেতনতা সৃষ্টি
করে এবং তাদের মূল্যবােধ জাগ্রত করে। ফলে ঋণখেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
৩. সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববােধ সৃষ্টি ; সরকারের আয়ের অন্যতম উৎসগুলাে হচ্ছে ভ্যাট, কাস্টমস
ডিউটি, আয়কর প্রভৃতি। হিসাববিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়ােগের মাধ্যমে সঠিক আয় ও ব্যয় নির্ণয় করা সম্ভব। ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।
৪. জালিয়াতি ও প্রতারণা প্রতিরােধ ও সুষ্ঠু হিসাবব্যবস্থা প্রচলিত থাকলে সম্ভাব্য শাস্তি ও দুর্নামের ভয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে জালিয়াতি, তহবিল তছরুপ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রবণতা হ্রাস পায়।
খ) নিম্নের লেনদেনগুলাের কারণ ব্যাখ্যা কর এবং হিসাব সমীকরণে এগুলাের প্রভাব দেখাও।
২০২০ সালের ১ জানুয়ারি চিকিৎসক জনাব প্রদ্যুৎ নগদ ৫০,০০০ টাকা এবং ১,০০,০০০ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে * নিরাময় চেম্বার” নামে সেবা
কার্যক্রম শুরু করেন।
জানুয়ারি-১০, মােট ২০ জন রােগী দেখে ১০,০০০ টাকা পেলেন।
জানুয়ারি-২০, চেম্বারের আধুনিকায়নের জন্য ৫০,০০০ টাকা ঋণ নিলেন।
জানুয়ারি-২৫ চেম্বারের ভাড়া বাবদ ৫,০০০ টাকা প্রদান করেন।
নিজেরা চেষ্টা করুন।
Share This

0 Response to " নবম শ্রেণীর ২য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions (হিসাব বিজ্ঞান)"

Post a Comment

Popular posts