করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই।। শিক্ষামন্ত্রী।
Welcome To TopSuggestion

অষ্টম শ্রেণির (৮) দ্বিতীয় সপ্তাহের Assignment & Solution(বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা)




ক) কোষ বিভাজন কাকে বলে?
সমাধানঃ কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার দ্বারা জীবের দৈহিকবৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে । যে প্রক্রিয়ায় জীব কোষের বিভক্তির মাধ্যমে একটি থেকে দুটি বা চারটি কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে । বিভাজনের ফলে সৃষ্ট নতুন কোষকে অপত্য কোষ (Daughter cell) এবং যে কোষটি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃ কোষ (Mother cell) বলে ।

কোষ বিভাজন ৩ প্রকার । যথাঃ- অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন, মাইটোসিস কোষ বিভাজন এবং মিয়োসিস কোষ বিভাজন।
খ) মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাস মূলক বিভাজন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
সমাধানঃ মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে মাতৃকোষর নিউক্লিয়াসটি পরস্পপর দুইবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোম বিভাজিত হয় মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোমর সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে ক্রোমোজোমর সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে এ ধরনের বিভাজনকে হ্রাস মূলক বিভাজন বলে।
গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত বিভাজন পক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ীটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতেকীভাবে ভূমিকা রাখে- ব্যাখ্যা কর।
সমাধানঃ উদ্দীপকে উল্লেখিত বিভাজন পক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ী ধাপটি হল প্রোফেজ। প্রোফেজ মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ক্যারিওকাইনেসিসের প্রথম ধাপ।
প্রোফেজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে নিন্মলিখিত ভূমিকা রাখেঃ
উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশে ভাজক টিস্যু যেমনঃ কান্ড, মূলের অগ্রভাগ, ভ্রুণমুকুল, বর্ধনশীল পাতা, মুকুল ইত্যাদিতে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণ সম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে দুইভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃ কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে। এভাবে কোষ বিভাজনের দীর্ঘস্থায়ী ধাপ প্রোফেজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
ঘ) মায়ের উপরে বলা বিশেষ পক্রিয়াটির গুরুত্ব উদ্ভিদের জীবনে কত খানি - তা বিশ্লেষণ কর।
সমাধানঃ উদ্দীপকে মায়ের বলা পক্রিয়াটির নাম হল অভিস্রবন পক্রিয়া।
অভিস্রবন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হল-
পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ অভিস্রবন পক্রিয়ায় উদ্ভিদের কোষের মধ্যে প্রবেশ করে বা বাইরে আসে।
উদ্ভিদ এককোষী মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ অভিস্রবন পক্রিয়ায় শোষণ করে।
অভিস্রবনের কারণে রসস্ফীতি ঘটে, ফলে উদ্ভিদের কান্ড ও পাতা সতেজ ও খাড়া থাকে।
পত্ররন্দ্ৰ খোলা বা বন্ধ হওয়া অভিস্রবন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
উদ্ভিদের অভ্যন্তরে এক কোষ হতে অন্য কোষে পানি চলাচল, কোষের বৃদ্ধি, কোষের স্বাভাবিক আকার ও আকৃতি রাখা কোষের দৃঢ়তা প্রদান, মাটি হতে রস উত্তোলন, বীজের অঙ্কুরোদগম প্রভৃতিতে অভিস্রবন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, অভিস্রবন প্রক্রিয়া দ্বারা উদ্ভিদের সার্বিক শরীরবৃত্তীয় পক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তাই অভিস্রবন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির দ্বিতীয় সপ্তাহের Assignment & Solution: তথ্য ও প্রযুক্তি
একজন ব্যক্তি সরকারের গৃহীত তথ্য ও যােগাযােগ ভিত্তিক সেবা থেকে কীভাবে সহযােগিতা পেতে পারেন? বিষয়টির একটি শিরােনাম দিয়ে
(২৫০ শব্দের মধ্যে) একটি প্রবন্ধ লিখ।
[প্রবন্ধে যা যা থাকবে-
ভূমিকা
সেবাসমূহের তালিকা
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা
প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্ব
উপসংহার ]
ভূমিকাঃ
বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। আর বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব আবিষ্কার হলাে তথ্যপ্রযুক্তি। বিজ্ঞানকে বিভিন্ন শিল্প তথা মানব কল্যাণে প্রয়ােগ করার কৌশলই হচ্ছে প্রযুক্তি। আজকের দিনের বহুল আলােকিত প্রযুক্তিটি হলাে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। যা বর্তমান বিশ্বের সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল হাতিয়ার। জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজ অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল করতে এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মােকাবিলায় প্রস্তুত হতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই।
সেবাসমূহের তালিকাঃ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের মূল সর্থকতাই হলো এটার ব্যবহার করে সুফল অর্জন করা। বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে সর্বত্রই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে লাগামহীনভাবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকান্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার চোখে পরার মতো। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা খুব কম সময়েই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। সরকারি সেবাসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
ই-পর্চা
ই-বুক
ই-পুর্জি
পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ
ই-স্বাস্থ্যসেবা
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকরণ
টাকা স্থানান্তর
পরিসেবার বিল পরিশোধ
পরিবহন
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাঃ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ২০০৭ সালেও বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ছিল সম্ভাবনাহীন একটি দেশ। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে মুহূর্তেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের নাগরিক গ্রহণ করতে পারছে সাধারণ মানুষ। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ রুপ নিয়েছে "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নামে।প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। যেমন: বর্তমানে সরকারি তথ্যাদি, আইন ও নীতিমান প্রণয়ন ও সংশোধন, বিশেষ বিশেষ দিবসের বার্তা, পাবলিক পরীক্ষার ফলালফল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে ফলে কম সময়ের কাছে তা মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া দেওয়া হচ্ছে ই-স্বাস্থসেবা, পরিসেবা বিল (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস) পরিশোধ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। সর্বস্তরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে খুলা হয়েছে ই-বুক প্লাটফর্ম। আর্থিক লেনদেন সহজ এবং নিরাপদ করার জন্য চালু করা হয়েছে অনলাইন ব্যাঙ্কিং।
প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্বঃ
প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। কারণ দিনকে দিন প্রযুক্তির এতটাই উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে যে, মানুষও প্রানভরে উপভোগ করছে এর সুফল। এককথায় প্রযুক্তি মানুষের ভার্চুয়াল বন্ধুর মতোই হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার কারণে কমেছে সময় ও ভোগান্তি। জীবনমান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কর্মসংস্থান। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি এখন দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নগদ টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যের হয়ে উঠছে এটিএম বুথ। পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং, টেলিকনফারেন্স, ই-ফাইলিং, ই-ট্র্যাকিং, ব্যবসায়ে ই-কমার্স থেকে শুরু করে ঘরের-অফিসের নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরাটি এখন আর ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে থাকছে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, সংস্কৃতিসহ প্রতিটি মৌলিক ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী বিপ্লব এনে দিয়েছে।
উপসংহারঃ এ যুগে জীবনযাত্রার সকল ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি আমরা কত দ্রুত সাড়া দেব তার উপর নির্ভর করছে আগামী দিনের বাংলাদেশের ভাগ্য। ডিজিটাল সরকার, নাগরিকদের ডিজিটাল সেবা প্রদান, তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্প প্রসার - এ চারটি মূল লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করাহয়েছে। মূলত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশনের মূল লক্ষ্য।
অষ্টম শ্রেণির (৭) দ্বিতীয় সপ্তাহের Assignment & Solution: ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
১।" ইসলামের সাথে ইমানের সম্পর্ক খুবই নিবিড় " কথাটি ব্যাখ্যা করো।
সমাধানঃ ইমানের শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস, স্বীকার, আস্থা, মান্য, কৃতজ্ঞ। মুমিন হওয়ার মূল শর্ত হলো ইমান আনা। আর ইমানের তিনটি দিক থাকে। তা হলো : অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং আমল করা। আর এই তিনটি দিক সরাসরি ইসলামের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ইসলাম শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো বশ্যতা, সমর্পণ, আত্মসমর্পণ, অনুগত করা।
ইমানের ৭টি স্তরের প্রথম স্তরটি হলো আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও ইমান আনা। তিনি আমাদের বর, বিচার দিনের মালিক, সর্ব ক্ষমতার অধিকারী, ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আল্লাহর যে ৯৯ টি গুণবাচক নাম রয়েছে সবগুলোর উপর ইমান আনতে হবে। এই ইমান অন্তর থেকে আনতে হবে। মোট কথা নিজেকে, নিজের সব ইচ্ছাকে আল্লাহর নিকট সমর্পন করা নামই হলো ইমান। এবং তা ইমানের তিনটি দিক দিয়ে আমাদের অনুধাবন করতে হবে।
ইমানের দ্বিতীয় স্তরটি হলো ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস করা। ফেরেশতাগণ নূরের তৈরি এবং অদৃশ্য। তারা পুরুষ নন নারীও নন। তারা সর্বদা আল্লাহর হুকুম মেনে চলছেন। এসবকিছুই ইমানের তিনটি দিক দিয়ে বিশ্বাস করতে হবে।
ইমানের তৃতীয় স্তরটি হলো আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস করা। মানবজাতির কল্যাণের জন্য আল্লাহ প্রত্যেক নবীদের উপর কিতাব নাজিল করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি শুরু হয়েছিল এই কিতাবসমূহের মাধ্যমে যাকে বলা হয় আসমানি কিতাব। সর্বমোট আসমানি কিতাব ১০৪ টি। এরমধ্যে ১০০ টি ছোট আর বাকি ৪টি বড় কিতাব। এগুলো হলো - তাওরাত, যাবুর, ইনজিল ও কুরআন। কুরআন হলো সর্বশেষ কিতাব এবং গোটা মানবজাতির জন্য পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান।
ইমানের চতুর্থ স্তরটি হলো নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস করা। মানজাতির হিদায়েত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। মূলত নবি-রাসুলগণ ছিলাম আমাদের পথনির্দেশক। তারা মানুষদেরকে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন, কল্যাণের পথে আহ্বান করতেন। সর্বপ্রথম নবি ছিলাম হযরত আদম (আ.) এবং সর্বশেষ নবি ও রাসুল ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স.) আমরা হলাম শেষ নবির উম্মত। মহান আল্লাহ দুনিয়া মধ্য থেকেই নবি-রাসুলদের নির্বাচন করেছেন। এবং প্রত্যেক নবি ছিলেন পুরুষ এবং বিবাহিত।
পঞ্চম স্তরটি হলো আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস করা। আখিরাত হল পরকাল। যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। মূলত আখিরাতের জীবন শুরু হয় মানুষের ইন্তেকালের পর থেকেই। পরকালের যাত্রা শুরু হয় ধাপে ধাপে। যেমনঃ মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, মিযান, সিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম।
ইমানের ষষ্ঠ স্তরটি হলো তকদিরে বিশ্বাস করা। তকদির মানে হলো ভাগ্য। যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মানুষের সাথে যা যা হয় সবই আল্লাহর হুকুমে। তাই একজন মুমিনের উচিত ভালো খারাপ যাই ঘটুক হতাশ না হয়ে সর্বদা আল্লাহ্‌র শুকরিয়া করা।
শেষ ও সপ্তম স্তরটি হলো মৃত্যুর পর পুনুরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস করা। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আছে আল্লাহ সবাইকে পুনরায় জীবিত করা হবে। আমাদের সকল কাজের হিসাব দিতে হবে। আল্লাহ খুব সূক্ষ ও দ্রুত হিসাব নিতে সক্ষম।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ইমান হলো- "তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগনে প্রতি ও শেষ দিবসের (আখিরাতে) প্রতি এবং ভাগ্যের (তকদিরে) ভাল মন্দের প্রতি বিশ্বাস করবে"। [মুসলিম শরীফ হাদীস নং-১, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত]
আল্লাহ কুরআনে বলেন "আর যে আল্লাহকে ও তাঁর ফেরেশতাদেরকে ও তাঁর কিতাবসমূহকে ও তাঁররাসুলগণকে এবং শেষ দিবসকে অস্বীকার করবে, সে বহুদুরে পথভ্রষ্ঠতায় পথভ্রষ্ট হয়েছে"। আন-নিসা, ৪/১৩৬
যদি ইসলাম ও ইমান দু‘টি শব্দ একত্রে উল্লেখ করা হয় তবে ইসলাম শব্দের উদ্দেশ্য হলো: বাহ্যিক কার্যাদি তা হলো পাঁচটি রোকন আর ঈমান শব্দের উদ্দেশ্য গোপনীয় কার্যাদি তা হলো সাতটি রোকন। আর যখন ভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হবে তখন একটি অপরটির অর্থে ও বিধানে শামিল হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলাম হলো বাহ্যিক আর ইমান হলো অন্তরের বিষয়। (ইমাম আহমেদ থেকে বর্নিত)
ইমান ও আমল, এ দুয়ের সমন্বয়ই হচ্ছে ইসলাম। ইমান হল অন্তরের আমলের নাম। আর ইসলাম হল বাহ্যিক আমলের নাম। যে ইমান বা বিশ্বাস করে সে মুমিন। যে বাহ্যিক আমলগুলি করে সে মুসলিম। আমাদের উভয় আমল করতে হবে।
২। কপটতার নিদর্শন গুলো গুলো কী কী?
কপটতা মানে হলো ভণ্ডামি, দ্বিমুখী নীতি, প্রতারনা করা। ইসলামি পরিভাষায় একে বলা হয় "নিফাক" আর যে ব্যক্তি নিফাক করে তাকে বলা হয় মুনাফিক।
কপটতার নিদর্শন গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. যখন কথা বলে তখন মিথ্যা কথা বলে
২. ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে
৩. আমানত রাখলে তার খিয়ানত করে এবং
৪. ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।
৫. নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করে কিন্তু গোপনে ইসলামকে অস্বীকার করে।
৬. কপটতারকারী সামাজিক ও পার্থিব লাভের আশায় মত্ত থাকে।
৩। নবি-রাসুলের পার্থক্য বর্ণনা কর।
আল্লাহ্‌ তায়ালা মানজাতির হিদায়তের জন্য বহু নবি-রাসুল দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ
"আর প্রত্যেক জাতির জন্য পথপ্রদর্শক রয়েছে"। (সূরা আর-রা'দ ১৩ , আয়াত ৭)
কুরআন মাজিদে ২৫ জন নবি-রাসুলের নাম রয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নবি-রাসুলের সংখ্যা লক্ষাধিক।
নবি ও রাসুল অর্থের দিক থেকে দুইটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমনঃ
যাদের উপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তাদেরকে রাসুল বলা হয়। যাদের উপর আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়নি এবং পূর্ববর্তী রাসুলের উপর যে আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে সেই কিতাবের অনুসরণ করে মানুষদের হেদায়াত করেছেন তাদেরকে নবী বলা হয়। প্রত্যেক রাসুলই নবি ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক নবি রাসুল নন।
আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি ও রাসুল।
৪। হাশরের ময়দানে কয় ধরনের শাফায়াত কার্যকর হবে? ব্যাখ্যা কর।
সমাধানঃ কিয়ামতের পরের ধাপটি হল হাশর। সেদিন পৃথিবী সৃষ্টি থেকে শুরু করে ধ্বংস হওয়ার পর্যন্ত সমস্ত মানুষকে জমায়েত করা হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-
"সেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আসমান সমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে হাজির হবে"। (সুরা ইবরাহিম : ৪৮)।
হাশরের কার্যাবলী হবে সূক্ষ আর শাফায়াত হলো এরই একটি অংশ। হাশরের ময়দানে আল্লহার হুমুক ব্যতীত কেউ কথা বলার সাহস পাবে না। মূলত দুটি কারণে শাফায়াত করে হবে। যথা:
১. পাপীদের ক্ষমা করা বা পাপ মার্জনা করার জন্য।
২. পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও কল্যাণ লাভের জন্য।
আর শাফায়াত দুই ধরনের। যথা:
১. শাফায়াতে কুবরা: শাফায়াতে কুবরা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ শাফায়াত। শাফায়াতে কুবরা মূলত হিসাব কার্য শুরু করার শাফায়াত। কারণ হাশরের সময়টা এতো কষ্টদায়ক ভবে যে, সূর্যের প্রচন্ড তাপে কারও হাঁটু , কারো কোমড় কারো বা বুক পানিতে ডুবে যাবে তাদের শরীরের ঘামে। মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকবে তখন হযরত আদম (আ.), হযরত নূহ (আ.), হযরত মুসা (আ.) প্রভৃতি নবিদের নিকট উপস্থিত হয়ে শাফায়াতের অনুরোধ করবে। তারা সকলেই অপারগতা প্রকাশ করবে। এসময় সবাই মহানবী (স.) এর নিকট উপস্থিত হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সাজদাহ করবেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তার মর্যাদা বর্ণনা করবেন। তারপর তিনি তার রবের নিকট সুপারিশ করার অনুমতি চাইবেন। আল্লাহ তা‘আলা তাকে অনুমতি দিবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (স.) ( তাদের জন্য ) সুপারিশ করবেন।
মহানবী (স.) এর অনেক হাদিসে শাফায়াত করার কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, "আমাকে শাফায়াত (করার অধিকার) দেওয়া হয়েছে"। ( সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
২. শাফায়াতে সুগরা: কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফায়াত করা হবে। এটাই শাফায়াতে সুগরা। নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলিম, হাফেজ এ শাফায়াতের সুযোগ পাবে। কুরআন ও সিয়াম (রোজা) শাফায়াত করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে।
আমরা শাফায়াতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবো এবং রাসূলুল্লাহ (স.) এর দেখানো পথে চলবো ফলে পরকালে রাসূলুল্লাহ (স.) এর শাফায়াত যেন আমরা পাই সেই দোয়া বেশি বেশি করবো।
Share This

0 Response to "অষ্টম শ্রেণির (৮) দ্বিতীয় সপ্তাহের Assignment & Solution(বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা)"

Post a Comment

Popular posts