করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

ষষ্ঠ শ্রেণীর ২য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions

বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
১। বিজ্ঞান কী?
বিজ্ঞান হলাে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান
যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা থেকে পাওয়া বা পরীক্ষা-
নিরীক্ষা দ্বারা সমর্থিত এবং একটি বিজ্ঞানসম্মত
দৃষ্টিভঙ্গি।
২। সাইকাস, সুপারি গাছ, মস, কঁঠাল গাছ, সরিষা
ছকে উল্লেখিত উদ্ভিদগুলাে কোন ধরণের,
তাদের বৈশিষ্ট্য লিখ।
সমাধানঃ ছকে উল্লেখিত প্রথম উদ্ভিদটি অর্থাৎ সাইকাস হলাে নগ্নজীবি উদ্ভিদ।
নগ্নজীবি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যঃ নিচে নগ্নজীবি উদ্ভিদের
বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল -
(১) এসব উদ্ভিদের ফুলের ডিম্বাশয় থাকে না।
(২) ডিম্বকগুলাে নগ্ন থাকে।
(৩) ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ উৎপন্ন করে।
• ছকে উল্লেখিত সুপারি গাছ, কঁঠাল গাছ ও
সরিষা এগুলাে হলাে সপুষ্পক আবৃতজীবি
উদ্ভিদ।
সপুষ্পক আবৃতজীবি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যঃ নিচে
সপুষ্পক আবৃতজীবি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল-
(১) এদের ফুলে ডিম্বাশয় থাকে।
(২) এদের বীজগুলাে ফলের ভিতরে আবৃত অবস্থায়
থাকে।
(৩) নিষেকের পর বীজে এবং ডিম্বাশয় ফলে পরিণত
হয়।
• ছকে উল্লেখিত মস অপুষ্পক উদ্ভিদ।
অপুষ্পক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যঃ নিচে অপুষ্পক উদ্ভিদের
বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল -
(১) এ সকল উদ্ভিদের মূল থাকে না। মূল এর পরিবর্তে
রাইজয়েড থাকে।
(২) এরা সমাঙ্গ নয়।
(৩) এরা সবুজ স্বভােজী।
(৪) এরা সাধারনত পুরাতন, ভেজা সঁাতাতে জায়গায়
জন্মায়।
৩। উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানির দরকার কিনা
তার পরীক্ষার জন্য বৈজ্ঞানিক পক্রিয়ার ধাপগুলাে
কী কী?
সমাধানঃ
পরীক্ষণঃ বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের পানি দরকার
কিনা তার পরীক্ষা।
পরীক্ষণটি করার জন্য যা যা দরকারঃ ছােট দুটি পাত্র,
ফুল, গাছের দুটি চারা, পানি ও শুকনা মাটি।
নিচে পরীক্ষণের বৈজ্ঞানিক পক্রিয়ার ধাপগুলাের
বর্ণনা করা হলঃ
ধাপ ১- সমস্যা নির্ধারণঃ
পরীক্ষণ পদ্ধতির প্রথম ধাপে আমি সমস্যায় স্থির
করলাম ফুল গাছের চারা তুলে এনে লাগালে যারা
যাচ্ছে কেন?
ধাপ ২- জানা তথ্য সংগ্রহঃ
আমি বই পড়ে, শিক্ষককে বা পিতা-মাতাকে জিজ্ঞেস
করে যারা চেষ্টা করলাম যে কেন চারাগাছ মারা যেতে
পারে। আমি জানলাম যে পানি না পেলে চারা গাছ মারা যেতে পারে।
ধাপ ৩ আনুমানিক বা অনুমতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ
(সম্ভাব্য ফলাফল) ঃ
জানা তথ্য থেকে আমি অনুমিত সিদ্ধান্ত নিলাম পানির
অভাবে আজ মারা যায়।
ধাপ ৪ - পরীক্ষণের পরিকল্পনাঃ
এবার আমি পরীক্ষণের পরিকল্পনা করলাম। এই
পরীক্ষার জন্য আমাকে দুটি পাত্রে দুটি গাছ নিতে হবে
দুটি পাত্রের মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য রাখতে হবে।
অন্য সবকিছু সমান রাখতে হব।না হলে আমি যা যাচাই করতে চাই তা করতে পারবােনা
ধাপ ৫- পরীক্ষণঃ
ছােট দুটি মাটির টব নেই। টব দুটির তলায় ছােট ছিদ্র
করে এবার শুকনাে মাটি দিয়ে পাত্র দুটি ভরে দেয়।
এবার একই ধরনের দুটি চারাগাছ পাত্রে রােপন করে
একটিতে পানি দেই অন্যটিতে শুকনা রাখি। দুটি
গাছকে ছায়ায় রেখে দেই। পরেরদিন গাছ দুইটিকে
পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, একটি গাছ প্রায় মরে গেছে।
অন্যটি সতেজ আছে।
ধাপ ৬ - উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ
দুটি পাত্রে একই ধরনের মাটি ছিল। চারাগাছ দুইটিকে
একই জায়গায় রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একটি
পার্থক্য ছিল পানি। একটিতে পানি দেওয়া হয়েছিল
অন্যটিতে পানি দেওয়া হয়। এ থেকে সিদ্ধান্ত আসতে
পারলাম যে পানি না দেওয়ার কারণে একটি চারা গাছ
মারা গেছে।
ধাপ ৭ - ফলাফলঃ
আমি পরীক্ষণের ফল আমার অন্যান্য সহপাঠী ও
পরিচিতদের মাঝে প্রকাশ করলাম।
এগুলােই হল বৈজ্ঞানিক পক্রিয়ার ধাপ যার মাধ্যমে
আমরা প্রমান করতে পারি উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য
পানির দরকার।
৪। একটি বইয়ের দৈর্ঘ্য ২০ সেমি, প্রস্থ ১৫ সেমি এবং
উচ্চতা ১ সেমি। এরুপ ৫০ টি বইয়ের আয়তন কত?
সমাধানঃ
একটি বইয়ের দৈর্ঘ্য = ২০ সেমি
প্রস্থ = ১৫ সেমি
উচ্চতা
= ১ সেমি
একটি বইয়ের আয়তন = (২০ x ১৫x ১) ঘন সেমি
= ৩০০ ঘন সেমি
সুতরাং, ৫০ টি বইয়ের আয়তন = (৫০ x ৩০০) ঘন
সেমি
= ১৫০০০ ঘন সেমি
৫। আধুনিক শ্রেণীকরণ পদ্ধতিতে অ্যামিবা ও মাশরুম
কোন রাজ্যের অন্তর্গত, এদের বৈশিষ্ট্য লিখ।
সমাধানঃ আধুনিক শ্রেণীকরণ পদ্ধতিতে অ্যামিবা হল প্রােটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং মাশরুম হল ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
প্রােটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যঃ নিচে প্রােটিস্টা রাজ্যের
বৈশিষ্ট্যগুলাে উল্লেখ করা হল-
(ক) এই রাজ্যের জীব দেহের কোষ সুগঠিত।নিউক্লিয়াস যুক্ত।
(খ) এরা এককোষী।
(গ) একক বা দলবদ্ধ থাকতে পারে।
ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের বৈশিষ্ট্যঃ
নিচে ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলাে উল্লেখ
করা হল-
(ক) দেহে ক্লোরােফিল না থাকায় বর্ণহীন।
(খ) ক্লোরােফিল না থাকায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি
করতে পারে না।
(গ) এরা সাধারণত পানিতে বাস করে না।
আধুনিক শ্রেণীকরণ পদ্ধতিতে অ্যামিবা হল প্রােটিস্টা
রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং মাশরুম হল ফানজাই বা
ছত্রাক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
প্রােটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যঃ নিচে প্রােটিস্টা রাজ্যের
বৈশিষ্ট্যগুলাে উল্লেখ করা হল-
(ক) এই রাজ্যের জীব দেহের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত।
(খ) এরা এককোষী।
(গ) একক বা দলবদ্ধ থাকতে পারে।
ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের বৈশিষ্ট্যঃ
নিচে ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলাে উল্লেখ
করা হল-
(ক) দেহে ক্লোরােফিল না থাকায় বর্ণহীন।
(খ) ক্লোরােফিল না থাকায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি
করতে পারে না।
(গ) এরা সাধারণত পানিতে বাস করে না।
(ঘ) এরা আলাে-অন্ধকার উভয় পরিবেশে বাঁচতে পারে।
(ঙ) এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
ষষ্ঠ শ্রেণির (৬) দ্বিতীয় সপ্তাহের Assignment & Solution
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অ্যাসাইনমেন্টের নংঃ ০১
১. বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যাবহার হচ্ছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কোথায় কোথায় ব্যাবহার করা যায় বর্ণনা কর।
ভূমিকাঃ
আধুনিক জীবনের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আজকের এই নগর সভ্যতার দিকে তাকালে আমরা এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ করতে পারি। এই যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। সমাজের যে স্তরে এখনো বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগেনি সে স্তরে এখনো উন্নতির ছোঁয়া প্রবেশ করতে পারেননি। তাই বলা যায় যে সভ্যতার উন্নয়নের মূলে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। পিটার থেইল বলেছেনঃ "Technology just means information technology."
ব্যবহারের ক্ষেত্র সমূহঃ
বর্তমান পৃথিবীতে যে দেশের মানুষজন লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত যারা জ্ঞান চর্চা করে সেই দেশ হচ্ছে সম্পদশালী দেশ। তথ্যের চর্চা আর বিশ্লেষণ থেকে জ্ঞান জন্ম নেয় তাই যে দেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে বিশ্লেষণ করতে পারে সেই দেশ হচ্ছে পৃথিবীর সম্পদশালী দেশ। বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
(ক) কৃষিক্ষেত্রেঃ
এখন কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে আইসিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে যেখানে কৃষিবিষয়ক অনেক তথ্য সম্পর্কে কৃষকেরা জানতে পারে তাছাড়া মোবাইলে কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
(খ) চিকিৎসাক্ষেত্রেঃ
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাবহার লক্ষ্য করা যায়। রোগীর তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় টেলিমেডিসিন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ডাগনেস্টিক সেন্টার রুগীদেরকে অলনাইলে রিপোর্ট দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
(গ) পরিবেশ ও আবহাওয়াঃ
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এখন আইসিটির ব্যবহার করা হচ্ছে। ১১ মে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ করার হয়। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে তখন স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।
(ঘ) গবেষণা গবেষণাঃ
গবেষণায় আইসিটির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমরা অনেক জটিল গবেষণা অনেক সহজে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করতে পারছি।
(ঙ) ব্যাংকিংঃ
বর্তমানে প্রায় সব ব্যাংক অনলাইন সেবা দিচ্ছে ফলে এটিএম মেশিন থেকে যেকোনো সময় টাকা তোলা যায় তাছাড়া বর্তমান ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে
(চ) শিক্ষা ক্ষেত্রেঃ
বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু গবেষণা আটকে নিন বড় শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যাধিক হারে লক্ষ্য করা যায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার প্রয়োজনেপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে শিক্ষাক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ডিজিটাল ডিকশনারি বুক অনলাইন ক্লাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
(ছ) ব্যবসা ক্ষেত্রেঃ
ব্যবসাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে চোখে পরার মত। আমাদানি-রপ্তানি বেড়েছে কয়েকগুন। এর পিছনে মূল কারন হল উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা। ফলে অর্জিত হয়েছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা যা দেশের জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্সের ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধাঃ
বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের সুবিধা বলে শেষ করা যাবে না সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমোতে যাওয়া মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা আমাদের সময়কে আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে কৃষি প্রযুক্তি দৌলতে আজ সারা বিশ্বে মোট জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে বসেই শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে প্রযুক্তির বলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বাতি জ্বলছে পাখা হিটার রেডিও টিভি ফ্রিজ ভিসিআর বিসিবি লিভ এয়ার কুলার কম্পিউটার চলছে শহর-নগরে যে আকাশচুম্বী বহুতলা ভবন গড়ে উঠেছে আমরা যে বাস-ট্রাক ট্যাক্সিতে করে যাওয়ার করছি তার সবগুলোই প্রযুক্তির অবদান।
উপসংহারঃ
কালের বিবর্তনে মানব জীবন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তথ্য ও যোগাযোগ এর অবদান রয়েছে মানব জীবনে বিজ্ঞানের এ ব্যবহারকে ইতিবাচক দিকে রাখতে হবে তথ্য ও প্রযুক্তির আলোয় প্রতিটি মানুষকে আলোকিত করতে হবে সমস্ত কলুষতা থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে মুক্ত করার জন্য সকল ধরনের অপব্যবহার থেকে তথ্য কে সরিয়ে রাখতে হবে তবেই মানবসভ্যতা যথার্থ উন্নয়ন সম্ভব।
ষষ্ঠ শ্রেণির (৬) দ্বিতীয় সপ্তাহের Assignment & Solution
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
অ্যাসাইনমেন্টের নংঃ ০১
১. আল-আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
২. আল্লাহ পাকের ০৫ টি গুনবাচক নাম অর্থসহ লেখ।
৩. তুমি কিভবে আল্লাহর গুনে গুণান্বিত হতে পার?
৪. "দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র" - ব্যাখ্যা কর।
১।আল-আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
সমাধানঃ আসমাউল হুসনা শব্দ দুইটি আরবি। আসমা শব্দের অর্থ হল "নামসমূহ" আর হুসনা শব্দের অর্থ "সুন্দরতম"। অর্থাৎ আসমাউল হুসনা অর্থ হল "সুন্দরতম নামসমূহ" । আর এই সকল সুন্দরের আঁধার হলে মহান আল্লাহ । পবিত্র কুরআন ও হাদিস মতে মহান আল্লাহর অনেকগুলো গুনবাচক নাম রয়েছে। আর এর সংখ্যা হল ৯৯ টি। আল্লাহ তায়ালার সুন্দর সুন্দর নামকে একত্রে বলা হয় আসমাউল হুসনা।
আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে বলেছেন:
"আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।" (সূরা আল-আ'রাফ ০৭: আয়াত ১৮০)
এছাড়া সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭: আয়াত ১১০ এ আল্লাহ বলেছেন:
"আল্লাহ বলে আহ্বান কর কিংবা রাহমান বলে, যে নামেই আহবান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই।"
২। আল্লাহ পাকের ০৫ টি গুনবাচক নাম অর্থসহ লেখ
সমাধানঃ
আর-রহমান - সবচাইতে দয়ালু, কল্যাণময়, করুণাময়
আর-রহী'ম - অতিশয়-মেহেরবান
আল-মালিক - অধিপতি
আস-সালাম - শান্তি এবং নিরাপত্তার উৎস, ত্রাণকর্তা
আল-মু’মিন - জামিনদার, সত্য ঘোষণাকারী
আল-’আযীয - সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে সম্মানিত
আল-জাব্বার - দুর্নিবার, সমুচ্চ, মহিমান্বিত
আল-’আলীম - সর্বজ্ঞানী, সর্বদর্শী
৩। তুমি কিভবে আল্লাহর গুনে গুণান্বিত হতে পার?
সমাধানঃ হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেনঃ
"তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও।"
আল্লাহর রং বা গুণ হল আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক ৯৯ টি নাম। আল্লাহর নামাবলী আত্মস্থ করার বা ধারণ করার অর্থ হল সেগুলোর ভাব ও গুণ অর্জন করা এবং সেসব গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য কাজকর্মে, আচরণে প্রকাশ করা তথা নিজেকে সেসব গুণের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা। যেমনঃ
আল্লাহ হলে আল-গফ্‌ফার মানে মার্জনাকারী। আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল। আমাদের নবীজিও (সা.) ক্ষমরা মহৎ উদাহরণ ছিলেন। তাই আমারাও চেষ্টা করবো মানুষদের ক্ষমা করতে।
আল্লাহ হলেন আল-মুই'জ্ব অর্থাৎ সম্মানপ্রদানকারী। আমরাও চাইলে মানুষদের সম্মান করতে পারি। বড়দের সালাম আর ছোটদের স্নেহ করতে পারি।
৪। দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র - ব্যাখ্যা কর
সমাধানঃ প্রতিটি মানুষের দুটি ঠিকানা, একটি ক্ষণস্থায়ী অপরটি চিরস্থায়ী-অনন্ত। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাতের জীবন হল চিরস্থায়ী। এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে, সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে পরপারে, অনন্ত ঠিকানায়। যেখানে নেই কোনো মৃত্যু, নেই কোথাও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
"নিশ্চয় দুনিয়ার জীবনের তুলনা তো পানির ন্যায় যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি, অতঃপর তার সাথে যমীনের উদ্ভিদের মিশ্রণ ঘটে, যা মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তু ভোগ করে।" (সূরা ইউনুস:২৪)
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা এভাবে বলেছেনঃ
"আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয় আখিরাতের নিবাসই হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত"। (সূরা আল আনকাবূত:৬৪)
মূলত দুনিয়া হলো পরীক্ষার স্থান। আর আখিরাত হল দুনিয়ার কর্মফলের স্থান। আমরা দুনিয়াতে যা কামাই করবো তারই প্রতিদান আখিরাতে পাব। দুনিয়া পশ্চাৎপানে চলে গেছে। আর আখিরাত সম্মুখ থেকে এগিয়ে আসছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
"দুনিয়া যার গুরুত্বের বিষয় হবে, আল্লাহ তার সবকিছু বিক্ষিপ্ত করে দিবেন"। (ইবনে মাজাহ, সহীহ)
তাই দুনিয়ার পেছনে দৌড়ঝাঁপ নয়, আখিরাতের পেছনেই সর্বশক্তি নিয়োগ করুন। তাহলে দুনিয়া আখিরাত উভয়টাই পাব। আখিরাতের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিলে দুনিয়াও হারাতে হবে সাথে আখিরাতও। দুনিয়া তো হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। এ শস্যক্ষেত্রে যে ফসল ফলাবে না সে আখিরাতকে হারিয়ে ফেলবে। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
"দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে থাকো যেন তুমি অপরিচিত অথবা পথিক"। (বুখারী)
এ হদীসটির ব্যাখ্যা হল দুনিয়াতে মুমিনকে এমনভাবে থাকতে হবে, যেন সে সফর অবস্থায় আছে এবং প্রস্থানের জন্য মাল-সামানা গোছগাছ করছে।
আখিরাতের জীবনই আসল জীবন। মানুষ আখিরাতের বাস্তব দৃশ্য যখন স্বচক্ষে দেখবে, সে নিজেই তখন স্বীকার করবে, আখিরাতের জীবনই আসল জীবন। সে বলবে :
"হায়! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার জীবনের জন্য"। (সূরা আল ফাজর: ২৪)
সুতরাং আমাদের উচিত ভাল আমল দ্বারা দুনিয়াতেই থেকে আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করা।
Share This

0 Response to " ষষ্ঠ শ্রেণীর ২য় সপ্তাহের Assignment ও Solutions"

Post a Comment

Popular posts