করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

সপ্তম শ্রেণির ৩য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions কৃষি শিক্ষা




১। ক)বাংলাদেশের মানুষকে মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয় কেন?

সমাধানঃ মাছে ভাতে বাঙালি কথাটি প্রকৃত অর্থেই সঠিক, মাছ ও ভাতের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক বহুকালের।আদিকাল থেকেই মাছ খেতাে বাঙালি। মাছের সঙ্গে ভাতের সম্পর্ক নিবিড় হওয়ার কারণটি হলাে বাঙালির মুখ্য খাদ্য ভাত এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পছন্দের পদ মাছ। আরেকটি প্রধান কারণ হলাে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, ধান ও মাছ দুইই সহজলভ্য। আর খাদ্য উপাদানের সহজলভ্যতা কোনাে অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির মূল ভিত তৈরি করে। যে অঞ্চলে খাবারের যে উপাদান সহজলভ্য, সে অঞ্চলে সে উপাদানকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে সেই অঞ্চলের প্রধান খাদ্যের পরম্পরা। এর ফলেই ভাত ও মাছ কালক্রমে বাঙালির প্রধান খাদ্য হয়ে ওঠে। সেজন্যই সমগ্র বাঙালি জাতির সাথে ওতপ্রােতভাবে জড়িয়ে আছে মাছে ভাতে বাঙালি কথাটি।


খ) একটি সমাজ গঠন করতে কৃষি কিভাবে ভূমিকা

পালন করে। 

সমাধানঃ সমাজ গঠনে কৃষি প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি কাজের মূল চালক হলাে কৃষক। কৃষক মাঠে ফসল ফলায়, মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসে পরবর্তীতে বাড়িতে আনা ফসল যত্ন করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তাছাড়া পুরুষের পাশাপাশি বাড়ির মহিলারা হাঁস-মুরগী পালন করে। এভাবেই মানুষের মাঝে শ্রম বিভাজন হয় এতে করে একটি ঐক্যবদ্ধতা গড়ে ওঠে।।প্রথমে যদিও এই ঐক্যবদ্ধতা পরিবারের মধ্যেই।সীমাবদ্ধ থাকে পরবর্তীতে তা সামাজিক ঐক্য হয়ে দাড়ায়। এই সামাজিক ঐক্যবদ্ধতাই সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সভ্যতার গােড়ার দিকে মানুষ যখন গুহায় বসবাস করা শুরু করলাে এবং পরবর্তীতে গুহা ছেড়ে মাটি ও কাঠের ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করল। ঠিক তখন থেকেই বেশ কিছু।পরিবারের বসতবাড়ি মিলে গ্রামের পত্তন হয়। মানুষ তার বুদ্ধি এবং শ্রম দিয়ে কৃষিকে করেছে উন্নত থেকে

 ন্নততর। ফলে পরিধি বেড়েছে কৃষি ক্ষেত্রের বেড়েছে

উৎপাদন সেই সাথে মানুষের আস্থা ও মূল্যবােধ

প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এভাবেই একটি সমাজ গঠনে কৃষি

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে


গ) কিভাবে সেচের পানি অপচয় হয়?

সমাধানঃ

কিভাবে সেচের পানি অপচয় হয়ঃ।পানি সেচ কৃষি কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটির ঘাটতি হলে ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। কিন্তু সেচে পানি

অপচয় হয়। বিভিন্নভাবে সেচে পানি অপচয় হতে পারে। যেমনঃ

ক) বাষ্পীভবন

খ) পানির অনুবন

গ) পানি চুয়ানাে।


ফলগাছের গােড়ায় এবং শাকসবজির ক্ষেতে

কোন পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হয়?


ফলগাছের গােড়ায় সেচ পদ্ধতি:

ফলগাছের গােড়ায় বৃত্তাকার সেচ পদ্ধতিতে সেচ

দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে সমস্ত জমিতে সেচ না দিয়ে

শুধুমাত্র ওই স্থানে সেচ দেওয়া হয় যে স্থানে

গাছ। রয়েছে। বৃত্তাকার পদ্ধতিতে

বাগানের মাঝ বরাবর একটি প্রধান নালা কাটা হয়

এবং এরপর প্রতিটি ফলগাছের গােড়ায় বৃত্তাকার নালা

কেটে তা প্রধান নালার সাথে সংযােগ দেওয়া হয়।

বৃত্তাকার সেচ পদ্ধতিতে পানি অপচয় হয় না এবং সেই

সাথে পানি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।

শাক সবজির ক্ষেতে সেচ পদ্ধতি:

শাকসবজির ক্ষেতে ফোয়ারা সেচ পদ্ধতিতে সেচ

দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে ফসলের জমিতে বৃষ্টির মতাে

পানি সেচ দেওয়া হয়। আমাদের দেশে ঝাঝরি দিয়ে

বীজতলায় কিংবা চারা গাছে ফোয়ারা সেচ দেওয়া হয়।


রুট স্টক ও সায়ন বলতে কী বুঝ?

সমাধানঃ

রুট স্টক ও সায়নের জোড়া লাগানাে পদ্ধতিকে জোড়া কলম বলে। জোড়া কলম প্রধানত দুই ধরনের হয়।

যেমনঃ যুক্ত জোড়া কলম ও বিযুক্ত জোড়া কলম।

জোড়া কলম এর মাধ্যমে বর্তমানে আম, তেজপাতা,

সফেদা প্রভৃতি গাছের বংশবিস্তার করা হচ্ছে। জোড়া কলম এর প্রধান দুটি অংশ হলােঃ

১) রুট স্টকঃ অনুন্নত যে গাছের সঙ্গে জোড়া লাগানাে

হবে সে গাছটিকে রুট স্টক বলে।

২) সায়নঃ যে অঙ্গে উন্নত জাতের গাছের স্টকের সঙ্গে লাগানাে হবে তাকে বলা হয় সায়ন


ঘ) ২ টি সবুজ সারের নাম লিখ?

সমাধানঃ কৃষিক্ষেত্রে সবুজ সার তৈরি করা হয় উপড়ে ফেলা বা

বপন করা ফসলের পরিত্যক্ত অংশগুলি দিয়ে।

২ টি সবুজ সারের নাম হলঃ

১। জৈব সার বা কম্পােস্ট সারঃ গােবর, কম্পােস্ট,

আবর্জনা,খড়কুটা, আগাছা পচিয়ে জৈব সার তৈরী

করা হয়।

২। রাসায়নিক সারঃ এই ধরনের সারে নাইট্রোজেন,

ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম থাকে।


সৃজনশীল ২

ক) সিয়ামের টবে কোন পুষ্টি উপকরণের অভাব

ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

সমাধানঃ সিয়ামের টবে মরিচগাছগুলাে আয়রন বা লৌহ পুষ্টির অভাব ঘটেছে। কারন গাছে আয়রন বা লৌহ পুষ্টির অভাব হলে কচি পাতার সবুজ রঙ বিবর্ণ হয়ে যায় এবং পরে সমগ্র পাতায় ছড়িয়ে পরে।

আয়রন বা লৌহ গাছের সবুজ কণিকা (ক্লোরােফিল)

গঠন করে। বীজ উৎপাদনে এবং ফলের গুণগত মান

বাড়ায়। শিকড় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।


খ) সিয়ামের চাচার পরামর্শ মূল্যায়ন কর।

সমাধানঃ সিয়ামের মরিচগাছগুলাে অবস্থা দেখে তার চাচার সঠিক মাত্রায় সার প্রয়ােগের পরামর্শটি যথার্থ। কারণ: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গৌণ পুষ্টি উপাদান (আয়রন বা লৌহ, তামা, দস্তা , বােরন, ম্যাঙ্গানিজ) অল্প মাত্রায় প্রয়ােজন। তাই গাছের পরিপূর্ণ বৃদ্ধিতে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়ােগ করা উচিত।

Share This

0 Response to "সপ্তম শ্রেণির ৩য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions কৃষি শিক্ষা "

Post a Comment

Popular posts